করোনার মধ্যেও সড়ক-মহাসড়কে যানজট : নৌরুটেও মানুষের ঢল
Published : Tuesday, 19 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 18.05.2020 9:45:57 PM
দিনকাল রিপোর্ট
করোনার মধ্যেও সড়ক-মহাসড়কে যানজট : নৌরুটেও মানুষের ঢলকরোনার মহামারিতেও রাজধানীর সড়ক এবং দেশের মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের ছুটিতে রাজধানী ছেড়ে কেউ যাতে বাইরে যেতে না পারে সে জন্য সড়কগুলোতে কড়া নজরদারির মধ্যেও মানুষ রাজধানী ছাড়তে ফেরি ঘাটে মানুষের ঢল দেখা গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০ কিমি যানজট। কুমিল্লায় মহাসড়কে ৭ কিলোমিটার যানজট। মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে মানুষের ঢল। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরিচলাচল বন্ধ।
রাজধানীর সড়কে যানজট : রাজধানীর সড়ক পুরনো চেহারায় ফিরেছে। সোমবার (১৮ মে) নগরের বিভিন্ন সড়কে যানজট দেখা গেছে। সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছাড়াও রিকশাসহ অন্য যানবাহন চলাচল করছে। আর এতে তৈরি হচ্ছে যানজট। ফলে ভোগান্তি বাড়ছে নগরবাসীর। করোনাকালে শুধু বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন তথা যাত্রীবাহী বাস। বিধিনিষেধ শিথিল থাকায় সবধরনের যানবাহন চলছে সড়কে। ফলে করোনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
পুলিশ বলছে, সড়কে আগের মতোই ব্যস্ততা বেড়েছে তাদের। ইফতারের আগে গাড়ির চাপ আরও বেশি থাকে।
সোমবার (১৮ মে) দেশে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তারপরও যান ও মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মোটরসাইকেলে করেও মানুষ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছেন। এতে সংক্রমণের হার বেড়েই চলেছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর বিজয় সরণি, তেজগাঁও ও লিংক রোডে ব্যাপক যানজট ছিল। আগের মতো যানজট বাড়ায় নগরবাসীরও দুর্ভোগ বাড়ছে। একই অবস্থা ছিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, মতিঝিল, মগবাজার, রামপুরা, বাড্ডা, কাওরানবাজার, ধানমন্ডি ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকার। আগের মতোই এ নগরে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউতে চলছে হাজার হাজার ব্যক্তিগত গাড়ি। ব্যস্ততম এ এলাকা আগের চেহারায় ফিরেছে। এছাড়া মিরপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গণপরিবহন ছাড়া সড়কে স্বাভাবিক দিনের মতোই চলছে যানবাহন। প্রতিটি সিগন্যালে ১০-১৫ মিনিট অপো করতে হচ্ছে। পুলিশও আগের মতো ব্যস্ত গাড়ি সামলাতে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে নাগরিকদের।
ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিপণিবিতান খোলায় আগের মতো যানবাহন চলাচল বেড়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। যদিও বসুন্ধরা শপিংমলসহ রাজধানীর বড় শপিংমলগুলো বন্ধ রয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের সদস্য সাইফুল বলেন, আগের চেয়েও বেশি আমাদের ব্যস্ততা বেড়েছে। সড়ক ফ্রি মনে করে সবাই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছেন। এতে গাড়ির চাপ বেড়েছে।
গাড়ি চালক খোকন বলেন, আমাদের প্রতিদিনই বের হতে হয়। আগের মতোই এখন যানজট পাই।
কুমিল্লায় মহাসড়কে ৭ কিলোমিটার যানজট : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে গৌরিপুর পর্যন্ত অন্তত সাত কিলোমিটার সড়কে থেমে থেমে যানজটের লেগে আছে।
সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটে আটকা পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পণ?্যবাহী গাড়ির চালক ও প্রাইভেট গাড়ির যাত্রীদের।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মহাসড়কে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করছে হাইওয়ে পুলিশ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে নির্দেশনা অনুযায়ী আস সোমবার থেকে আরও কঠোর অবস্থানে পুলিশ।
সড়কে পণ?্যবাহী গাড়ির বাড়তি চাপ থাকায় কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে গাড়ি থেকে থেমে চলছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অ?্যাম্বুলেন্স কিংবা জরুরী পণ?্যবাহী গাড়ি ছাড়া কোনো গাড়ি ঢাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না এবং এক জেলা থেকেও অন্য কোনো জেলায় গাড়ি যেতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
শিমুলিয়া ঘাটে ঘরমুখী মানুষের ঢল : ঈদের ছুটি কাটাতে ঢাকা ত্যাগ করে পদ্মা পাড়ি দিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন দণিাঞ্চলের ২৩ জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর ফলে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ঘরে ফেরা যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। আজ সোমবার সকাল থেকে ঘাট এলাকায় ঘরে ফেরা মানুষের চাপ রয়েছে চোখে পড়ার মতো।
শিমুলিয়া ঘাটের মাওয়া ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, ঘাটে যানবাহনের পাশাপাশি যাত্রীদের চাপ অত্যধিক। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ঢাকা থেকে দণিাঞ্চলে যাত্রীরা পায়ে হেঁটে, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা করে ঘাট এলাকায় আসছে। এমনকি রাতে যাত্রীরা ট্রাকে করে ঘাট এলাকায় এসে অবস্থান করছে, যাতে সকাল সকাল পদ্মা পাড়ি দিতে পারেন।
তিনি আরও জানান, করোনা পরিস্থিতি উপো করে কয়েকদিন আগে যেমন কর্মস্থানে যাওয়ার জন্য দণিাঞ্চলে যাত্রীদের চাপ ছিল ঘাটে। তেমনি আজও সকল বাধা উপো করে বাড়ি ফিরছে মানুষ।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপরে (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের ম্যানেজার ম্যারিনা আহামদ আলী জানান, কর্তৃপ চারটি ফেরি চলাচলের নির্দেশ প্রদান করেছে। এসব ফেরি দিয়েই যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এখন যে রকম চাপ রয়েছে, তা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে যাবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০ কিমি যানজট : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশে ঢাকমুখী লেনে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত মালবাহী ট্রাক লরির দীর্ঘ যানজট দেখা যায় এ মহাসড়কে।
চেকপোস্টের কারণে এ যানজট হয় বলে দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ জানায়। দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট আলমগীর হোসন জানান, যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় রাতে পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। আর রাজধানীতে প্রবেশের চেকপোস্টে যাত্রীবাহী প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস চালক যাত্রীরা বিভিন্ন সমস্যার কথাবার্তা বলে দীর্ঘসময় পেণ করায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরিচলাচল বন্ধ : করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে ঈদে বাড়ি ফিরছেন দেশের দণি পশ্চিমাঞ্চলের হাজারো মানুষ। ফলে পাটুরিয়া ঘাটে বেড়েছে ব্যক্তিগত ছোট গাড়ির চাপ। ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ুদে যানবাহন ও যাত্রীদের চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ঘাট এলাকা। এতে করোনার সংক্রমন ঝুঁকি কমাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরিচলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিইটসি) কর্তৃপ। জেলা প্রশাসনের অনুরোধে সোমবার দুপুরের দিকে ফেরিচলাচল বন্ধ করে দেয় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপ।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, ফেরিচলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর উভয় ঘাটে থাকা ফেরিগুলোকে মাঝনদীতে রাখা হয়েছে। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সিদ্ধান্ত হলে, ফেরিগুলোকে আবার ঘাটে আনা হবে।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তা যাত্রীসাধারণকে কোনভাবেই মানানো যাচ্ছিল না। পরে বাধ্য হয়ে, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জের গোলড়া এলাকায় চেকপোস্ট বসান তারা। জরুরি পণ্যবহনকারী গাড়ী ছাড়া সবধরণের গণপরিবহন সেখানে আটকে দেয়া হয় এবং সেগুলোকে ফেরত পাঠানো হয়।
কিন্তু এত চেষ্টার পরেও মানুষ বিকল্প পথে পাটুরিায়া অভিমুখে বিভিন্ন গাড়িতে যাচ্ছিল। এতে করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিআইডব্লিউটিসিকে ফেরিচলাচল বন্ধ রাখতে অনুরোধ করা হয়।
পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে, ফেরিচলাচল সীমিতভাবে চালু করা হবে যাতে পচনশীল ও জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করা যায়। এদিকে সকাল থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ব্যতীত অন্য সকল যান পারাপার বন্ধ রাখায় আটকা পরা ুব্ধ যাত্রীরা ফেরি ঘাটের ৫ নম্বর কাউন্টার ভাংচুর করেছে প্রাইভেটকার চালক ও যাত্রীরা।




সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দুই শতাধিক প্রাইভেটকার ও তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক নৌরুট পারাপারের অপোয় রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ছোট বড় ১৫টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের জন্য ৫/৭টি ফেরি চলাচল করছে। সকালে প্রাইভেটকার ও যাত্রী পারাপার বন্ধ করে দিলে চালক ও যাত্রীরা মিলে ঘাট এলাকার ৫ নম্বর কাউন্টারে ভাংচুর চালায়।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25057 জন