রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বাণী
মহান মে দিবস আজ
Published : Friday, 1 May, 2020 at 12:00 AM, Update: 30.04.2020 8:47:53 PM
মহান মে দিবস আজরফিক মৃধা, দিনকাল
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান, তাহাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান! বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুলিমজুর’ কবিতার এই অসামান্য লাইন দুটো জানান দেয় শ্রমিকের সম্মান, প্রকৃত মর্যাদা। আজ মহান মে দিবস। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বহু দেশে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে এ দিনটি পালিত হয়, যার পরিচয় ‘মে দিবস’ হিসেবে। ১৮৮৬ সালের মে মাসে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের এক ঐতিহাসিক আন্দোলন ও সংগ্রামের পুণ্যস্মৃতির সম্মানে এই দিনটি পালিত হয়। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় দিন পয়লা মে।  ১৮৮৬ সালের এই দিনে শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের অধিকারের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। শিকাগোর হে মার্কেটের সামনে
বিশাল শ্রমিক জমায়েত ও বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ১১ জন। এর পরপরই হে মার্কেটের ওই শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। অধিকার আদায়ে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মরণে ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২য় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে দিনটিকে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের সব দেশেই আজ পালিত হচ্ছে দিবসটি। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে মে দিবস পালিত হয়। ওই বছরই সদ্য স্বাধীন দেশে পয়লা মে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। প্রতিবারের ন্যায় এবারও রাষ্ট্রীয়ভাবে মে দিবস পালন উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করলেও করোনার কারণে এবার কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে না।
আজ সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
উল্লেখ্য, ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এ অবস্থা ছিল আরো খারাপ। শ্রমিকরা তখন দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করলেও তার বিনিময়ে সামান্য মজুরিও পেতেন না। উপরন্তু ছিল মালিকপক্ষের অনবরত অকথ্য নির্যাতন। ১৮৬০ সালে শ্রমিকরা তাদের মজুরি না কমিয়ে সারা দিনে আট ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণের জন্য দাবি জানান। এ জন্য তারা একটি সংগঠনও তৈরি করেন পরবর্তীকালে, যার নাম হয় আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার। এই সংগঠন শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অবিরত আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে।
১৮৮৪ সালে সংগঠনটি দিনে কাজের সময় ‘আট ঘণ্টা’ নির্ধারণের জন্য মালিকপক্ষের কাছে সময় বেঁধে দেয়। সময় দেয়া হয় ১৮৮৬ সালের ১ মে পর্যন্ত। বারবার মালিকপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও একটুও সাড়া মেলে না তাদের কাছে। একটি পত্রিকায় প্র্রকাশিত হয় এ বিষয়ে এক আলোড়ন তোলা আর্টিকেল। ব্যস, বিদ্রোহ ওঠে চরমে। আর শিকাগো হয়ে ওঠে প্রতিবাদ-বিদ্রোহের মূলমঞ্চ। পয়লা মে যতই এগিয়ে আসছিল, দুই পক্ষের সংঘর্ষ অবধারিত হয়ে উঠছিল। মালিক-বণিক শ্রেণি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। এরই মধ্যে পুলিশ আগে তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিল, আবারও চলল তেমনই প্রস্তুতি। শ্রমিকদের ওপর গুলি চালাতে পুলিশদের বিশেষ অস্ত্র কিনে দেন ব্যবসায়ীরা। পয়লা মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় তিন লাখ শ্রমিক কাজ ফেলে নেমে আসেন রাস্তায়। আন্দোলন চরমে ওঠে। ৩ মে, ১৮৮৬ সালে সন্ধ্যাবেলা শিকাগোর হে মার্কেট বাণিজ্যিক এলাকায় জড়ো হওয়া শ্রমিকদের দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিছু পুলিশ সদস্য। এমন সময় হঠাৎ বোমা বিস্ফোরণে কিছু পুলিশ আহত হন, পরে মারা যান ছয়জন। পরে পুলিশও শ্রমিকদের ওপর আক্রমণ চালালে নিহত হন ১১ জন শ্রমিক। পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করে ছয়জনকে প্রহসনমূলকভাবে দোষী সাব্যস্ত করে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়া হয়। কিন্তু এই মিথ্যা বিচারের অপরাধ শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে। ২৬ জুন, ১৮৯৩ ইলিনয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিথ্যা ছিল ওই বিচার। পুলিশের কমান্ডারকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের ‘দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ’-এর দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রায়। সেই থেকে পয়লা মে পালিত হয় শ্রমিকদের আত্মদান আর দাবি আদায়ের দিন হিসেবে।
মহান মে দিবস উপলক্ষে বিএনপির বাণী
মহান মে’ দিবস উপলক্ষে দেশ-বিদেশে কর্মরত সকল বাংলাদেশি শ্রমিক-কর্মচারীসহ সারা বিশে^র সকল মেহনতী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বাণীতে বলা হয়,   ১৮৮৬ সালের এই দিনে উত্তর আমেরিকার শ্রমজীবী জনগণ দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজ, ন্যায্য মজুরি ও শোভন জীবনের জন্য যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন এবং তার পরবর্তী দিনগুলোতে জীবন দিয়ে যে লড়াই সফল করেছিলেন-তারই স্বীকৃতি হিসাবে আজ বিশ^ব্যাপী ১ মে-‘মহান মে’ দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে। এই দিনটি তাই শ্রমজীবী মেহনতী মানুষের ঐক্য, সংগ্রাম ও বিজয়ের প্রতীক।  এ বছর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিশে^র শ্রমজীবী মানুষ সংকটের মধ্যেও জীবন বাজি রেখে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই সাহসী কর্মকান্ডের চালিকা শক্তিও মহান মে দিবসের চেতনা। মানবজাতির এই দারুণ সংকটকালে শ্রমজীবী ও পেশাজীবী জনগণের এমন সাহস ও ত্যাগের ফলেই প্রায় স্থবির অর্থনীতির চাকা এখনও ঘুরছে-মানুষ সেবা ও চিকিৎসা পাচ্ছে। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেবা, শিল্প ও ব্যবসা খাতের সকল মানুষকে এই মহান দিনে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তাদের কল্যাণ ও সুরক্ষায় এগিয়ে আসার জন্য সরকার, মালিক এবং সমাজের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহবান জানান।
মহান মে দিবস ২০২০ উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাণী




অপ্রতিরোধ্য করোনা ভাইরাসের আক্রমণে বিপর্যস্ত বিশে^ এবার মহান মে’ দিবস পালিত হতে যাচ্ছে। শ্রমজীবী জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিজয়ের এই ঐতিহাসিক দিনে আমি আমার নিজের এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ  থেকে দেশ-বিদেশে কর্মরত সকল বাংলাদেশি শ্রমিকসহ সারা বিশে^র শ্রমজীবী-কর্মজীবী জনগণকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ এখনও মহান মে’ দিবসের অর্জন দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজ, ন্যায্য মজুরি ও শোভন জীবন থেকে বঞ্চিত। কিন্তু তার পরও তারাই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে, বিদেশে উপার্জন করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। এই দুঃসময়েও তারা রোগাক্রান্ত মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।  মহান মে’ দিবসের প্রাক্কালে আমি বাংলাদেশের শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী জনগণের অবদান বিবেচনা করে তাদের প্রাপ্য অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও শোভন জীবন নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও মালিক পক্ষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। মহান মে দিবস অমর হোক।







প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
37 জন