লকডাউন শিথিল করে প্রধানমন্ত্রী ভুল পথে হাঁটছেন : রিজভী
Published : Wednesday, 13 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 12.05.2020 8:57:46 PM
লকডাউন শিথিল করে প্রধানমন্ত্রী ভুল পথে হাঁটছেন : রিজভীদিনকাল রিপোর্ট
করোনার ভয়াবহতার মধ্যে লকডাউন শিথিল করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুল পথে হাঁটছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী লকডাউন শিথিল করে মানুষের আক্রান্ত সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মৃত্যুর মিছিলকে দীর্ঘায়িত করছেন। গতকাল মঙ্গলবার রূপগঞ্জে তারাবো পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ নাসির উদ্দিনের উদ্যোগে বরপা এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে লকডাউন শিথিল করছেন। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী আপনি ভুল পথে হাঁটছেন। লকডাউন শিথিল করায় জার্মান, ইংল্যান্ডের মত দেশের করোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার হঠাৎ লকডাউন শিথিলের কথা বলছেন। এখন প্রতিদিন আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন রাস্তাঘাট, নদীর ধারে, হাটে বাজারে মানুষ মরে পড়ে থাকে। এই সরকারের কোন ধরনের মানুষের প্রতি মায়া মহব্বত নেই। থাকবে কেন ওনার তো ভোট দরকার পড়ে না। রাতের বেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোট করে দেয়। তিনি বলেন, গোটা পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর অনুগত লোকেরা বসে আছেন। উনি যেটা বলেন সেটাতেই সবাই হাতে তালি দেয়। এই পার্লামেন্টে জনগণের সমর্থন নেই। যে পার্লামেন্টে জনগণের সমর্থন থাকে না সেই সরকার ফ্যাসিজম এবং স্বৈরাচারী দিয়ে দেশ চালাবে। সেখানে দেশের মানুষ মরলো কি বাঁচলো তাতে তাদের ভ্রুপে নাই। লকডাউন শিথিল করলে হাজার হাজার মানুষ মারা যাবে এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো মাথার মধ্যে নেন না। নিতেও চান না। এ রকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে দেশের মানুষকে। ত্রাণ বিতরণের সময় রিজভী বলেন, সরকারি ত্রাণ জনগণ পায় না। আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও দলীয় নেতাকর্মীরা আত্মসাৎ করছে, চুরি করছে জনগণের টাকায় কেনা ত্রাণ। জনগণকে বাঁচাতে হলে, তাদের নিরাপত্তা দিতে হলে যারা দিন আনে দিন খায় অসহায় গরিব মানুষদের বাড়িতে বাড়িতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে। এটা সরকারের দায়িত্ব। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে এই কাজটি করতে পারত। সরকার তা না করে লকডাউন শিথিল করে দিচ্ছে। মানুষকে বাঁচানো নিয়ে এই সরকারের কিছুই করার নেই। তারা শুধু মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার, নার্সরা মারা যাচ্ছেন। তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। তারা বাড়ি ভাড়া পর্যন্ত পাচ্ছেন না। যে বাড়িতে থাকেন তার মালিক তাদের চলে যেতে বলেন। সরকারের উচিত ছিল ডাক্তারদের পাঁচতারকা হোটেলে রেখে কাজ করনো। কিন্তু সরকার সেটা করছে না।




বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমরা সরকারি ত্রাণ দিতে আসিনি। কঠিন দুর্যোগেও সরকার তাদের বৈশিষ্ট্য থেকে ন্যূনতম সরে আসেনি। তারা কোনো কিছুই সামাল দিতে পারেনি। গতকাল ২৪ ঘন্টায় এক হাজার অধিক লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিন আক্রান্ত সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার আগাম প্রস্তুতি নিলে এরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। জানুয়ারি মাসে যখন চীনে করোনা মহামারি দেখা দিল তখন বাংলাদেশের যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিল তার সরকার নেয়নি। তারা তাদের একটি অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিল। সরকার যদি লকডাউন করে ব্যবস্থা নিয়ে গরিব মানুষকে সহায়তা দিয়ে ঘরে বন্দি করে রাখতো তাহলে আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। সরকার করোনা মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, করোনার প্রথম সারির যোদ্ধা চিকিৎসক, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিদিনই কারোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তারা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। কিন্তু সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তাদের পর্যাপ্ত পিপিই দেয়া হয়নি।
তারাবো পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক রিপন, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুজ্জামান ইমন, গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, জেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাকারিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার প্রমুখ।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25114 জন