দেশে একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ৮৮৭ : মৃত্যু ১৪ জন
Published : Monday, 11 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 10.05.2020 9:53:24 PM
দিনকাল রিপোর্ট
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে করোনা হানা দেয়ার পর এটি একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে করোনায় মোট মারা গেছেন ২২৮ জন। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৮৮৭ জন। এটি একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার ৬৫৭।
রবিবার (১০ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।
তিনি নতুন সংযুক্ত একটিসহ মোট ৩৬টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ হাজার ৬৪২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের কিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয় পাঁচ হাজার ৭৩৮টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো এক লাখ ২২ হাজার ৬৫৭টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৮৮৭ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৬৫৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১৪ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২২৮-এ। আর গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২৩৬ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুই হাজার ৬৫০ জন
বুলেটিনে বলা হয়, নতুন করে যারা মারা গেছেন, তাদের ১০ জন পুরুষ ও চারজন নারী। চার নারীর মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন এবং ষাটোর্ধ্ব দুজন রয়েছেন। পুরুষদের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব চারজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব দুজন, ষাটোর্ধ্ব তিনজন এবং ৯০ থেকে ১০০ বছর বয়সী একজন রয়েছেন।
গত শনিবার (৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় বিগত ২৪ ঘণ্টায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচ হাজার ৪৬৫টি নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৬৩৬ জন। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু এবং শনাক্ত রোগীর সংখ্যাতো বেড়েছেই। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ডও হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। এছাড়া মৃত্যুতেও গত ২৪ ঘণ্টায় হয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ১৭ এপ্রিলের বুলেটিনে জানানো হয়, বিগত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা ভাইইরাস। যা এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় সর্বোচ্চ প্রাণহানির রেকর্ড।
রবিবারের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ১৬৯ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন দুই হাজার ১১৫জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭১ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ১১৪ জন।
করোনা চিকিৎসার জন্য সারাদেশে (ঢাকা শহরের বাইরে) আইসোলেশন শয্যা রয়েছে আট হাজার ৬৩৪টি। গতকালের তুলনায় বেড়েছে ৪০?টি শয্যা। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে দুই হাজার ৯০০টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঁচ হাজার ৭৩৪টি। এসব হাসপাতালে আইসিইউর সংখ্যা ৩২৯টি, ডায়ালাইসিস ইউনিট ১০২টি। এছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০০টি ও ময়মনসিংহ নার্সিং ডরমেটরিতে ২০০ আইসোলেশন শয্যা বাড়ানোর কাজ চলছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে মোট কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ২১৮ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই লাখ ১০ হাজার ৬২৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৯৭৯ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন এক লাখ ৭৪ হাজার ২০১ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৩৬ হাজার এবং ৪২২ জন।
বুলেটিনে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।




গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হলেও এখন গোটা বিশ্বই করোনা ভাইইরাসের কবলে। মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি। তবে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।
প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশে চলছে ছুটি। বন্ধ বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন। যদিও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া রোববার (১০ মে) থেকেই শর্তসাপেক্ষে খুলে দেয়া হয়েছে দোকানপাট ও শপিংমল।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25096 জন