প্রতিদিনই ভাঙছে আক্রান্তের রেকর্ড
২৪ ঘণ্টায় আরও শনাক্ত ৭৯০ মৃত্যু ৩
Published : Thursday, 7 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 06.05.2020 9:23:28 PM
আবদুল্লাহ জেয়াদ, দিনকাল
প্রতিদিনই ভাঙছে আক্রান্তের রেকর্ডপ্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যাও। তবে মৃত্যুর তালিকায় না থাকলেও আক্রান্তের তালিকায় প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম।
গতকাল বুধবার দেয়া ব্রিফিংয়ের স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ও মৃত্যু বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। নতুন করে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ৭৯০ জন। এটি এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই করোনা শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট শনাক্ত হলেন ১১ হাজার ৭১৯ জন। আগের দিন মঙ্গলবার ৭৮৬ জন নতুন শনাক্তের কথা জানানো হয়েছিল। আর ১ জনের মারা যাওয়ার কথা জানানো হয়।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১৮৪ জনকে। এখন পর্যন্ত মোট আইসোলেশনের সংখ্যা এক হাজার ৭৯৪। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৪ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক হাজার ৩২৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে তিন হাজার ৮৮৯ জনকে।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের জারি করা লকডাউন মানছেন না কেউই। এ কারণে দেশে করোনা ভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ব্যাপক হারে বাড়ছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশেও এই মুহূর্তে মানুষকে ঘরে রাখা খুবই জরুরি। কিন্তু এেেত্র সফলতা আসছে না।
আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখের সামনে দিয়ে প্রতিদিনই ঢাকায় প্রবেশ ও বের হচ্ছেন অনেকে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাস্তাঘাট, বাজার, পার্ক ও চায়ের দোকানে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। পাড়া-মহল্লায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন যুবকেরা। সাধারণ ছুটি বাড়লেও দিন যত গড়াচ্ছে, রাস্তায় সব ধরনের যানবাহনের সংখ্যা তত বাড়ছে। এছাড়া পণ্য পরিবহনে যাত্রী বহন করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি দীর্ঘদিন থাকতে পারে। সহসাই যাবে না। তাই প্রত্যেক দেশকে সতর্ক থাকতে হবে। কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলছে লকডাউন। দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে লকডাউনের পরিসর। কিন্তু মানুষকে ঘরে রাখা যায়নি। পরিকল্পনার ঘাটতি থাকায় সুরার ব্যাপারটিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারছে না। স্বাস্থ্য সুরায় ঘোষিত লকডাউন মেনে চলার ব্যাপারে মানুষের সমর্থন থাকলেও কার্যত তা মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ছে সচেতন মহলেই। এ কারণে বিপদ বাড়ছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ।
বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থায়ই হিমশিম খাওয়ার উপক্রম। আর যদি সংক্রমণ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে তাহলে দেশের অবস্থা হবে ভয়াবহ। এক জন চিকিত্সক করোনায় আক্রান্ত হলে এক মাস আগে সুস্থ হচ্ছেন না। তাহলে ব্যাপকসংখ্যক চিকিত্সক যখন আক্রান্ত হবেন, তখন চিকিৎসা দেয়ার লোকই থাকবে না। আমেরিকার মতো দেশ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দণি-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, বাংলাদেশে প্রথম দিকে আক্রান্তের সংখ্যা কম থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। লকডাউন কার্যকর করা যায়নি। এ কারণে এখন আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বাংলাদেশে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব বলেও জানান তিনি।
দেশব্যাপী সংক্রমিতদের শনাক্তকরণে দুই সপ্তাহের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এ প্রোগ্রামের আওতায় আক্রান্তদের শনাক্তকরণে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীাগারে পাঠিয়ে দেবেন। এ ব্যবস্থায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। অন্যথায় কোনো ব্যবস্থায় কোনো ফলাফল আসবে না। পরিস্থিতি আরো দ্রুত অবনতির দিকে আশঙ্কা রয়েছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্য অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, যেহেতু করোনা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক নেই, তাই প্রতিকারই উত্তম ব্যবস্থা। কিন্তু আমরা সচেতন নই। নিয়ম না মানার প্রবণতা বেশি। তাই প্রতিকার-প্রতিরোধ ব্যবস্থা সফল হচ্ছে না। এ মুহূর্তে রোগ যেন না ছড়ায় সেদিকে নজর দেয়া জরুরি। নইলে জাতিকে বড়ো ধরনের খেসারত দিতে হবে।
তিনি বলেন, জাতি নিয়ম মানতে চায় না। সরকার কয়েক দফা ছুটি ঘোষণা করেছে। তার পরও মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। তাই এখন দুই থেকে তিন সপ্তাহ ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় শনাক্তকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। আর যত বেশি শনাক্ত করা যাবে, রোগীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার মাধ্যমে করোনা তত বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক দুলাল বলেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। এভাবে চলতে থাকলে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য সেবাকর্মী খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ মুহূর্তে করোনা শনাক্তকরণে দেশব্যাপী দুই সপ্তাহের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করা জরুরি বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।




উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। আর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।







প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25122 জন