অফিস খোলার দিনে ৪০ জনের মৃত্যু
Published : Monday, 1 June, 2020 at 12:00 AM, Update: 31.05.2020 9:23:18 PM
অফিস খোলার দিনে ৪০ জনের মৃত্যুদিনকাল রিপোর্ট
৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির শেষে অফিস খোলার প্রথম দিনেই করোনা মহামারিতে রেকর্ড ৪০ জনের মৃত্যু খবর দিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৫৪৫ জন শনাক্ত হয়েছেন; যা করোনা রোগীর সংখ্যার হিসাবেও সর্বোচ্চ।
এ নিয়ে দেশে মোট কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হলেন ৪৭ হাজার ১৫৩ জন এবং মারা গেলেন ৬৫০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪০৬ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৭৮১ জন। রবিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ২২৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৮৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ২ হাজার ৫৪৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৩ জন ও নারী ৭ জন।
করোনা ভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে সীমিত আকারে গতকাল থেকে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস খুলেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও চালু হয়েছে পুরোদমে। এমনকি সীমিত পরিসরে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
ডা. নাসিমা সুলতানা আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪০৬ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৭৮১ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২০.৭৪ শতাংশ ও মৃত্যুর হার ১.৩৮ শতাংশ। তিনি জানান, বয়স বিশ্লেষণে ৩১-৪০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৫১-৬০ বছরের মধ্যে ৮ জন, ৬১-৭০ বছরের মধ্যে ১১ জন এবং ৭১-৮০ বছরের মধ্যে ৪ জন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ৮ জন, খুলনায় ২ জন, রাজশাহীতে একজন ও রংপুরে একজন মারা গেছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ২৬ জন ও বাসায় ২ জন মারা গেছেন।
প্রসঙ্গত গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হন ৮ মার্চ এবং এ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।
২৫ মার্চ প্রথমবারের মতো রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানায়, বাংলাদেশে সীমিত পরিসরে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিকভাবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে।
‘সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক পরা অত্যাবশ্যক’
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক পরার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘লকডাউন উঠে গেছে, এখন সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। সঠিকভাবে মাস্ক পরতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক এবং সচেতন থাকতে হবে।’
রবিবার (৩১ মে) বেলা আড়াইটায় কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে নাসিমা সুলতানা এসব কথা বলেন।




তিনি বলেন, ‘লকডাউন উঠে গেলেও স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে একটি গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। সবাইকে সেই গাইডলাইন দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ লকডাউন পরবর্তী ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে এই গাইডলাইন মেনে চলার নির্দেশ দেন তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। তামাক সেবন না করাই শ্রেয়। ধূমপায়ীরা করোনা আক্রান্ত হলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মৃত্যু ঝুঁকি অনেক বেশি।’ এ সময় তামাকজাত দ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানান অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25111 জন