আইএলও’র উদ্বেগ
স্বাস্থ্য সুরক্ষা না করলে দ্বিতীয় দফায় করোনা ঝুঁকিতে পড়বে শ্রমিকরা
Published : Wednesday, 29 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 28.04.2020 9:35:29 PM
দিনকাল রিপোর্ট
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সতর্ক করে বলেছে, শ্রমিকদের কাজে ফিরিয়ে আনার েেত্র পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরা না দিলে ভাইরাসের দ্বিতীয় দফা ঢেউ আসতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির জেনেভা অফিস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দেয়া হয়। দেশে দেশে লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল করার চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আইএলও সরকারগুলোর প্রতি কর্মেেত্র কোভিড-১৯ রোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য পদপে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়ে নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থেকে ও সংলাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মনে করে আইএলও। আইএলও বলছে, সব মালিকপকে কর্মীদের ঝুঁকি কমানোর জন্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে এবং কর্মস্থলগুলোতে শ্রমিকদের ফিরে আসার আগেই সুরার কঠোর ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া দেশগুলো ভাইরাসের দ্বিতীয় দফা ঢেউয়ের ঝুঁকিতে পড়বে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ফলে কর্মেেত্র সংক্রমণের দ্বিতীয় তরঙ্গের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। বিবৃতিতে আইএলও’র মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেন, ‘আমাদের পুরো কর্মী বাহিনীর সুরা এবং স্বাস্থ্য আজ সবচেয়ে গুররুত্বপূর্ণ। একটি সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের মুখে আমরা কীভাবে আমাদের কর্মীদের সুরা দিচ্ছি, আমাদের সম্প্রদায়গুলো কতটা নিরাপদ এবং আমাদের ব্যবসায়গুলো কতটা স্থিতিশীল, তার ওপর এই মহামারির প্রভাব নির্ভর করছে।’
গাই রাইডার বলেন, কেবল পেশাগত সুরা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আমরা শ্রমিক, তাদের পরিবার এবং বৃহত্তর সম্প্রদায়ের জীবন রা করতে পারি। এতে কাজের ধারাবাহিকতা রা এবং অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকা সম্ভব হবে। এ জন্য তিনি স্বাস্থ্যকর্মীসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত লোকজনের যথাযথ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রোপটে আইএলও’র বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পটিআইনেন বলেন, যেহেতু কিছু কিছু শিল্প ধীরে ধীরে কার্যক্রম শুরু করছে, আইএলও বাংলাদেশের প্রোপটে নিরাপদে কাজে ফিরে আসা নিশ্চিত করতে একটি তিন ধাপের কৌশল তৈরি করেছে। প্রথম পদপে হলো নিয়োগকারী ও শ্রমিকের মধ্যে আলোচনার ওপর ভিত্তি করে কাজের জন্য বেশ কয়েকটি সুরা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণ এবং করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি ভাগ করে নেয়া। টুমো পটিআইনেন বলেন, ভাইরাস প্রতিরোধে ও কর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ রোধ করতে আইএলও শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) সঙ্গে মিলে একটি কোভিড-১৯ বিষয়ক নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করেছে। এছাড়া আইএলও আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের জন্য জীবিকা ভাতা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও আয়ের সুরা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক সুরা ব্যবস্থা ছাড়াও কাজ ভাগাভাগির মাধ্যমে কর্মসংস্থান ধরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। ওই বিবৃতিতে আইএলও সর্বাধিক দুর্বল শ্রমিক ও ব্যবসায়ী, বিশেষত অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির অংশ যারা, সেই অভিবাসী ও গৃহকর্মীদের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেছে। অন্যদের মতো এই শ্রমিকদের সুরার জন্য কিছু ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত বলে মনে করে তারা। সেগুলো হলো নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কাজের অনুশীলন সম্পর্কে শিা ও প্রশিণ, প্রয়োজনমতো বিনামূল্যে পিপিইর ব্যবস্থা, জনস্বাস্থ্য পরিষেবাগুলোতে প্রবেশাধিকার ও জীবিকার অন্য বিকল্পের ব্যবস্থা থাকা। শ্রমিকদের কাজে নিরাপদে ফিরে আসা নিশ্চিত করতে এবং কাজের েেত্র এই মহামারির সময়ে আরও বাধা এড়ানোর জন্য আইএলও কিছু সুপারিশ করেছে ওই বিবৃতিতে। সেগুলো হলো :
১. সব কাজের েেত্র বিপদ নির্ধারণ করা। সংক্রমণের ঝুঁকিগুলো নির্ধারণ করা এবং কাজে ফিরে আসার পরও সেগুলো নির্ধারণ অব্যাহত রাখা।
২. প্রতিটি খাত ও প্রতিটি কর্মেেত্র সুনির্দিষ্টতার সঙ্গে অভিযোজিত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে : শ্রমিক, ঠিকাদার, গ্রাহকের মধ্যে কাজের েেত্র সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, কর্মেেত্র ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিয়মিত মেঝে পরিষ্কার করা, পুরো কর্মস্থল পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা, হাত ধোয়া এবং স্যানিটাইজেশনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সরবরাহ করা।
৩. যেখানে প্রয়োজন সেখানে বিনামূল্যে কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) সরবরাহ করা।
৪. কারও মধ্যে লণ দেখা দিলে তাকে পৃথক করা এবং কার কার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা।
৫. কর্মীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রদান।




৬. সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুশীলন এবং কর্মেেত্র পিপিই’র ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য ও সুরা সম্পর্কে প্রশিণ, শিা ও তথ্য উপাদান সরবরাহ করতে হবে।







প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25066 জন