করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছেই
Published : Thursday, 14 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 13.05.2020 8:51:10 PM
করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছেইআবদুল্লাহ জেয়াদ, দিনকাল
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায়  দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে আরো ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ১৬২ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৬৯  জনের। আর সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৮২২ জন। গত দুই মাসে সংক্রমণের শুরু থেকে একদিনে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যায় এটাই রেকর্ড। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন প্রকাশে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে দেশে আরো ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ১২ জন এবং সাতজন নারী। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে একটি মেয়ে শিশুও রয়েছে। অন্যদের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে পাঁচজন এবং ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচজন।
১৯ জনের মধ্যে ঢাকা শহরের কয়েকটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩ জন। এদের মধ্যে ১২ জনই ঢাকার। বাকি একজন পাবনার। নারায়ণগঞ্জে একজন, মুন্সিগঞ্জে একজন, খুলনা বিভাগের নড়াইলের একজন, চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রামের দুইজন এবং কুমিল্লার একজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬৯ জন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২১৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৩৬১ জন।
ডা. নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে সাত হাজার ৮৬২টি। আর পূর্বের নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে সাত হাজার ৯০০টি। এর মধ্যে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এক হাজার ১৬২ জনকে। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৮২২ জন।
জানানো হয়, করোনা সন্দেহে নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে তিনটি ল্যাব। ঢাকায় বেড়েছে দুইটি এবং ঢাকার বাইরে একটি। ঢাকার দুটি হলো ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও প্রাভা হেলথ। আর ঢাকার বাইরে যেটি যুক্ত হয়েছে সেটি হলো শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ জামালপুর। ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরো ১৫০ জনকে। একইসময় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৬ জন। বর্তমানে আইসোলেনশনে আছেন তিন হাজার ৪৩৫ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন এক হাজার ৩৩২  জন।
ডা. নাসিমা আরো জানান, সারা দেশে আইসোলেশন শয্যা সংখ্যা আট হাজার ৬৩৪টি। ঢাকা মহানগরীতে দুই হাজার ৯০০টি এবং ঢাকা সিটির বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে আছে পাঁচ হাজার ৭৩৪টি। এ ছাড়া ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০০টি ও ময়মনসিংহ নার্সিং ডরমিটরিতে আরো ২০০টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুতির কাজ চলছে। এর বাইরেও রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে একটি হাসপাতাল এবং মহাখালীর ডিসিসি মার্কেটে আরেকটি হাসপাতাল প্রস্তুতির কাজ চলছে।
কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গেও তথ্য দেয়া হয় বুলেটিনে। বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এসেছেন দুই হাজার ৫৫৮ জন। একই সময় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৬৬২ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট দুই লাখ ২৭ হাজার ৬৪২ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন এক লাখ ৮২ হাজার ৩৬১ জন। ছাড়ের পর বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৫ হাজার ২২১ জন।
সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরো দুটি বেড়েছে। বর্তমানে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৭টিতে। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩১ হাজার ১৬৫ জনকে সেবা প্রদান যাবে বলে জানানো হয় বুলেটিনে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের বেশ কয়েকদিন পর ১৮ মার্চ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে প্রথম রোগীর মৃত্যু হয়। এরপর করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কিছুটা কমে। কিন্তু চলতি মাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। গত ৭ মে থেকে ১২ মে পর্যন্ত মাত্র ৬ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৭২ জনের, অর্থাৎ এ সময় গড়ে প্রতিদিন ১২ জনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর তালিকায় শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ কেউ বাদ পড়েনি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে। তারা বারবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে সামনের দিনগুলোতে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাদের নির্দেশনা মানছে না কেউ। প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। শুরুর দিকে রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও এখন সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। ভাইরাসটি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। চীনের পর ইরান, কোরিয়াসহ বেশকিছু দেশে সংক্রমণ ছড়ালেও সবচেয়ে বেশি করোনা আঘাত হানে ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের দেশগুলোতে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় মারা গেছেন ২ লাখ ৯৩ হাজার ৮৮ জন মানুষ। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার ২০০ জন । অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ১৬ লাখ ১০ হাজার ৪২১ জন।













 





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25077 জন