বাস ভাড়া বৃদ্ধি মড়ার উপর খাড়ার ঘা : প্রত্যাহার দাবি বিএনপির
Published : Monday, 1 June, 2020 at 12:00 AM, Update: 31.05.2020 9:23:39 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনা ভাইরাস সংকটের মধ্যে গণপরিবহনে বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবকে সরকারের ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ নীতি আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
গতকাল রোববার দুপুরে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘এই সরকার যে জনগণের প্রতি বৈরী, তার প্রমাণ শতকরা ৮০ শতাংশ বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব। এই করোনা পরিস্থতিতে ধারণমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করা হবে এই জন্য বাস-মিনিবাসের ভাড়া ৮০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থাÑ বিআরটিএ। ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ নীতি আওয়ামী লীগের সরকারের প্রতিষ্ঠিত কর্মসূচি। জনগণকে জিম্মি করে রক্তচোষার নীতি এদের একমাত্র চালিকাশক্তি।’
‘আমি বিএনপির প থেকে প্রায় দ্বিগুণ বাসভাড়া বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় টানা দুই মাসের সরকারি ছুটি শেষে রোববার থেকে অফিস খোলার পাশাপাশি গণপরিবহনও চালুর অনুমতি দিয়েছে সরকার। গণপরিবহনে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন ও যাত্রীভাড়া ৮০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপÑ বিআরটিএ। এই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের পর আজ সোমবার থেকে বাস-মিনিবাস চালানোর ঘোষণা দিয়েছে মালিকরা।
রিজভী বলেন, ‘করোনার আঘাতে জনজীবন মহাবিপর্যয়ের মধ্যে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা এই সপ্তাহে বাঁধভাঙা পানির মতো জনজীবনকে গ্রাস করেছে। দিন আনে দিন খায় মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালকসহ নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এর ওপর বাসভাড়া বৃদ্ধি ওই নিরন্ন ও বিপন্ন মানুষের ওপর কশাঘাত।’
‘বাস চালুর আগেই বাসভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তেই প্রমাণিত হয় এই সরকার শোষণ ও গরিবকে মারার যন্ত্র।’
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী বলেছেন ত্রাণ নিতে আসার লোক পাওয়া যাচ্ছে না।’ তার এই বক্তব্য ফরাসি বিপ্লবের সময়ের ষোড়শ লুই-এর স্ত্রীর কথাই মনে পড়ে যায়Ñ ‘রুটি নাই তো কি হয়েছে, কেক খাবে।’
‘জনগণের ুধা, হাহাকার, কর্মহীন আমলে না নিয়ে সারাণ এই সরকার জনগণকে নিয়ে উপহাস করতেই ব্যস্ত।’
বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ছুটি প্রত্যাহার করা হয়েছেÑ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যে ‘গোটা জাতি বিস্মিত ও হতবাক’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেনÑ বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই নাকি ছুটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। আওয়ামী নেতার এই বক্তব্য শুনে গোটা জাতি বিস্মিত ও হতবাক। যে বিশেষজ্ঞগণ ‘মৃত্যু-বীজ’ ছড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা কোন বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞ সেটাই এখন অনুসন্ধানের বিষয়। এরকম বিশেষজ্ঞ ভারতের মতো দেশে পাওয়া গেল না কেন? সেখানে কেন ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন বলবৎ রাখা হয়েছে? বাংলাদেশে হঠাৎ সবকিছু খুলে দিয়ে আমরা এখন এক কঠিন সংকটের মুখোমুখি।
রিজভী বলেন, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ও আইএলও’র নির্দেশনা অমান্য এবং করোনা নিয়ে সরকার গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির মতামত সরাসরি অগ্রাহ্য করে সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে। গণবিরোধী সরকার কখনোই গণমুখী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, কারণ তার সব সময় চিন্তা-বিভ্রাটের মধ্যে থাকে। করোনা বিস্তারের প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যে লকডাউন শিথিলের পরিণতি বিভিন্ন দেশে বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। এটি হিতে বিপরীত হয়েছে। অন্যান্য দেশে করোনা কমে আসার পর লকডাউন শিথিল করা হয়েছিল, কিন্তু তাতে পরিণতি হয়েছে সর্বনাশা বিপর্যয়ের। সেখানে নতুন করে ধেয়ে এসেছে করোনা ভাইরাসের তান্ডব। বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ এবং চিকিৎসাব্যবস্থা সারা বিশে^র তুলনায় সর্বনিম্ন। ব্যাঙের প্রতি বাচ্চাদের ইট-পাটকেল নিেেপর খেলার মতো বাংলাদেশ সরকার মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু সংখ্যার মধ্যে গত সপ্তাহে ২৬ শতাংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যার মধ্যে গত সপ্তাহে ২৮ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর ওপর আজ থেকে সবকিছু খুলে দিয়ে সরকারের ইচ্ছা কি সারাদেশকে বধ্যভূমি বানানো?    




নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুরে ইন্টারনেটে এই ভার্চুয়াল ব্রিফিং হয়।







প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25113 জন