ঢাকামুখী শ্রমজীবী মানুষের ঢল
Published : Tuesday, 28 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 28.04.2020 6:23:02 PM
দিনকাল রিপোর্ট
ঢাকামুখী শ্রমজীবী মানুষের ঢলকরোনা সংক্রমণ ঝুঁকি রোধে সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণায় অঘোষিত লকডাউনে গোটা দেশ। সেই সাথে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। এরপরেও করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়েই হঠাৎ দলে দলে নানা পন্থায় ঢাকায় ছুটছেন মানুষ। গার্মেন্ট কর্মীদের দাবি, সরকার সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ালেও অজানা কারণে বাড়েনি তাদের ছুটি। তাই কর্মস্থলে যেতে বাধ্য করছেন কর্তৃপ। এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। চাকরি বাঁচানো ও পেটের তাগিদেই শিশু বাচ্চাসহ পরিবার-পরিজন নিয়ে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ঢাকায় ছুটছেন তারা।
বিকল্প ব্যবস্থা না করেই এভাবে গার্মেন্ট পল্লী খুলে দেয়ায় ুব্ধ তারা। বলছেন গার্মেন্ট পল্লী জনবহুল হওয়ায় সংক্রমণ ঝুঁকি বেড়ে গেল কয়েক গুণ।
করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি জেনেও মাওয়াঘাট, পাটুরিয়াঘাট, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকামুখী হচ্ছেন কয়েক লাখ মানুষ। এতে সরকারের সামাজিক দূরত্ব বজায় নীতি ভেস্তে যেতে পারে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
করোনা ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কর্মজীবী মানুষ ঢাকা অভিমুখে ফিরতে শুরু করছেন। ওই সকল কর্মজীবী মানুষ জানান, পেট বাঁচানোর আর চাকরি রা করতেই করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি উপো করে পিকআপ, রিকশা, ভ্যান ও পায়ে হেঁটে কর্মস্থল অভিমুখে যাচ্ছেন তারা। গতকাল শিমুলিয়া ঘাটে শ্রমজীবী মানুষের ঢল দেখা গেছে। চাকরি বাঁচাতে তারা ছুটছেন ঢাকার দিকে। এদিকে সোমবার সকালে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয় কুষ্টিয়া থেকে আসা গার্মেন্ট কর্মী আল-মামুনের সঙ্গে। তিনি জানালেন, মানিকগঞ্জ পর্যন্ত আসতে তার ১৪শ টাকা খরচ হয়েছে। সাভারে আশুলিয়া যেতে কম করে হলেও আরও ৬০০ টাকা লাগবে। তারপরও তাকে কর্মস্থলে যেতেই হবে। তিনি জানান, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কখনও পায়ে হেঁটে বা রিকশা, ভ্যান, পিকআপ, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল যোগে দৌলতদিয়া পর্যন্ত এসে ফেরিযোগে নেমে মানিকগঞ্জে এসেছেন রিকশায়। সামনের পথ অতিক্রম করতে চেপে বসেছেন ইঞ্জিনচালিত হ্যালো বাইকে।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয় গার্মেন্ট কর্মজীবী সোবহান হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানালেন, সাভারের জিরাবো এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তার কারখানা খুলেছে। না গেলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি আছে। এমন অবস্থায় রীতিমতো পেটের তাগিদেই করোনার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বাড়তি ভাড়া গুনে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছেন।
আরেক গার্মেন্ট কর্মী আফসার উদ্দিন এসেছেন পাবনা থেকে। কাজীরহাট হয়ে যমুনা নদী পাড়ি দিয়ে আরিচা ঘাটে নামেন তিনি। কড়া পুলিশি নজরদারিতে থাকা মানিকগঞ্জে আসার পর তাদের ভ্যান থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। কিভাবে গাজীপুরের কোনাবাড়ী যাবেন তা নিয়ে চিন্তিত তিনি।
তার মতো শত শত মানুষ মানিকগঞ্জ হয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছেন। পথে নানা ভোগান্তির কথাও জানান তারা। ঢাকামুখী এসব মানুষের দাবি, শত বাধা-বিপত্তি মাথায় নিয়েও ভবিষ্যতের চিন্তায় কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে তাদের।
গার্মেন্ট কর্মীরা ঢাকার দিকে যাচ্ছেন স্বীকার করে মানিকগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মো. রাসেল আরাফাত বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে তারা যাচ্ছেন। পায়ে হেঁটে, রিকশা, মোটরসাইকেল ও ভ্যান গাড়িতে করে তারা মানিকগঞ্জ পর্যন্ত এসেছেন। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক পুলিশ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন। কোনো গণপরিবহন সড়কে চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। তবে মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা নানাভাবে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
শিমুলিয়া ঘাটে গার্মেন্ট কর্মীদের ঢল
শিমুলিয়া ঘাটে শ্রমজীবী মানুষের ঢল দেখা গেছে, যাদের অধিকাংশই গার্মেন্ট কর্মী। গতকাল সোমবার সকাল থেকে তাদের ভিড় ল করা যায়। চাকরি বাঁচাতে তারা ছুটছেন ঢাকার দিকে। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শিমুলিয়া ঘাট থেকে ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে শ্রমজীবী মানুষকে ফেরিতে নদী পার হতে দেখেছি। তিনটি ফেরিতে মানুষের চাপ বেশি ছিল। সব মিলিয়ে আনুমানিক দুই হাজার শ্রমজীবী মানুষ নদী পার হয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। কাঁঠালবাড়ী ঘাটে সেনাবাহিনী ও পুলিশ রয়েছে। তারা তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে ফেরিতে তুলে দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।




এদিকে, শিমুলিয়া ঘাটে কোনো গণপরিবহন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। বেশি ভাড়ায় তারা মিশুক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। কেউ যাচ্ছেন পিকআপ ভাড়া করে।
মাওয়া ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন জানান, একপ্রেসওয়েতে কোনো ছোট পরিবহন চলাচলের অনুমতি আমরা দেয়া হয় না। তাই ছোট বাহনে করে অনেক রাস্তা ঘুরে তারা ঢাকার বাবুবাজারের দিকে যাচ্ছেন। সেখান থেকে পরিবহন পাল্টে গন্তব্যে রওনা দেন শ্রমজীবী মানুষ। এেেত্র তাদের বেশি ভাড়াও গুনতে হয়। সব মিলিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25100 জন