রোহিঙ্গা শিবিরে ২ করোনা রোগী শনাক্ত : আইসোলেশনে ১৯০০
Published : Saturday, 16 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 15.05.2020 8:52:13 PM
রোহিঙ্গা শিবিরে ২ করোনা রোগী শনাক্ত : আইসোলেশনে ১৯০০বিবিসি
বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ শরণার্থী শিবির কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন দু’জন। সরকারি একজন ডাক্তার বলেছেন, এটাই কক্সবাজারে প্রথম করোনা সংক্রমণ। আক্রান্ত ব্যক্তিদের এখন আইসোলেশনে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আরো প্রায় ১৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে পরীক্ষা করার জন্য আইসোলেট করে রাখা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। তবে বার্তা সংস্থা এপি বলছে, আক্রান্ত দুজনের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী। অন্যজন স্থানীয়। তার বাস শরণার্থী শিবিরের কাছে।
বৃহস্পতিবার এ কথা বলেছেন বাংলাদেশের শরণার্থী বিষয়ক কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সির মুখপাত্র লুইস ডনোভান এপিকে বলেছেন, রোগীদের চিকিৎসা দেয়া শুরু করেছে তাদের টিম। একই সঙ্গে শনাক্তকরণ কাজ চলছে। কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সেখানে তারা গাদাগাদি, ঠাসাঠাসি করে অবস্থান করেন। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সেখানে করোনা সংক্রমণ হলে তা হয়ে উঠতে পারে ভয়াবহ। এই আশ্রয় শিবির ১৪ই মার্চ থেকে লকডাউনের অধীনে রয়েছে। এখানকার ভয়াবহতা সম্পর্কে কয়েক সপ্তাহ ধরে সতর্কতা দিয়েছে এইড এজেন্সিগুলো। সেভ দ্য চিলড্রেনের বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিচালক ডা. শামীম জাহান বলেছেন, এখন কক্সবাজারে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ শরণার্থী শিবিরে প্রবেশ করেছে এই ভাইরাস। এর ফলে কয়েক হাজার মানুষ কোভিড-১৯ এ মারা যেতে পারেন। তাছাড়া এই মহামারি বাংলাদেশকে কয়েক দশক পিছনে নিয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্টারন্যাশনাল রেসক্যু কমিটির কান্ট্রি ডিরেক্টর মানিশ আগরওয়াল বলছেন, প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাস করেন ৪০,০০০ থেকে ৭০,০০০ রোহিঙ্গা। এই সংখ্যা ডায়মন্ড প্রিন্সেস প্রমোদতরীতে আরোহীদের ঘনত্বের কমপক্ষে ১.৬ গুন। চীনের উহানে করোনা সংক্রমণ একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে যে অবস্থায় ছিল, তার চেয়ে চারগুন বেশি গতিতে ওই প্রমোদতরীতে সংক্রমণ ছড়ায়। জাপানে নোঙর করা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসকে উদ্ধৃত করে তিনি এ কথা বলেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে। এর মধ্য দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন, জনসংখ্যার ঘনত্ব যেখানে বেশি সেখানে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কয়েকগুন বেশি। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই ইতিমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংস নির্যাতন থেকে প্রাণ বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। শেষ দফা এভাবে দলে দলে রোহিঙ্গাদের আগমন ঘটে ২০১৭ সালের আগস্টে। ওই সময় বর্বর হামলা চালানো হয় তাদের বিরুদ্ধে। ওদিকে গ্রিসেও আছে শরণার্থীদের বিশাল আশ্রয়শিবির। সেখানকার কর্মকর্তারা আশা করছেন করোনা মহামারি শিথিল করার সময়ে এসব ক্যাম্পে থাকা প্রায় ১৬০০ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিকে অন্য কোনো দেশে স্থানান্তর করা হবে। এ সপ্তাহে গ্রিসের লেসবস দ্বীপে পৌঁছেছেন দু’জন অভিবাসী। পরীক্ষা করে তাদের দেহে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে। তাদেরকে আইসোলেট করে রাখা হয়েছে। তবে তারা কোন দেশের অভিবাসী তা জানা যায়নি।







প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25070 জন