একদিনে করোনায় রেকর্ড আক্রান্ত
Published : Saturday, 16 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 15.05.2020 8:50:51 PM
একদিনে করোনায় রেকর্ড আক্রান্তদিনকাল রিপোর্ট
দেশে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে এক হাজার ২০২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত এটাই ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হলেন ২০ হাজার ৬৫ জন। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন আরও ১৫ জন। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৯৮ জনে। গত ২৪ ঘন্টায় মোট সুস্থ হয়েছেন ২৭৯ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত সুস্থ হলেন তিন হাজার ৮৮২ জন।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
তিনি ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ৪১টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীার তথ্য তুলে ধরে জানান, গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাস শনাক্তে আরও নয় হাজার ৫৩৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীা করা হয় আট হাজার ৫৮২টি নমুনা। এটি একদিনে সর্বোচ্চ নমুনা পরীার রেকর্ড। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীা করা হলো এক লাখ ৬০ হাজার ৫১২টি। নতুন নমুনা পরীায় আরও এক হাজার ২০২ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৬৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১৫ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাড়াল ২৯৮-এ। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২৭৯ জন। আগের ২৪ ঘন্টায়ও সুস্থ রোগী ছিলেন, যা গতকালের (১৪ মে) বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়নি। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ  হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিন হাজার ৮৮২ জন।
নতুন করে যারা মারা গেছেন তাদের সাতজন পুরুষ ও আটজন নারী। বয়সের দিক থেকে একজন অনূর্ধ্ব ৩০ বছরের, একজন ত্রিশোর্ধ্ব, আটজন পঞ্চাশোর্ধ্ব, তিনজন ষাটোর্ধ্ব এবং দুজন ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সী।
গত বৃহস্পতিবারের (১৪ মে) বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাত হাজার ৩৯২টি নমুনা আরও এক হাজার ৪১ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘন্টার তুলনায় গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ও শনাক্ত রোগীÑ উভয়ই বেড়েছে। এমনকি শনাক্তের দিক থেকে গত ২৪ ঘন্টায় হয়েছে সর্বোচ্চ রেকর্ডই হয়েছে। এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয় এক হাজার ১৬২ জন, যা জানানো হয় গত ১৩ মের বুলেটিনে। আর সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ১৯ জনের, ওই তথ্যও জানানো হয় সেদিন।
গতকাল শুক্রবারের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ২৫৯ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন দুই হাজার ৭৪৮ জন। গত ২৪ ঘন্ট০য় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৮১ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ৪৭৯ জন।
সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে আট হাজার ৯৩৪টি। আইসিইউ শয্যা আছে ৩২৯টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০২টি। আইসিইউ শয্যা ও ডায়ালাইসিস ইউনিট বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। গত ২৪ ঘন্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ৭৯৭ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই লাখ ৩৩ হাজার ৪৭০ জনকে। গত ২৪ ঘন্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ছয় জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন এক লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৫ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৪৬ হাজার ৮০৫ জন।
দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬১৭টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ১৬৫ জনকে।
ডা. নাসিমা করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান বুলেটিনে।
গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হলেও এখন করোনা ভাইরাসের কবলে গোটা বিশ্বই। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত সোয়া ৪৫ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন লাখ। তবে ১৭ লাখের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।
বুলেটিনের শুরুতেই জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ একজন বাতিঘরকে হারালো।
প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। শুরুর দিকে রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও এখন সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। ভাইরাসটি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। চীনের পর ইরান, কোরিয়াসহ বেশকিছু দেশে সংক্রমণ ছড়ালেও সবচেয়ে বেশি করোনা আঘাত হানে ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের দেশগুলোতে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন (প্রতিবেদন লেখার সময়) ৩ লাখ ৩ হাজার ৫৮৬ জন মানুষ। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ২৪৪ জন। অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ১৭ লাখ ১১ হাজার ৫৩৯ জন।
আরও ১৯৮ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত : চট্টগ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও ১৯৮ পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সব মিলে পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৪১ জনে। এ সংখ্যা ঢাকাসহ সারাদেশের পুলিশ ইউনিটের ১৫ মে সকাল পর্যন্ত। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্যই ১০৪১ জন। বুধবার এ সংখ্যা ছিল ৯০৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যই বেশি।




ডিএমপি জানায়, করোনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও তাদের দুইজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন। সারাদেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা গেছে, পুলিশে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশনে রয়েছেন ১১৫২ জন ও আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তিন হাজার ৯১ জনকে। এ পর্যন্ত ৩৩৩ পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মারা গেছেন সাতজন।
এদিকে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাইমুল হক (৩৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে।  গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রব। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক পুলিশ সদস্য গতকাল শুক্রবার দুপুরে মারা গেছেন।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25073 জন