শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে গাজীপুর ও সাভারে বিক্ষোভ অব্যাহত
Published : Sunday, 3 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 02.05.2020 8:59:41 PM
শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে গাজীপুর ও সাভারে বিক্ষোভ অব্যাহতদিনকাল রিপোর্ট
গাজীপুর মহানগরীর তারগাছ এলাকায় অনন্ত ক্যাজুয়াল ওয়্যার লিমিটেড নামের একটি কারখানায় গতকাল শনিবার সকাল থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে এর প্রতিবাদে বিােভ করেছেন শ্রমিকরা। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। সম্প্রতি শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের নির্দেশ দেয়া হলেও তারা সেই নির্দেশনা মানছে না বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। শ্রমিকরা জানায়, গত ১১ এপ্রিল কারখানার মহাব্যবস্থপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) মুনির আহমেদ স্বারিত একটি নোটিশ দেন। সেখানে লেখা ছিল, পুনরায় কারখানা লে-অফ রাখার মেয়াদ বৃদ্ধির নোটিশ। কারখানায় কর্মরত, কর্মচারী ও শ্রমিকদের জানানো হয়, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাসের সংক্রমিত হয়ে মহামারী রূপ নিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা তাদের অনেক ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে। শ্রমিকদের মধ্যে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক বিরাজ করছে। যার কারণে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে কারখানা চালু রাখা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। পুরো বিষয়টি কারখানা কর্তৃপরে নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত। এমন পরিস্থিতিতে কর্তৃপ বাধ্য হয়ে চার মার্চ পর্যন্ত কারখানা লে-অফ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে কর্তৃপ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা লেঅফ রাখার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সরকারি নির্দেশের প্রেেিত কারখানার কর্তৃপ পুনরায় ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লে-অফ রাখার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। গাজীপুর শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর ইস্কান্দর হাবিব জানান, ওই কারখানাটি গত ২৪ এপ্রিল থেকে চালু করা হয়। কারখানার শ্রমিক রয়েছে প্রায় তিন হাজার। তবে শুরুতে কারখানা সকল শ্রমিক যোগ না দিলেও অর্ধেকের বেশি শ্রমিক কাজ শুরু করে। কারখানা চালু হওয়ায় শনিবার নতুন করে আরো প্রায় এক হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দিতে গেলে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হয়। এ সময়ে শ্রমিকদের মধ্যে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে শ্রমিকরা সকাল ৮টা থেকে কারখানার প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিােভ শুরু করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে কারখানা কর্তৃপ শ্রমিকদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হলে বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা তাদের অবরোধ তুলে নেয়।




সাভারে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ করায় হাতুড়িপেটা : শ্রমিকদের বিােভ
সাভারের চারাবাগ এলাকার এলাইন অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানায় ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বিােভ করেছেন তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। এর আগে কারখানার নিরাপত্তা কর্মীরা তাদেরকে হাতুড়িপেটা করে বের করে দেয় বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। ছাঁটাই বন্ধ এবং ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদেরকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে প্রায় তিন ঘণ্টা কারখানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিােভ করেন তারা। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিুব্ধ শ্রমিকদেরকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। শিল্প পুলিশ ও বিুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, এলাইন অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানায় দেড় হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করে। সম্প্রতি এসব শ্রমিককে দফায় দফায় ছাঁটাই করছে কারখানা কর্তৃপ। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার সকালে যাদের চাকরির বয়স দুই থেকে তিন মাস এমন দুই শতাধিক শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কমপে ৪০ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করে কারখানা কর্তৃপ। তাই শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করে শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে শনিবার সকালে সকল শ্রমিক একযোগে কারখানার সামনের সড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে বিােভ করে। বিুব্ধ নারী শ্রমিক শারমিন আক্তার বলেন, কারখানা কর্তৃপ আমাদেরকে কোনো রকম কারণ ছাড়াই জোরপূর্বক ছাঁটাই করছে। আমাদের জীবন এখন অনিশ্চয়তায়। দাবি আদায়ে আন্দোলন করতে বাধ্য করে আমাদের করোনা ভাইরাসের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত না হইয়াও আমাদের মাঝে এর যে প্রভাব পড়েছে তা মৃত্যুর চেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক। আমাদের দাবি একটাই হয় কর্তৃপ আমাদেরকে কাজে পুনর্বহাল করুক না হয় শ্রম আইন অনুযায়ী আমাদের তিন মাস ১৩ দিনের বেতনসহ যাবতীয় পাওয়ানা পরিশোধ করে দিক। অপর শ্রমিক সুরাইয়া আক্তার বলেন, কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিটন আহমেদ জোরপূর্বক আমাদের কাছ থেকে অব্যাহতিপত্রে স্বার রেখে বের করে দিয়েছে এবং তিন হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়ে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছেন। আজকে আমাদের তিন’শ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। কিন্তু আমরা কারখানা থেকে বের হতে না চাইলে নিরাপত্তা কর্মীরা আমাদেরকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এখন আমাদের চাকরি না থাকলে তো বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হবে। ছাঁটাই ও ঘুষ নিয়ে চাকরি দেয়ার বিষয়ে জানতে কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিটন আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর সিনিয়র এএসপি আউয়াল হোসেন বলেন, কিছু শ্রমিককে ছাঁটাই করার প্রতিবাদে তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিােভ করে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কারখানা কর্তৃপরে সাথে কথা বলে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদেরকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে বলি। এ ঘটনায় কর্তৃপ আমাদের অনুরোধ মেনে নিলে সকল শ্রমিক কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগদান করেন। এছাড়া যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানাটির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25133 জন