করোনা মহামারির শেষ এখনও অনেক দূরে : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
Published : Wednesday, 29 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 28.04.2020 9:35:41 PM
করোনা মহামারির শেষ এখনও অনেক দূরে : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাদিনকাল ডেস্ক
করোনা ভাইরাস মহামারির শেষ এখনও অনেক দূরে এবং এই ভাইরাসের কারণে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে শিশুদের জীবন রক্ষাকারী টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘœ ঘটছে। সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এসব কথা বলেন।
একই সঙ্গে এশিয়া, আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকার কিছু দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক এই সংস্থা।
জেনেভায় অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক বলেন, আমাদের সামনে এখনও অনেক পথ এবং প্রচুর কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কেবল দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে ধরা পড়ে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ৩০ লাখের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২ লাখ ১১ হাজার ৭৮০ জন।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে শিশুদের জীবন রক্ষাকারী অন্যান্য টিকাদান কর্মসূচি হুমকির মুখে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টেড্রোস। তিনি বলেছেন, নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগে শিশুরা তুলনামূলকভাবে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার কম ঝুঁকিতে আছে। কিন্তু টিকার মাধ্যমে শিশুদের যেসব রোগ প্রতিরোধ করা হয়; সেসবে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই প্রধান বলেন, নিয়মিত টিকাদান বিলম্ব হওয়ায় প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ পোলিও, হাম, কলেরা, হলুদ জ্বর এবং মেনিনজাইটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সীমান্ত বন্ধ ও বিধি-নিষেধে বিশ্বের ২১টি দেশে এসব রোগের ভ্যাকসিনের সরবরাহে সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
শিশুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের েেত্র শিশুরা কম ঝুঁকিতে থাকলেও তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির প্রধান তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেইয়েসেস বলেছেন, করোনায় সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা বিঘিœত হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোর শিশুদের জীবনরাকারী টিকা দেয়ার কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীন উৎপত্তি হওয়া করোনা ভাইরাসে ৩০ লাখের বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে এবং ২ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই রোগে শিশুরা কম ঝুঁকিতে থাকলেও মহামারির কারণে জরুরি অবস্থা প্রভাব ফেলছে অন্য রোগের টিকাদান কর্মসূচিতে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্য হুমকির মুখে।
গত সোমবার জেনেভায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক বলেছেন, হয়তো করোনা ভাইরাসের কারণে শ্বাসকষ্টজনিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর ঝুঁকি শিশুদের েেত্র কম। কিন্তু টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করা যায় এমন অন্য রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে তারা। পোলি, মিজেলস, কলেরা, হলুদ জ্বর ও মেনিনজাইটিসের মতো রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকাদান বিলম্বিত হওয়ায় বিশ্বে ১৩ লাখের বেশি মানুষ ভুগছে বলে জানান তিনি।
জিএভিআই গ্লোবাল ভ্যাকসিন জোটকে উদ্ধৃত করে তেদ্রোস জানান, করোনা মহামারির কারণে সীমান্তে কড়াকড়ি ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞায় ২১টি দেশে অন্যান্য রোগের প্রতিষেধকের ঘাটতি দেখা গেছে। মহামারির কারণে ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় কতটা প্রভাব পড়ছে সেটা জানালেন তেদ্রোস। তিনি বলেছেন, সাব-সাহারা আফ্রিকায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের হার দ্বিগুণ। এমনটা ঘটতে দেয়া যাবে না। আমরা সমর্থন দিতে দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছি।




আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও কিছু এশিয়ান দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃতের ক্রমবর্ধমান হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। গত সোমবার জেনেভায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক বলেছেন, আমাদের সামনে এখনও অনেক লম্বা পথ বাকি এবং অনেক কাজ করতে হবে। সঠিক পদপে নিয়ে সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কা সামাল দেয়া যাবে মনে করেন তেদ্রোস।







প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25074 জন