নাজাতের দশ দিন
মাওলানা এম.এ. করিম ইবনে মছব্বির
Published : Monday, 18 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 17.05.2020 9:51:05 PM
আজ ২৪ রমজানুল মোবারক ১৪৪১ হিজরী। হজরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি শবেকদর সন্ধান লাভের জন্য বেজোড় সংখ্যাগুলোর ওপর চিন্তা করে বুঝতে পারলাম, আসমান সাতটি, জমিন সাতটি, সাগর সাতটি, সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাত চক্কর সায়ী করা হয়, কাবা শরীফের তওয়াফও করা হয় সাতবার, কংকর নিক্ষেপও করা হয় সাতটি, সাতটি অঙ্গ দ্বারা মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষের রিজিকও হচ্ছে সাত প্রকার শস্যদানা, মানুষের মুখমন্ডলেও সাতটি ছিদ্র। কোরআন শরীফের কিরাআতও সাতটি, দোজখের স্তরও সাতটি, আসহাবে কাহাফ ছিলেন সাতজন, আদ জাতি সাত রাত তীব্র ঝড়ে ধ্বংস হয়েছিল, হজরত ইউসুফ (আঃ) সাত বছর জেলে ছিলেন, সূরা ইউসুফের মধ্যে উল্লেখকৃত গাভীর সংখ্যা ছিল সাতটি, দুর্ভিক্ষ ছিল সাত বছর আবার সচ্ছলতাও ছিল সাত বছর, পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের রাকাত সংখ্যা ১৭টি। আলাতায়লা বলেছেন, হজের পরে রোজা রাখতে হবে সাতটি। বংশীয় দিক থেকে সাত শ্রেণীর মহিলাকে বিয়ে করা হারাম। তদ্রƒপ শ্বশুর গোষ্ঠীর সাত শ্রেণীর মহিলাকেও বিয়ে করা হারাম। মহানবী (সাঃ) এরশাদ করেছেন, কুকুর পাত্রে মুখ দিলে সাতবার ধৌত করতে হবে। যার প্রথমবার হবে মাটি দিয়ে, অতঃপর পানি দ্বারা। সূরা কদরের মধ্যে আলাহর বাণী ‘সালামুন’ পর্যন্ত অক্ষর সংখ্যা হচ্ছে ২৭টি। হজরত আইয়ুব (আঃ) বিপদে পতিত ছিলেন সাত বছর। হজরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসুলুলাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওসালাম যখন আমাকে বিবাহ করেছিলেন, তখন আমার বয়স ছিল সাত বছর। অতীত গরমের দিন হচ্ছে সাতটি। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, আমার উম্মতের শহীদের শ্রেণীবিভাগ হচ্ছে সাতটি-১. যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে মৃত্যুবরণ করবে। ২. যে মহামারীতে মারা যাবে। ৩. যে অবশ হয়ে মারা যাবে। ৪. যে পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করবে। ৫. যে আগুন জ্বলে মৃত্যুবরণ করবে, ৬. যে পেটের পীড়ায় বা ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে এবং ৭. যে নারী নিফাস তথা সন্তান জন্মদানের সময় মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহতায়ালা কসম বা শপথও করেছেন সাতটি বস্তুর দ্বারা। যথা-১. চন্দ্র, ২. সূর্য, ৩. দিন, ৪. মধ্যাহ্নের সময়, ৫. রাত ৬. আসমান ও ৭. জমিনের দ্বারা। হজরত মূসা (আঃ) ছিলেন সাত গজ লম্বা এবং তার লাঠিও ছিল সাত গজ দীর্ঘ।
অতঃপর হজরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ সংখ্যা তত্ত্বের দ্বারা এটাই অনুমিত হয় যে, অধিকাংশ বস্তুই আল্লাহতায়ালা সাতের হিসাব মোতাবেক সৃষ্টি করেছেন। তাই শবেকদর যদি রমজান মোবারকের শেষ ১০ রাতের মধ্যে হয়, তাহলে বর্ণিত বিবরণ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, শবেকদর ২৭ তারিখের রাতেই হবে। পবিত্র কোরআন শরীফের সূরা কদরের আয়াত-সালামুন হিয়া-এর পরবর্তী ‘হিয়া’ শব্দটি সাতাশ অক্ষরের পরে এসেছে। এর দ্বারা বোঝা যায় যে, শবেকদর রমজান মাসের ২৭ তারিখের রাতে হয়ে থাকে।
[গুনিয়াতুত তালেবিন, পৃষ্ঠা-৩৭৮]
শবেকদরের ব্যাপারেও ইমাম আবু হানিফা থেকে একটি তাত্ত্বিক বিষয় বর্ণিত হয়েছে যে, সূরা কদরের মধ্যে আল্লাহতায়ালা এ রাতকে “লাইলাতুল কদর” বলেছেন। যার মধ্যে হরফ সংখ্যা ৯টি এবং শব্দ দুটি, আল্লাহতায়ালা এই সূরায় মোট তিনবার উল্লেখ করেছেন। তাই মোট হরফের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯´৩=২৭। এর জন্য ২৭ তারিখের রাতেই লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25092 জন