হাসপাতাল ও বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে হাজার হাজার নেতাকর্মী
Published : Thursday, 26 March, 2020 at 12:00 AM, Update: 25.03.2020 10:13:46 PM
দিনকাল রিপোর্ট
মুক্ত হয়ে বিএসএমএমইউ থেকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল বুধবার বিকাল সোয়া ৫টায় ফিরোজাতে তাঁকে বহন করা গাড়িটি প্রবেশ করে। বিএসএমএমইউ থেকে তার গাড়িবহর রওনা হয় তিনটা ২০ মিনিটে। বিএসএমএমইউ থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর ভিড় ডিঙ্গিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে নিরাপত্তাকর্মীদের চরম বেগ পেতে দেখা গেছে। বিকাল তিনটার দিকে কারা কর্তৃপরে কাছ থেকে অর্ডার পাওয়ার পর বিএসএমএমইউ’র কেবিন ব্লকের ৬ তলায় ৬২১ ও ৬২২নং কে পাহারাত কারারী প্রত্যাহার করে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হন।
বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সময় বিএসএমএমইউতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কুদ্দুস, ডা. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমিন, আমিনুল ইসলাম, ঢাকা সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন, তাবিথ আউয়াল, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান, কৃষক দলের সদস্য মেহেদী হাসান পলাশ, তাঁতী দলের যুগ্ম আহবায়ক ড. মনিরুজ্জামান মনিরসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ফিরোজায় গাড়িটি পৌঁছার পর সেজ বোন সেলিমা ইসলাম, স্বামী রফিকুল ইসলাম, মরহুম সাইদ ইস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইস্কান্দার, জোবায়দা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান জামান বিন্দুসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে ফুলের স্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সেজ বোন ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর হাতে ভর করে তিনি গাড়ি থেকে নেমে হুইল চেয়ারে বসেন। ফিরোজায় বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি পৌঁছালে সেখানে নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, ঢাকা সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন, তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির খবরের পরপরই নেতাকর্মীরা শাহবাগ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। সকাল থেকেই বিএসএমএমইউ হাসপাতাল আশপাশে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ দুই বছর পর নেতাকর্মী নেত্রীকে একনজর দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকেন। বিএসএমএমইউ থেকে বের হওয়ার পরপর সেখানে অবস্থান করা নেতাকর্মীরা ‘খালেদা’, ‘খালেদা’, ‘জিয়া, ‘জিয়া’ মুহুর্মুহু স্লোগান ধরেন। স্লোগানে স্লোগানে কম্পিত বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সামনের এলাকা। বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর গিয়ে শোডাউন করছে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। গাড়িবহরে নেতাকর্মীরা যুক্ত হয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশানের দিকে নিয়ে অগ্রসর হলে দফায় দফায় লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এলাকাসহ কয়েকটি জায়গায় নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে বাদ যাননি গণমাধ্যম কর্মীরাও। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে সাধারণ মানুষেরও ঢল নেমেছে। শাহবাগ থেকে গুলশানের দিকে রাস্তার দুই ধারে অনেক সাধারণ মানুষ অবস্থান নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে শাহবাগ থেকে গুলশানের দিকে অবস্থান নিয়েছেন।




এর আগে গত মঙ্গলবারই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সাজা স্থগিতের আবেদনের ফাইল আসে  প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। সেই ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে কারা অধিদফতরে পৌঁছায়। পরে কারা অধিদফতরের মুক্তির প্রক্রিয়ার শেষ করে দুপুরের দিকে বিএসএমএমইউতে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির চিঠি নিয়ে যান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী। সব প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। এর আগে বেলা দেড়টায় সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া আর কিছুণের মধ্যেই ছাড়া পাবেন। মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ করেই ডাকা সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মুক্তির শর্ত হিসেবে বাসায় অবস্থান করতে হবে খালেদা জিয়াকে। চিকিৎসা নিতে হবে দেশেই। সাজা মওকুফকালীন ছয় মাস তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টÑ এই দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাভোগ করছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এর মধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গেল বছরের এপ্রিলে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে গত প্রায় ১১ মাস ধরে সেখানেই কারা নজরদারিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।










প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বগুড়ায় বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছে যুবক। এগিয়ে আসেনি প্রতিবেশীরাও। করোনা চিকিৎসায় সরকারের পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা