মুক্তি পেলেন খালেদা জিয়া
Published : Thursday, 26 March, 2020 at 12:00 AM, Update: 25.03.2020 10:13:12 PM
মুক্তি পেলেন খালেদা জিয়ারফিক মৃধা, দিনকাল
৭৭৫ দিন পর মুক্ত হয়ে বিএসএমএমইউ থেকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার নিজের সিলভার রঙের গাড়িতে নিজেই ড্রাইভ করে বড় বোন বেগম খালেদা জিয়াকে ফিরোজাতে নিয়ে আসেন। গতকাল বুধবার বিকাল সোয়া ৫টায় ফিরোজাতে তাঁকে বহন করা গাড়িটি প্রবেশ করে। বিএসএমএমইউ থেকে তাঁর গাড়িবহর রওনা হয় ৩টা ২০ মিনিটে। বিএসএমএমইউ থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর ভিড় ডিঙ্গিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে সামনে দিকে এগিয়ে নিতে নিরাপত্তাকর্মীদের চরম বেগ পেতে দেখা গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার পরনে ছিল পিংক কালারের শাড়ি এবং স্কার্ফ। মুখে ছিল সার্জিক্যাল মাস্ক। চোখে চকলেট কালারের সান গ্লাস ছিল। একই গাড়িতে পেছনের আসনে ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতিমা ছিলেন। অন্য একটি গাড়িতে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে কারাবন্দিত্বের সঙ্গী গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমও। বিকাল ৩টার দিকে কারা কর্তৃপরে কাছ থেকে অর্ডার পাওয়ার পর বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকের ৬ তলায় ৬২১ ও ৬২২নং কে পাহারাত কারারী প্রত্যাহার করে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হন।
বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সময় বিএসএমএমইউতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কুদ্দুস, ডা. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমিন, আমিনুল ইসলাম, ঢাকা সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন, তাবিথ আউয়াল, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান, কৃষক দলের সদস্য মেহেদী হাসান পলাশ, তাঁতী দলের যুগ্ম আহবায়ক ড. মনিরুজ্জামান মনিরসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফিরোজায় গাড়িটি পৌঁছার পর সেজ বোন সেলিমা ইসলাম, স্বামী রফিকুল ইসলাম, মরহুম সাইদ ইস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইস্কান্দার, জোবায়দা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান জামান বিন্দুসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে ফুলের স্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সেজ বোন ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর হাতে ভর করে তিনি গাড়ি থেকে নেমে হুইল চেয়ারে বসেন। ফিরোজায় বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি পৌঁছালে সেখানে নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে সেøাগান দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, ঢাকা সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন, তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
ফিরোজাতে বেগম খালেদা জিয়া প্রবেশের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ম্যাডাম অসুস্থ। তাঁর সাথে কথা বলে আমরা তাঁর চিকিৎসকদের সাথে আলাপ করব। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া তাঁকে বাসায় নিয়ে আসলাম। তাঁকে বাসা নিয়ে তাঁর সুস্থতার বিষয়ে চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদপে নেবো। সকাল ১১টার দিকে ফিরোজার প্রস্তুতি দেখতে আসেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে পুলিশের লাঠিচার্জ
অবশেষে ২ বছর এক মাস ১৭ দিন ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেন। এর আগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির খবরের পরপরই নেতাকর্মীরা শাহবাগ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। সকাল থেকেই বিএসএমএমইউ হাসপাতাল আশপাশে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ দুই বছর পর নেতাকর্মী নেত্রীকে এক নজর দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকেন। বিএসএমএমইউ থেকে বের হওয়ার পরপর সেখানে অবস্থান করা নেতাকর্মীরা ‘খালেদা’, ‘খালেদা’, ‘জিয়া, ‘জিয়া’ মুহুর্মুহু সেøাগান ধরেন। সেøাগানে সেøাগানে কম্পিত বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সামনের এলাকা। বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর গিয়ে শোডাউন করছে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। গাড়িবহরে নেতাকর্মীরা যুক্ত হয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশানের দিকে নিয়ে অগ্রসর হলে দফায় দফায় লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এলাকাসহ কয়েকটি জায়গায় নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে বাদ যায়নি গণমাধ্যম কর্মীরাও। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে সাধারণ মানুষেরও ঢল নেমেছে। শাহবাগ থেকে গুলশানের দিকে রাস্তার দুই ধারে অনেক সাধারণ মানুষ অবস্থান নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে শাহবাগ থেকে গুলশানের দিকে অবস্থান নিয়েছেন।
উল্লেখ্য ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী মিথ্যা ষড়যন্ত্র মামলায় সাজা দিয়ে তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ ২৫ মাস ১৬ দিন কারাভোগের পর গতকাল তিনি মুক্ত হন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হলেও তিনি সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। তিনি বঞ্চিত হন তাঁর হক জামিন থেকেও। এমনকি উচ্চ আদালতের এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও তাঁর বারবার না মঞ্জুর করা হয়। গত মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, সরকারি নির্বাহী আদেশে মানবিক ও বয়স বিবেচনা করে তাঁর দন্ড ৬ মাস স্থগিত হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। এরপর আইন মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল অনুমোদন হয়ে গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফাইল অনুমোদন পেয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদনের পর তিনি মুক্তি পান।
















প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বগুড়ায় বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছে যুবক। এগিয়ে আসেনি প্রতিবেশীরাও। করোনা চিকিৎসায় সরকারের পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা