নির্বাচনে ভোটার ছিল না তবুও ব্যাপক কারচুপি
ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি ॥ নওগাঁয় হরতালের ডাক
Published : Sunday, 18 October, 2020 at 12:00 AM, Update: 17.10.2020 10:59:58 PM
দিনকাল রিপোর্ট
নির্বাচনে ভোটার ছিল না তবুও ব্যাপক কারচুপিঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি ছিল না তারপরেও কারচুপির অভিযোগ করেছেন কয়েকজন প্রার্থী। অধিকাংশ কেন্দ্রেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য। কেন্দ্রগুলিতে নৌকা প্রতীকের এজেন্ট ও নৌকা প্রার্থীর লোকজনের দেখা মিললেও এর বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীর লোকজনকে পাওয়া যায়নি। ফলে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অনেককেই অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে আনোয়ার হোসেন নামে এক বৃদ্ধ বলেন, এডা কেমন ভোট। ভোট কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়। আবার একজনের অঙ্গুল নিয়ে আরেক জনে টিপ দিয়ে দেয়। এরকম ভোটের দরকার নাই।
যদিও কর্মকর্তারা বলছেন ভোটারদের ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে ভোট দিতে পারছেন। অন্যদিকে কেন্দ্রগুলোর আইন-শৃঙ্খলা দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা বলছেন যাতে করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে সে কারণে তারা সচেষ্ট আছেন। কেউ যেন ভোটারদের ভোটদানে বাধা না দিতে পারে সেজন্য তারা সচেষ্ট আছেন। তবে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজে দেখা গেছে কেন্দ্রের ভেতরে, কেন্দ্রের মাঠের ভেতরে বহিরাগত লোকজন দাঁড়িয়ে আছেন। অনেক কেন্দ্রে প্রবেশমুখে নৌকা প্রতীকের লোকজনকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সরেজমিনে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, অনেকগুলো কেন্দ্রেই বহিরাগত লোকজনের আনাগোনা। সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বলছে আমরা চেষ্টা করছি বহিরাগতদের বের করে দেয়ার জন্য। কোনাপাড়া ডেমরা কোনাপাড়া হাইস্কুল এন্ড কলেজে যেখানে একটি কেন্দ্র যেখানে আমরা দেখেছি যে বহিরাগত লোকজন পুরো মাঠের মধ্যে ভরা। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ বলছেন আমরা চেষ্টা করছি যতটুকু পারা যায়। কেন্দ্রটিতে একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকলেও বহিরাগতদের বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। দায়িত্ব পালনে থাকা ওই ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যন্ত কথা বলার মতো কিছু নেই। তবে আমি বলে দিয়েছি তাদের মধ্যে কোনো বহিরাগত লোকজন কেন্দ্রের মধ্যে যেন না থাকে।’
এদিকে ভোটে অনিয়মের অভিযোগ এনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবির মাধ্যমে ভোটের ফলাফল বর্জন করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ। পাশাপাশি অনিয়মের প্রতিবাদে আজ রবিবার দুপুর দুটায় নির্বাচনী এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি এই নির্বাচনের প্রথম দিন থেকে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি। এমনকি আমি মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছি সেখানেও আমাকে বাধা দেয়া হয়েছে। আমার তো জন্মগত অধিকার এ এলাকার কোনো মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া এবং তাদের কাছে ভোট চাওয়া, দোয়া চাওয়া। কিন্তু সেটাও আমাকে করতে দেয়া হয়নি। আমরা যখনি গণসংযোগে গিয়েছি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছে এবং তখনই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেছে। আপনারা দেখেছেন দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের দুই নারী এজেন্ট বোনকে অপদস্ত করে বের করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আর কে মিশন চৌধুরী স্কুলে আমাদের আরেক নারী এজেন্টের উপর হামলা করে বের করে দেয়া হয়েছে। এমনকি তার গায়ে হাতও দেয়া হয়েছে। এসময় প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রতি অভিযোগ তুলে বিএনপির এ প্রার্থী বলেন, ‘প্রায় সব কেন্দ্রেই আমাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকেছে তাদেরও বের করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বারবার অবহিত করলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। তাই আমরা এ অনিয়মে জর্জরিত অবৈধ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছি এবং পুনঃনির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।
এসময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিন ও যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ভান্ডারীসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ৯৫ ভাগ কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ। গতকাল শনিবার সকাল পৌনে দশটায় যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন। সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে আজ পর্যন্ত কোনো নির্বাচন করতে পারেনি। তাই আজকের নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না বলেই আমি মনে করি। বেশিরভাগ কেন্দ্র থেকে আমাদের এজেন্টদেরকে বের করে দিয়েছে। এজন্য ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ কেন্দ্রে আমাদের এজেন্ট নেই। তিনি বলেন, এটি একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন। তারা যেভাবে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন এতে করে জনগণ তাদের ভোট দেবে না। তবুও আমি শেষ পর্যন্ত দেখবো এবং শেষ পর্যন্ত থাকবো। বিএনপি প্রার্থী জানান, ৫০ নং ওয়ার্ডের ৯ নম্বর কেন্দ্র যাত্রাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিএনপির এজেন্টরা গেলে তাদের স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে জোর করে বের করে দেয়া হয়।
সালাহউদ্দিন আরো বলেন, এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে রাখা হয়েছে যাতে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসতে ভয় পায়। নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্জন নয় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থেকে এখান থেকেই সরকার পতনের আন্দোলনের শুরু করা হবে।
এ নির্বাচন একটি নজির হয়ে থাকবে : মনু
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। নেতাকর্মীদের নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোট কক্ষে যান তিনি। ভোট দিয়ে বের হয়ে মনু বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ ভোট দিচ্ছে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। এ নির্বাচন একটি নজির হয়ে থাকবে। ফলাফল যাই হোক, সেটা মেনে নেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে মনিরুল ইসলাম মনু জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। এদিকে ভোট কেন্দ্রের সামনে টেবিল পেতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে ভোটার স্লিপ দেয়া হচ্ছে। তবে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে এমন তৎপরতা নেই। সকাল ঠিক নয়টায় এই কেন্দ্রে প্রবেশ করেন ৬৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুদ্দিন আহমেদ সেন্টু। ঢাকা-৫ আসনে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন-আওয়ামী লীগের মো. কাজী মনিরুল ইসলাম, বিএনপির সালাহ উদ্দিন আহমেদ, গণফ্রন্টের এইচ এম ইব্রাহিম ভূঁইয়া, জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আনছার রহমান শিকদার ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আরিফুর রহমান (সুমন মাস্টার)। গত ৬ মে হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে ঢাকা-৫ আসন শূন্য হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ড (ডেমরা ও মতিঝিল) নিয়ে ঢাকা-৫ আসন গঠিত। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, ঢাকা-৫ আসনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪টি ওয়ার্ডে মোট ১৮৭টি কেন্দ্রের ৮৬৪টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৭১ হাজার ১২৯ জন; এদের মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৪১ হাজার ৪৬৪ জন ও নারী দুই লাখ ২৯ হাজার ৬৬৫ জন।
ঢাকা-৫ উপনির্বাচন : কেন্দ্রের ভিতর চলছে আড্ডা, গল্পগুজব
করোনা ভাইরাসের মধ্যেই ঢাকা-৫ শূন্য আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯ টায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেয়া শুরু হয়। কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে করে দেখা গেছে, ভোটার উপস্থিতি ও ভোট প্রয়োগের হার একেবারেই কম। ভোট কক্ষের ভেতর পোলিং অফিসাররা গল্পগুজব করে অলস সময় পার করছেন। নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা কেন্দ্রের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। যাত্রাবাড়ি ধলপুর কমিউনিটি সেন্টার ও আউটফল তেলেগু কমিউনিটি সেন্টার এই দুটো কেন্দ্রঘুরে কোনো ভোটার উপস্থিতি দেখা মিলেনি।  আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের এজেন্ট ও কর্মী দেখা গেলেও বিএনপির কাউকে দেখা যায়নি।
যাত্রাবাড়ির আইডিয়াল হাই স্কুল এন্ড কলেজে দুপুর বারোটা পর্যন্ত গুটিকয়েক ভোটার লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং অফিসার হামিদুল ইসলাম বলেন, এখনো প্রত্যাশিত ভোটারদের লক্ষ্য করা যায়নি। হয়তো দুপুরের পর ভোটার বাড়বে। কেন্দ্রটির মহিলা বুথের প্রিজাইডিং অফিসার মোতাহার হোসেন বলেন, অল্পসংখ্যক ভোট পড়েছে। যেটাকে ভালো সংখ্যা ধরা যাবে না । এখানে ভোট দিতে আসা নারী ভোটার আয়শা আক্তার বলেন, ভোট দিতে তেমন একটা সমস্যা হয়নি। কিন্তু কেউ তো ভোট দিতে আসছে না। এমন জানলে তো আসতাম না। আগে যেমন ভোট একটা উৎসব ছিল সেটা নেই। এদিকে আরো কয়েকটি  কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, আঙুলের ছাপ না মেলায় অনেকে ভোট দিতে পারছেন না। এমন একজন নারী ভোটার জয়া আরা, প্রায় আধাঘন্টা ধরে চেষ্টা করেও তিনি আইডিয়াল কলেজের কেন্দ্রটিতে ভোট দিতে পারেননি।




ঢাকা-৫ উপনির্বাচন : সাড়ে ১২টা পর্যন্ত একটি বুথে শূন্য ভোট
ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) চলছে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল ৯টায় এই ভোট শুরু হয়। তবে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে নেই ভোটারের উপস্থিতি। বেলা সাড়ে ১২টার পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে কোনো ভোট পড়েনি। সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রের কোনো ভোটারের উপস্থিতি নেই। তবে কেন্দ্রগুলোর বাহিরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা যায়।










প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এ সরকার ও ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা