দেশে একদিনে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্ত
Published : Wednesday, 29 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 28.04.2020 9:34:57 PM
দেশে একদিনে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্তদিনকাল রিপোর্ট
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৫৪৯ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৬ হাজার ৪৬২। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনা মোট ১৫৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিলো। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।
প্রায় চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তা-ব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের প্রায় পৌনে ৩১ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার। তবে সোয়া নয় লাখের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।
দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার ৪৯৭ জন নতুন শনাক্তের কথা জানানো হয়েছিল। আর ৭ জনের মারা যাওয়ার কথা জানানো হয়। ব্রিফিংয়ের তথ্য অনুযায়ী,  দেশে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মোট মারা গেছেন ১৫৫ জন। আর মোট শনাক্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৪৬২। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৩৩২ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এর আগের দিন ৩ হাজার ৮১২ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৪ হাজার ৭৩৩ জনকে।
নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৮ জন। সব মিলে সুস্থ হয়েছেন ১৩৯ জন। তবে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেয়া রোগীদের সুস্থ হওয়ার তথ্য এখানে নেই। যদিও প্রায় ৭৯ শতাংশ রোগী বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে খুলতে শুরু করেছে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রসঙ্গত গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হন ৮ মার্চ এবং এ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। ২৫ মার্চ প্রথমবারের মতো রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানায়, বাংলাদেশে সীমিত পরিসরে ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিকভাবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে করোনা শনাক্ত ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত ফ্রান্স ও স্পেন প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকিয়ে লকডাউন থেকে তাদের বের হওয়ার কৌশলগুলো বিশদভাবে প্রকাশ করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শাটডাউন থেকে বিভিন্ন দেশ যখন বের হয়ে আসার পথ খুঁজছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, চীন এই মহামারির বিস্তার রুখতে উৎসস্থলেই ভাসরাসটিকে থামিয়ে দিতে পারত। যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
করোনাভাইরাসে সৃষ্ট কোভিড-১৯ সংক্রমণের শিকার হয়ে বিশ্বের ২ লাখ ৯ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে, যার এক চতুর্থাংশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চীন নিয়ে খুশি নই... আমরা বিশ্বাস করি, এটি উৎস থেকেই বন্ধ করা যেত। এটি দ্রুত থামানো যেত এবং এটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ত না।’
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ লাখের চিত্রটি সম্ভবত সংক্রমণের প্রকৃত সংখ্যার একটি অংশকেই প্রতিফলিত করে, কারণ অনেক দেশ কেবলমাত্র সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রেই পরীক্ষা করছে।
ঢাকার বাইরেও করোনা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে
করোনা ভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৫৫ জনের মৃত্যু হলো। এ ছাড়া নতুন করে আরো ৫৪৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট ছয় হাজার ৪৬২ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে রাজধানী ঢাকায় সর্বাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এখানে তিন হাজার সাতজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা জেলায় আক্রান্ত হয়েছে আরো ৮৮ জন। অন্যদিকে ঢাকার পরই পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জে সর্বাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত ৮৪৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুরে ৩১৮ জন সংক্রমিত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) ওয়েবসাইট থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
তথ্য থেকে জানা যায়, ঢাকা বিভাগের আরেক জেলা মাদারীপুরে ৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ বিভাগের নরসিংদীতে ১৪২ জন, মুন্সীগঞ্জে ৮২ জন, মানিকগঞ্জে ১৫ জন, রাজবাড়ীতে ১৪ জন, গোপালগঞ্জে ৫০ জন, টাঙ্গাইলে ২৭ জন, কিশোরগঞ্জে ১৯৪ জন, শরীয়তপুরে ২৪ জন ও ফরিদপুরে ৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলায় ৬৭ জন, কুমিল্লায় ৪৭ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৫ জন, চাঁদপুরে ১১ জন, কক্সবাজারে ১৯ জন, বান্দরবানে চারজন, ফেনীতে চারজন, লক্ষ্মীপুরে ৩৪ জন ও নোয়াখালীতে ছয়জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।
সিলেট বিভাগের সিলেট জেলায় ১৬ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন, হবিগঞ্জে ৪৮ জন ও সুনামগঞ্জে ২৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।
রংপুর বিভাগের রংপুর জেলায় ২৮ জন, গাইবান্ধায় ১৯ জন, নীলফামারীতে ১১ জন, কুড়িগ্রামে ছয়জন, লালমনিরহাট জেলায় দুজন, পঞ্চগড় জেলায় তিনজন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ জন ও দিনাজপুরে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছে।
খুলনা বিভাগের খুলনা জেলায় আটজন, যশোরে ৩৬ জন, নড়াইলে ১৩ জন, মাগুরায় চারজন, ঝিনাইদহে ১৯ জন, বাগেরহাটে একজন, মেহেরপুরে দুজন, কুষ্টিয়ায় ১০ জন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় আটজন আক্রান্ত হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলায় ১১৭ জন, জামালপুর জেলায় ৫৩ জন, নেত্রকোনায় ২৭ জন ও শেরপুর জেলায় ২৩ জন আক্রান্ত হয়েছে।




বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলায় ৩০ জন, ঝালকাঠিতে ছয়জন, বরিশাল জেলায় ৪০ জন, ভোলায় চারজন, পিরোজপুরে আটজন ও পটুয়াখালীতে ২৩ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী জেলায় ১০ জন, জয়পুরহাটে ২১ জন, বগুড়ায় ১৭ জন, পাবনায় আটজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুজন, সিরাজগঞ্জে তিনজন ও নওগাঁয় একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25064 জন