উপকূল এলাকায় আম্পানের আঘাত
নিম্নাঞ্চল প্লাবিত॥ মানুষের জানমাল রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী
Published : Thursday, 21 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 20.05.2020 10:06:43 PM
দিনকাল রিপোর্ট
উপকূল এলাকায় আম্পানের আঘাতঅতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে। এর তান্ডবের শিকার হচ্ছে উপকূলীয় জেলাগুলোর অধিবাসীরা। খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, ভোলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় আম্পানের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভোলা, পটুয়াখালী ও চট্টগ্রামে আম্পানের তান্ডবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছাপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি সুন্দরবন দিয়ে বাংলাদেশের স্থলভাগে প্রবেশ করে। অতিক্রমের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান বিকাল ৫টার দিকে উপকূলের বাংলাদেশ অংশে পৌঁছেছে। ভারতের সাগরদ্বীপের পাশ দিয়ে সুন্দরবন ঘেঁষে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের ভূভাগে উঠে আসছে। এর আগে বিকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আঘাত হানে আম্পান। এতে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, গাছাপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে তিনজন এবং উড়িায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। াবহাওয়া অধিদফতর জানায়, যতই এই ঝড় উপকূল থেকে উপরের দিকে এগিয়ে যাবে ততই শক্তি কমে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ রাশেদুজ্জামান জানান, সন্ধ্যায় উপকূলে আঘাত হানবে আম্পান। এটি এখন উপকূলের একেবারে কাছে চলে এসেছে। ভারতের সাগরদ্বীপের একেবারেই কাছে এখন আম্পানের চোখ। ফলে বলা যায় সেখান দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে আম্পান। এ কারণে বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলে এখন আম্পানের ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে ঝড়টি দুই দেশের উপকূল অতিক্রম করবে।
সাগরদ্বীপ হল বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপ। এটি কলকাতা থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। দ্বীপটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার শাসিত। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়জনিত জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতায় বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে থেকে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতায় বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
জেলেদের জন্য সতর্কতায় বলা হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।




এদিকে ভারতের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়, গতি বাড়িয়ে বাংলার আরও কাছে চলে এসেছে ‘অতি মারাত্মক’ ঘূর্ণিঝড় আম্পান। বেলা ১টায় আম্পানের অবস্থান ছিল দিঘা থেকে ৯৫ কিলোমিটার দূরে। সে সময় সাগরদ্বীপ থেকে ৯০ কিমি এবং পারাদ্বীপ থেকে ১৫০ কিমি দূরে ছিল এই ঘূর্ণিঝড়।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানায়, ‘সুপার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ থেকে আম্পান এখন ‘এক্সট্রিমলি সিভিয়র সাইক্লোনিক স্টর্ম’-এ পরিণত হয়েছে। কিছুটা শক্তি হারালেও এখন ‘অতি মারাত্মক’ চেহারা নিয়েই দিঘা থেকে বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মধ্যবর্তী কোনও অঞ্চলে আজ সন্ধ্যার মধ্যে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, সাগরদ্বীপ হয়ে সুন্দরবনে আছড়ে পড়তে পারে আম্পান।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25046 জন