লকডাউন শিথিলের আগে নিতে হবে চরম সতর্কতা : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
Published : Wednesday, 13 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 12.05.2020 8:57:56 PM
দিনকাল ডেস্ক
কিছু দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এসব দেশে শিথিল করা হয়েছে লকডাউন। কিন্তু সংস্থাটি মনে করে, পুনরায় সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন শিথিলের আগে থেকেই চরম সতর্ক অবস্থান নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার জেনেভায় অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থাটির পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়েছে। সোমবার থেকে লকডাউন শিথিলের পর ইউরোপের বেশকিছু দেশে দীর্ঘদিন পর ছন্দ ফিরেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার পরই লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত নেয় মহামারিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি। কয়েকদিন আগেই লকডাউন শিথিল করা হয় জার্মানিতে। কিন্তু এরপরই দেশটিতে সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করে। এশিয়ার দেশ দক্ষিণ কোরিয়াতেও লকডাউন শিথিলের পর সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। তবে দেশটি শুরু থেকেই করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রেখে বিশ্ববাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইমারজেন্সি প্রোগ্রামের প্রধান ডা. মাইক রায়ান বলেন, ‘অনেক দেশ লকডাউন তুলে নেওয়ায় আমরা কিছু আশা দেখতে পাচ্ছি। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে চরম সতর্কতাও মেনে চলতে হবে’। জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে গুচ্ছ (কাস্টার) সংক্রমণ শুরু হলেও দেশ দুটি তা কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন ডা. রায়ান। তিনি বলেন, ‘যেসব দেশ চোখ, কান খোলা রেখে মহামারির মোকাবিলা করছে তাদের নাম আমাদের নিতেই হবে’। তবে কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে তিনি এও বলেন যে, ‘বিপরীতে কিছু দেশ চোখ বন্ধ করে প্রলয় সামলানোর চেষ্টা করছে। একই সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান ডা. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, লকডাউনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া জটিল ও কঠিন প্রক্রিয়া। তবে মানুষের জীবন ও জীবিকার তাগিদে ‘ধীরে ধীরে লকডাউন তুলে নিতে হবে’ বলে মনে করেন তিনি। জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো চীনের উহানেও ফের গুচ্ছ সংক্রমণ দেখা গেছে। তবে আধানম মনে করেন, পুনরায় সংক্রমণ শুরু হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার পুরো প্রস্তুতি এই তিনটি দেশের আছে। যতক্ষণ না কোনো টিকা আবিষ্কার হচ্ছে ততক্ষণ সতর্কতামূলক নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখার কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করেন আধানম। তবে যেসব দেশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ না নিয়ে ‘হার্ড ইমিউনিটি’র পথে হাঁটছে তাদের সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আধানম বলেন, সাম্প্রতিক সেরোলজিকাল গবেষণায় দেখা গেছে, খুব মানুষের শরীরেই নতুন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ফলে এখনও বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
করোনার টিকা আসতে আরও ১৬ মাস লাগবে : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা




বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম বলেছেন, প্রাণঘাতী সংক্রামক করোনা ভাইরাসের টিকা আসতে আরও ১৬ মাস সময় লাগতে পারে। জাতিসংঘের আর্থ-সামাজিক পরিষদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়ে সোমবার তিনি এ তথ্য জানান। কোভিড-১৯ রোগ মোকাবেলায় কার্যকর নীতি প্রণয়ন নিয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খবর আলজাজিরার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা শুরু হয়েছে গত জানুয়ারি মাস থেকে জানিয়ে, এ কাজে আরও ১০ থেকে ১৬ মাস সময় প্রয়োজন। তিনি এ সংক্রান্ত গবেষণার কাজে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইউরোপ এই কাজে ৮০০ কোটি ডলারের যে বাজেট দিয়েছে তা যথেষ্ট নয়। আধানোম এমন সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাজেট নিয়ে এ তথ্য জানালেন যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সংস্থাকে দেয়া আর্থিক অনুদান বন্ধ করে দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনের সঙ্গে আঁতাত করে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্বকে দেরিতে জানিয়েছে। এই ভাইরাস যে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তা ২২ জানুয়ারি নিশ্চিত করে। ট্রাম্প দাবি করছ্নে, সংস্থাটি আরও আগে বিষয়টি বিশ্বকে জানাতে পারত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার দেশে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রকোপ ঠেকাতে তার প্রশাসনের মারাত্মক ব্যর্থতা ধামাচাপা দিতে এ ধরনের অভিযোগ আনছেন। কারণ, আমেরিকায় করোনা ভাইরাসের ব্যাপক প্রকোপ শুরু হয়েছে মার্চ মাসে। ট্রাম্পের ভাষায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যদি ২২ জানুয়ারি দেরি করেও এ তথ্য জানিয়ে থাকে তবুও আমেরিকা এক মাসের বেশি সময় হাতে পেয়েছিল। কিন্তু নিছক অবহেলা করে ট্রাম্প প্রশাসন এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়।







প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25117 জন