রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন সংগঠনের শোক
অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর  ইন্তেকাল : বনানী কবরস্থানে দাফন
Published : Wednesday, 29 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 28.04.2020 9:35:07 PM
অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর  ইন্তেকাল : বনানী কবরস্থানে দাফনদিনকাল রিপোর্ট
বাংলাদেশের খ্যাতনামা প্রকৌশলী, গবেষক, শিাবিদ, বিজ্ঞানী, তথ্য-প্রযুক্তিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৪টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তাঁর আত্মীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবায়েত-উল-ইসলাম জানান, সোমবার রাত ২টার দিকে ঘুমের মধ্যে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ হয়। স্কয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পথেই তিনি মারা যান। দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত ঈদগাহ মসজিদে জামিলুর রেজার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠিত জানাজায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নিকটতমদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন অংশগ্রহণ করেন। জানাজার পর জামিলুর রেজার মরদেহ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। ১৯৪৩ সালের ১৫ নভেম্বর সিলেট শহরে প্রকৌশলী আবিদ রেজা চৌধুরী ও হায়াতুন নেছা চৌধুরীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জামিলুর রেজা চৌধুরী। তিন ভাই, দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৫৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তখনকার আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ)। ১৯৬৩ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে সেখানেই শিকতা শুরু করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে উচ্চশিার জন্য যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডভান্স স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর করেন। ১৯৬৮ সালে সেখানেই পিএইচডি শেষ দেশে দেশে ফিরে আবার বুয়েটে শিকতা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৭ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প থেকে একুশে পদক লাভ করেন। ২০১৮ সালে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক নির্বাচিত হন। জামিলুর রেজা চৌধুরী ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে সম্মানসূচক ডক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ম্যাথমেটিকাল অলিম্পিয়ার্ড কমিটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেছেন। বুয়েট থেকে অবসরে যাওয়ার পর ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য হিসেবে তিনি কাজ শুরু করেন। বিশেষজ্ঞ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন পরামর্শক প্যানেলে জামিলুর রেজা চৌধুরীর ডাক পড়েছে। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সফটওয়্যার রফতানি এবং আইটি অবকাঠামো টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ছিলেন ১৯৯৭ সাল থেকে পাঁচ বছর। ১৯৯৯ সালে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালার আহ্বায়ক ছিলেন। ২০০১ সালে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর আইটি টাস্কফোর্সেরও সদস্য করা হয়। পুরকৌশলের এই শিক নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাজ্যের ইনস্টিটিউশন অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্সের ফেলো জামিলুর রেজা চৌধুরী নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটিতেও তিনি ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন।
জামিলুর রেজা চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় দলগুলো জানিয়েছে, তার মৃত্যুতে দেশ একজন গর্বিত সন্তানকে হারালো। যার অভাব সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির শোক : জাতীয় অধ্যাপক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা জামিলুর রেজা চৌধুরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিাবিদের মৃত্যুতে শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন স্বনামধন্য প্রকৌশলী হিসেবে তিনি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু সেতু, পদ্মা বহুমুখী সেতু, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেলসহ চলমান নানা উন্নয়ন প্রকল্পে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের নেতৃত্বদানকারী এই গুণী ব্যক্তিত্বের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।
বিএনপির শোক : জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত শোকবার্তায় বলা হয়, দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রকৌশলী অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর মৃত্যুতে তাঁর পরিবার-পরিজনের ন্যায় আমিও গভীরভাবে শোকাহত হয়েছি। বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে যেসব বড় বড় ভৌত অবকাঠামো হয়েছে তার প্রায় সবগুলোতেই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন দেশের এই স্বনামধন্য প্রকৌশলী। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন বরেণ্য প্রকৌশলী ও গুণীজনকে হারালো, এ শূন্যস্থান সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানাচ্ছি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অপর এক শোকবাণীতে একুশে পদকপ্রাপ্ত জাতীয় অধ্যাপক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দেশের একজন প্রতিভাবান প্রকৌশলী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, কেবলমাত্র ভৌত অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রেই পারদর্শী নয় বরং শিক্ষকতা থেকে শুরু করে পুরকৌশলের এই শিক্ষক নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনসহ নানা ক্ষেত্রে তাঁর ওপর অর্পিত গুরুদায়িত্ব পালনে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন গর্বিত সন্তানকে হারালো, যার অভাব সহজে পূরণ হওয়ার নয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোকবার্তায় মরহুম জামিলুর রেজা চৌধুরীর রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকাহত পরিবারবর্গ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
জামায়াতের শোক : গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর ইন্তেকালে জাতি একজন খ্যাতিমান গবেষক, শিাবিদ, প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীকে হারালো। তিনি ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি একদিকে যেমন শিাঙ্গনে দায়িত্ব পালন করেছেন। অপরদিকে দেশের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সক্রিয় অংশগ্রহণ করে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি তার কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। শোকবাণীতে তিনি আরো বলেন, মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর নেক আমলসমূহ কবুল করুন। তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আল্লাহতায়ালা তাঁদের এই শোকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।
গণফোরাম : গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া এক শোক বিবৃতিতে বলেন, একজন স্বনামধন্য প্রকৌশলী হিসেবে তিনি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু সেতু, পদ্মা বহুমুখী সেতু, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেলসহ চলমান নানা উন্নয়ন প্রকল্পে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের নেতৃত্বদানকারী এই গুণী ব্যক্তিত্বের অবদান শ্র্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। জামিলুর রেজা চৌধুরী মৃত্যুতে জাতীর অপূরণীয় তির সম্মুখীন  হলো বলেও মনে করেন তারা।
জাতীয় পার্টি : শোকবার্তায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, জামিলুর রেজা চৌধুরী বাংলাদেশের শিা, প্রশাসন ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে অতুলনীয় ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে জামিলুর রেজা চৌধুরী অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে কয়েকটি মন্ত্রণালয় দেখভাল করেছেন। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, জামিলুর রেজা চৌধুরীর মৃত্যুতে বাংলাদেশের শিা ও উন্নয়নে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তা সহসাই পূরণ হওয়ার নয়।
এনএলসি : সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিল (এনএলসি)। গতকাল মঙ্গলবার সংবাদপত্রে পাঠানো সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের অবকাঠামো নির্মাণ খাতে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর অনন্য অবদান জাতি সারাজীবন স্মরণে রাখবে। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই গুণী ব্যক্তিত্বের মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য অপূরণীয় তি হয়েছে।
ড. ইউনুস : জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এবং গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘ঘুম থেকে উঠে এরকম একটা মহা দুঃসংবাদ পাবো চিন্তাই করিনি। এই দুঃসংবাদের আকস্মিকতায় এবং গুরুত্বে আমি সম্পূর্ণ নিথর।’ জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দীর্ঘদিনের বন্ধু উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার কর্মকান্ডের সাথে তিনি সব সময় জড়িত থাকতেন। আজ দুপুর ১২টায় তার সভাপতিত্বে আমাদের একটা টেলিফোন-মিটিং হওয়ার কথা ছিল। গতকাল আমরা তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আজ তিনি নেই। আমার দুঃখ আমি আমার একজন নিকটতম বন্ধুকে হারালাম। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার নেই। মহান আল্লাহ তাঁকে চিরশান্তিতে রাখুন।’












প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25072 জন