মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪১৪ জন দেশে ফিরেছেন
Published : Thursday, 14 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 13.05.2020 8:52:25 PM
দিনকাল রিপোর্ট
করোনা ভাইরাসের কারণে মালয়েশিয়ায় আটকে পড়া ১৫৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মালিন্দো এয়ারের চার্টার্ড ফাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারা। তথ্য নিশ্চিত করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরা সবাই নন-কোভিডের স্বাস্থ্য সনদ নিয়ে ফিরেছেন। তাই তাদের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে (নিজ নিজ বাসায়) পাঠানো হয়েছে। এর আগে তাদের বহনকৃত বিমানটি বুধবার স্থানীয় সময় ১০টায় এবং বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয়। জানা যায়, চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা, ব্যবসায়িক কাজে গিয়ে করোনা লকডাউনে এসব বাংলাদেশি মালয়শিয়ায় আটকা পড়েন। সেখানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে তারাই প্রথম, যাদের দেশে পাঠানো হলো। বাংলাদেশ হাই কমিশনের সহায়তায় তাদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করেন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি স্থপতি আলমগীর জলিল। কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বার্তায় জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক এমসিও (মুভমেন্ট কনট্রোল অর্ডার) জারির পরিপ্রেক্ষিতে যে সব বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় আটকা পড়েছেন তাদের প্রথম ব্যাচের (ইতিমধ্যেই যাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে) দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য মালিন্দো এয়ারের চার্টার্ড ফাইটের এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ চার্টার্ড ফাইট পরিচালনায় বাংলাদেশের সাথে সমন্বয় (সিএএবি অনুমোদন), মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদন, প্রত্যেক যাত্রীর পক্ষে দূতাবাসের সনদ ইস্যু এবং যাতায়াতের পুলিশ কিয়ারেন্সসহ যাবতীয় কার্যক্রম হাইকমিশন সম্পন্ন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরছেন ২৬০ বাংলাদেশি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটকে পড়া ২৬০ বাংলাদেশি ঢাকায় ফিরছেন ১৫ মে। করোনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক রুটে ফাইট বন্ধ হওয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে আটকে পড়ার সংবাদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন এই পন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছিলেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং নিউইয়র্ক কনস্যুলেটকে।  সে অনুযায়ী তালিকা করার সময় জানা গেছে যে, অনেকেই ইতিমধ্যে বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে ডিসকাউন্ট মূল্যে হোটেল অথবা ছাত্রছাত্রীরা তাদের এদেশীয় সহপাঠিদের বাসায় উঠেছেন। তবে ব্যবসায়ী, আমলা এবং অন্য পেশার লোকজনের দেশে ফেরা খুবই জরুরী হওয়ায় তারাই বিশেষ এ বিমানে ভ্রমণে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। 
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দুর্দশার কাহিনী গণমাধ্যমে এনেছিলেন সর্বপ্রথম ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এটর্নী মঈন চৌধুরী।  রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির সন্নিকটে ডুলেস এয়ারপোর্ট থেকে ১৫ মে শুক্রবার রাত ১১টায় ছাড়বে কাতার এয়ারওয়েজের চার্টার্ড করা এ ফাইট। টিকিট ক্রয়কারী যাত্রীদেরকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে নিজ দায়িত্বে এয়ারপোর্টে পৌঁছার অনুরোধ করা হয়েছে।  উল্লেখ্য, মাথাপিছু ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২২০০ ডলার করে। তবুও অখুশী নন যাত্রীরা। কারণ, তারা এই কঠিন সময়েও স্বজনের সান্নিধ্যে ঈদ উদযাপনে সক্ষম হবেন।




ঢাকা থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টায়) টেলিফোনে গণমাধ্যমকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফাইটে উঠার আগে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যারা চিকিৎসকের ছাড়পত্র নেবেন (করোনা নেগেটিভ) তারা ঢাকায় অবতরণের পর পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার সম্মুখীন হবেন। শরীরের তাপমাত্রা যদি স্বাভাবিক হয় তাহলে তাদেরকে নিজ বাসায় ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হবে। অন্যথায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। আর যারা নিজ খরচে ঢাকার বিলাসবহুল হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চান, সে ব্যবস্থাও রয়েছে ওয়েস্টিনহ কয়েকটি হোটেলে। ভাড়াও অনেক কম নেয়া হচ্ছে। ভাড়ার সাথে খাবারও যুক্ত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী  উল্লেখ করেন যে, চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বেশ কয়েক হাজার বাংলাদেশি ফিরছেন বিশেষ ফাইটে।







প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25081 জন