করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে গতকালও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে
Published : Thursday, 7 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 06.05.2020 9:23:17 PM
দিনকাল রিপোর্ট
দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা উপসর্গে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাজী ইস্কান্দার মিয়া (৫০) নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন সরাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি সরাইপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।  বুধবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ।
তিনি বলেন, ওই রোগী রবিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। শুরু থেকে তিনি আইসিইউতে ছিলেন। এনিয়ে চট্টগ্রামে কোভিড-১৯ মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে নয়জনের মৃত্যু হল। ইস্কান্দারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় বাংলাদেশ পুলিশের ৬ জন মারা গেলেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া পুলিশ সদস্যের নাম রঘুনাথ রায়। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের দণি বিভাগের আলফা কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এর আগে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। রঘুনাথ রায়ের গ্রামের বাড়ি ল্মীপুর জেলায়। তিনি দুই সন্তানের পিতা। পুলিশের ব্যবস্থাপনায় রঘুনাথ রায়ের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। নোয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা হচ্ছেন, সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের চিলাদি গ্রামের নতুন মোল্লাবাড়ির সোহেল (২৫) ও বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড জমদার বাড়ির ইমাম হোসেন (৬০)।  এ নিয়ে গত দুদিনে করোনার উপসর্গ নিয়ে জেলায় চারজনের মৃত্যু হলো।
গতকাল বুধবার দুপুরে নোয়াখালী সিভিল সার্জন মমিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানন, সেনবাগের যুবকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে আর দেরিতে খবর পাওয়ার কারণে বেগমগঞ্জের ওই বৃদ্ধ’র নমুন সংগ্রহ করা যায়নি। তবে তার করোনা উপসর্গ ছিলো বলে স্বজনরা জানিয়েছে। আমরা তাদের সাবধানে থাকতে বলেছি।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে একদিনেই করোনা উপসর্গ নিয়ে ৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে দুজনেই হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুবরণ করেন। নিহত দুজন হলেন- অপরাধী ৩ নং ওয়ার্ডের দেররা পাটোয়ারী বাড়ির লিপি আক্তার (২০) ও একটি ওয়ার্ডের বিলওয়াই গ্রামের শাহজাহান সাজু (৬৫)। একইদিন ৫নং সদর ইউনিয়নের উত্তর অলিপুর গ্রামের শহিদুল্লাহ (৬৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এদের সকলের নমুনা সংগ্রহ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব টেকনিশিয়ান।
হাজীগঞ্জে এবার করোনার উপসর্গ নিয়ে লিপি আক্তার (২০) নামে এক তরুণী মারা গেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি মারা যান। তিনি পৌরসভাধীন ৩নং ওয়ার্ড ধেররা পাটোয়ারী বাড়ির ফারুক পাটোয়ারীর স্ত্রী। এর আগে এদিন সকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে লিপি আক্তারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান তার স্বজনেরা। ভর্তির মাত্র ৯ ঘণটার মধ্যেই তিনি মারা যান। নিহত তরুণীর করোনা পরীায় নমুনা সংগ্রহ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপ।
জানা গেছে, লিপি আক্তার গত ৪/৫ দিন যাবৎ সর্দি-জ্বর, পাতলা পায়খানা ও গলা ব্যথায় ভুগছিলেন। এরপর তার বোমি শুরু হলে স্বজনেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। রাত সাড়ে ৮ টায় হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ দিকে নিহত লিপি আক্তারসহ করোনা উপসর্গে উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪ জন মারা গেছেন।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় জ্বর, গলাব্যথ্ াও শ্বাসকষ্ট নিয়ে এক ব্যক্তির (৫০) মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। ১৫দিন আগে তিনি মানিকগঞ্জের পীরের বাড়ি থেকে সখীপুর ফেরেন। করোনাভাইরাস সন্দেহে ইসলামী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গতকাল বুধবার দুপুরে তাঁর লাশ দাফন করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জ্বর, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রাতেই মৃত ব্যক্তির পরিবারের পাঁচ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমাউল হুসনা লিজা বলেন, মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের বাড়িতেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলো লকডাউন করা হবে।
লালমনিরহাট শহরের বানভাসা মোড় এলাকায় লকডাউনে থাকা একটি বাড়িতে জ্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ওই শিশুর মৃত্যু হয়।  লকডাউনের কারণে শিশুটিকে সময় মতো হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
শিশুটির নানা জিল্লুর রহমান জানান, আমরা বাধ্য হয়ে লকডাউন ভেঙে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে যেতেই পথে শিশুটি মারা যায়। তিনি আরও জানান, ঢাকা থেকে কয়েকজন আত্মীয় আসায় গত ২৯ এপ্রিল স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মুকুল হোসেন তার বাড়ি লকডাউন করে দেন। ঢাকার স্বজনরা চলে গেলেও তার বাড়িতে মেয়ে, মেয়ে জামাই ও তাদের শিশু সন্তান থেকে যায়।
জিল্লুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, শিশুটি জন্মের পর থেকে শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছিল। মঙ্গলবার শিশুটি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে, কিন্তু তারা লকডাউনে থাকায় শিশুটিকে সময়মতো হাসপাতালে নিতে পারেননি। কাউন্সিলরকে অনেকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে ফোনের বিষয়টি অস্বীকার করে কাউন্সিলর বলেন ,আমার ফোনে কোনো কল আসেনি। এলাকার সবার স্বার্থে পরিবারটিকে লকডাউনে রাখা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানে বলেও জানান তিনি।
লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় জানান, শিশুটি করোনা আক্রান্ত ছিল কিনা সেটি শনাক্তে শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত জানানো হবে।  
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয় বলে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন জানান। মৃত গৃহবধূ (২০) হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ধেররা পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন জানান, তিনি ৪/৫ দিন যাবত জ্বর, পাতলা পায়খানা ও গলাব্যথায় ভুগছিলেন। রবিবার সকালে তার জ্বর, পাতলা পায়খানা ও বমি হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। রাত সাড়ে ৮টায় তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃত নারীর পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।




খুলনায় চিকিৎসাধীন এক করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালে (করোনা হাসপাতাল হিসেবে প্রস্তুতকৃত) চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। মৃত ওই ব্যক্তির বাড়ি রূপসা উপজেলার মিল্কি দেয়াড়া গ্রামে।
করোনা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, সকাল থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থা খারাপ ছিল। শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি ডায়রিয়াও ছিল। রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। গত ২২ এপ্রিল জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীটি খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর পর গত ২৯ এপ্রিল তার নমুনা সংগ্রহের পর ৩০ এপ্রিল করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। ওই দিন রাতেই তাকে খুলনা করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25109 জন