দোকানপাট খুলছে, সংক্রমণ নিয়ে শঙ্কা
Published : Friday, 8 May, 2020 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট
আগে থেকেই মে মাসে করোনা সংক্রমণ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এখন প্রতিদিন বাড়ছে শনাক্তের সংখ্যা। এর মধ্যেই চালু হতে যাচ্ছে ঈদের কেনাকাটা। আর আতঙ্ক নিয়েই দোকান খুলতে যাচ্ছেন মালিক-কর্মচারীরা। তবে দোকান খোলার আগেই রাস্তায় বেড়েছে মানুষের সমাগম। দোকান খোলার অনুমতির কথা শুনে মালিক ও কর্মচারীরা গ্রাম থেকে শহরে ফিরছেন। কোথাও দোকান পরিচ্ছন্ন করছেন। আর কোথাও কোথাও সময়ের আগেই দোকান খোলা
শুরু হয়েছে।
বুধবার ঢাকার মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, লালমাটিয়া, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, কাকরাইল, বঙ্গবাজার, ধানমন্ডি সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ বিপণিবিতান বন্ধ। কোনো কোনো দোকান খুলে পরিষ্কার করছেন কর্মীরা। কোথাও কোথাও ফুটপাতে ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা জামা, জুতা বা  তৈজসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। কিছু ক্রেতার আনাগোনাও আছে। গত ছয় দিনে দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৭১, ৫৫২, ৬৬৫, ৬৮৮, ৭৮৬ ও ৭৯০। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, ‘যেহেতু স্বাভাবিকভাবেই এখন মার্কেট খোলা হয়েছে, গার্মেন্টস খোলা হয়েছে, দোকানপাটের আনাগোনা বাড়ছে, কাজেই সংক্রমণ যে বৃদ্ধি পাবে, এটা আমরা ধরেই নিতে পারি।
এদিকে দোকানমালিকেরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় নিয়ে জীবিকার তাগিদে দোকান খুলতে হচ্ছে। সরকারি শর্ত মেনে করোনা প্রতিরোধের সুরক্ষাসামগ্রী কেনা, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন-বোনাস এবং দোকানে পণ্য তুলতে জমানো টাকা খরচ হবে। তাই ক্রেতা পাওয়া না গেলে ব্যবসায়িকভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে অনেকেই মনে করছেন ভিড় বাড়লে সুরক্ষা মানা সম্ভব হবে না। সীমিত সময়ের জন্য দোকান খোলা থাকায় ক্রেতাদের তাড়াহুড়ো থাকবে।  এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি তৌফিক এহেসান বলেন, ঘরে বসে থেকে তো বাঁচা যাবে না। বিদেশেও বিপণিবিতান চালু আছে। তাই চর্চাটা শুরু করতে হবে। যদিও ক্রেতার হাতে টাকা নেই, বাইরে বের হওয়ার ভয় আছে, তাই ব্যবসা খুব একটা হবে বলে মনে হয় না। গত ২৬ মার্চ থেকে দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সোমবার ঈদের কেনাকাটার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতভাবে দোকানপাট খোলা হবে বলে জানান। ১০ মে থেকে বিপণিবিতান খুলে দেয়ার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর ১৬ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। তবে ঢাকার সবচেয়ে বড় দুই বিপণিবিতান বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার সিটি কর্তৃপক্ষ ঈদের আগে চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা (তথ্য ও গণমাধ্যম) মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, বসুন্ধরা সিটিতে লাখ লাখ লোকের সমাগম ঘটে। এতে ব্যাপকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।  
এদিকে সিলেট নগরে কয়েক দিন ধরে মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নিজেদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিলেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী। দুটি বিপণিবিতানে আটটি পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সুকোমল রায় বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করতে চাচ্ছি না।’ আর ব্লুু ওয়াটার শপিং সিটি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বলেন, বিপণিবিতান খোলার সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হতে পারে। দোকান চালুর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বন্দর নগর চট্টগ্রামের বিপণিবিতান ও শপিং মলের ব্যবসায়ীরা। নগরের তামাকুমু-ি লেনের ১১০টি বিপণিবিতানে প্রায় ১২ হাজারের বেশি দোকান আছে। এখানকার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ কবির বলেন, ‘প্রচুর ক্রেতার ভিড়ে সামাজিক দূরত্ব শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।
ঘোষণার পর ফরিদপুরে মানুষের ভিড় ও লোক চলাচল বেড়েছে। বাজারে এখন থেকেই মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। আর রংপুরে পুরো দোকান খোলা না হলেও ফটক একটু খোলা রেখে বেচাকেনা হচ্ছে। রাজশাহী শহরে দু-একটি শপিং মল ইতিমধ্যে খুলেছে। গোরহাঙ্গা এলাকার ‘আমানা বিগ বাজার’ শপিং মলটির ভেতরে গতকাল ক্রেতাদের দেখা গেছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় শহরে মানুষের ভিড় বেড়েছে। বেশ কিছু দিন ধরেই ময়মনসিংহ নগরের গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, স্টেশন রোড ও চড়পাড়া এলাকায় মানুষের চলাচল বাড়ছিল। মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এ চলাচল আরও বেড়েছে।




খুলনা নগরের ক্লে সড়কেই রয়েছে সারি সারি মার্কেট ও দোকান। ব্যবসায়ী সমিতির নেতা এইচ এম মাহফুজুর রহমান বলেন, সবকিছু বন্ধ, তাতেই ক্লে সড়কে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি। মার্কেট খুলে দিলে এটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে। সরকারের এত দিনের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  বরিশাল নগরের সদর রোড, বাংলাবাজার, বটতলা, পুলিশ লাইনস, হাসপাতাল রোড, রূপাতলী, চৌমাথা এলাকায় বুধবার সকালে যান ও লোকজনের চলাচল আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কুমিল্লার সড়কে মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। রাজগঞ্জ এলাকার থান কাপড়ের, লুঙ্গি দোকানগুলোর সামনেও জটলা দেখা গেছে। যশোরেও বেড়েছে মানুষের সমাগম। বগুড়া শহরের নিউমার্কেট এবং জলেশ্বরীতলা এলাকার বেশ কিছু পোশাকের দোকান গতকাল ভোরেই খুলে বসে। এতে শহরের ফতেহ আলী বাজার গেট থেকে বড়গোলা মোড় পর্যন্ত যানজট নিরসনে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। বেলা ১১টার পর ব্যবসায়ী নেতাদের হস্তক্ষেপে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
হঠাৎ জনসমাগম বাড়া প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন বলেন, সামনে শনাক্তের সংখ্যা ও ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কা আছে। এ ছাড়া লকডাউন থাকায় অদৃশ্য রোগীরা (মৃদু উপসর্গ) এখন ছড়াতে পারছে না। বিপণিবিতান খুললে তারা বেরিয়ে পড়বে। এতে সংক্রমণের বিস্ফোরণের আশঙ্কা আছে। আর ঈদের আনন্দ বিস্বাদে পরিণত হতে পারে।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25107 জন