করোনা নিয়ে সরকার সঠিক তথ্য দিচ্ছে না : বিএনপি
Published : Sunday, 26 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 25.04.2020 9:38:53 PM
করোনা নিয়ে সরকার সঠিক তথ্য দিচ্ছে না : বিএনপিদিনকাল রিপোর্ট
সরকারের ‘একলা চলো’ নীতির কারণেই জনগণ করোনা ভাইরাসের প্রচন্ড ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দুপুরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন হওয়া এবং নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেয়া ঈদ উপহার প্রদানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি। ছাত্রদলের নিহত তিন পরিবার যথাক্রমে নুর আলম, নুরজ্জামান, ও মাহবুবুর রহমান বাপ্পীর পরিবারের হাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ঈদ উপহার তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব। সারাদেশে গুম-খুন-নির্যাতনে নিহত সহস্রাধিক নেতাকর্মীর পরিবারের কাছে এই উপহার পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। বিএনপির নির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলালের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন, আমিনুল ইসলাম, আতিকুর রহমান রুমন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসীন আলী, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, ছাত্রনেতা নাজমুল হাসান, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, করোনা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার জন্য যে সম্মিলিত উদ্যোগ নেয়ার কথা ছিল সেই উদ্যোগ নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এককথায় তারা (সরকার) করোনা ভাইরাসকে মোকাবিলা করতে গিয়ে পুরোপুরিভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। সেই একলা চলো নীতি তাদের সেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থার যে নীতি, সেই নীতির কারণেই আজকে জনগণ প্রচন্ড রকমের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে যে, সত্য কথাটি জানতে আমরা জানতে পারছি না, ইনফরমেশনগুলো আমরা পাচ্ছি না। যে কথাগুলো সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কতটুকু মিল আছে তা সম্পর্কে জনগণের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রশ্ন এসে গেছে।
তিনি বলেন, আমরা দেখছি যে, করোনা ভাইরাসকে মোকাবিলা করার জন্য এই সরকারের আন্তরিক হয়ে যেভাবে এগিয়ে আসার কথা ছিল সেটা তারা আসতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা প্রথম থেকে ল করেছি যে, তাদের মধ্যে প্রচন্ড রকমের উদাসীনতা ছিল, অবহেলা ছিল। যেটা রিজভী সাহেব বলেছেন যে, তারা অন্য কাজে ব্যস্ত ছিল। আমরা জানি কি কাজে ব্যস্ত ছিল। তারা এটাকে প্রথম দিকে গুরুত্ব দেয়নি। যখন ঘাড়ের মধ্যে এসে পড়ে গেছে তখন এটাকে সামাল দেয়ার মতো শক্তি তাদের ছিল না। আজকে করোনা ভাইরাসে প্রমাণিত হয়েছে যে, তাদের যে শাসনব্যবস্থা সেটা কতটা ভঙ্গুর। স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে গেছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা আছে বলেই মনে করা যায় না। সাধারণ রোগীরা যাদের ক্যান্সার হয়েছে, যাদের হয়ত লাঞ্চ ক্যান্সার বা টিবি আছে বা যাদের এপেন্ডিসাইটিস রয়েছে তারা কোনো চিকিৎসা পায় না। এটা বাস্তবতার কথা বলছি।
করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টিসহ দলের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য লিফলেট বিলি করেছি, মাস্ক বিতরণ করেছি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ড্যাব চিকিৎসক-স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য পিপিই দিয়েছি, হটলাইন চালু করেছে রোগীর পরামর্শ দেয়ার জন্য। আমরা ৮৭ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম এটা বিবেচনা করা হোক। যেদিন আমরা প্যাকেজ ঘোষণা করি ওইদিন সরকারি দলের কয়েকজন নেতা আমাদের যাচ্ছেতাই তিরস্কার করেছে। অথচ তার পরের দিনই প্রধানমন্ত্রী আবার ৭৩ হাজার কোটি টাকার একটা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। পরে অবশ্য এটাকে ৯৫ হাজার কোটি টাকা করেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই ৯৫ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন তার মধ্যে ৭৭ হাজার কোটি প্রণোদনা ব্যাংক ঋণ। মাত্র ১৬ হাজার কোটি টাকা সরকারের বাজেট ও সরকারি কোষাগার থেকে যাচ্ছে। এসব আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। এর জবাবও সরকার দিচ্ছে না।
তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তথ্যমন্ত্রী সাহেব আমাদের গালিগালাজ করেছেন এবং বলেছেন যে, আমরা নাকি শুধুমাত্র কথাই বলছি, আমরা কোনো কাজ করছি না। আমরা বিরোধী দল হিসেবে ১২/১৩ বছর তাদের নির্যাতনের পরেও আমরা যে কাজটুকু করেছি আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি যে, আমরা তাদের দল থেকে অনেক বেশি কাজ করেছি। ইতিমধ্যে আমরা ৭ লাখ পরিবারের কাছে আমরা ত্রাণ পৌঁছিয়ে দিয়েছি আমাদের ত্রাণ নিয়ে সীমিত শক্তির মধ্য দিয়ে। প্রতিদিনই আমাদের এই সংখ্যা  বাড়ছে এবং এটা আরো বাড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি। সরকারের প্রতি আহবান রেখে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসুন এটা এখন রাজনৈতিক বির্তকের সময় নয়, এটা এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সময় নয়। অহংকার এবং আত্মম্ভরিতা বাদ দিয়ে আসুন সমগ্র জাতিকে আমরা ঐক্যবদ্ধ করি, ঐক্যবদ্ধ করে সমগ্র জাতিকে করোনা ভাইরাসের যে আগ্রাসন সেই আগ্রাসন মোকাবিলা করার জন্য আমরা চেষ্টা করি। সেই উদ্যোগ আপনারা গ্রহণ করুন। দুর্ভাগ্য আমাদের যে, সরকার সেটা করছেন না, করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি না। কারণ জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা নেই।
সরকারের শাসননীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র যখন উৎপীড়ক হয়ে যায়, রাষ্ট্র যখন নিজেই গুম-খুন করে কিংবা ক্রসফায়ার করে তখন মানুষ গিয়ে কোথায় দাঁড়াবে। আমরা তো তখন সত্যিকার অর্থেই একটা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে পারি না। দুর্ভাগ্য আমাদের যে, আজকে আমরা এই ধরনের একটা সরকারের নির্যাতনের কবলে পড়েছি যাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। তারা নির্বাচিত কোনো সরকার নয়। তারা শুধুমাত্র শক্তির জোরে, বন্দুক-বুলেটের জোরে তারা শুধুমাত্র মতায় বসে আছে। জনগণের প্রতি কোনো রকমের দায়িত্ব নেই।
গত ১২/১৩ বছর সরকারের দমননীতির কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর যে নির্মম নির্যাতন ঘটেছে তার বর্ণনাও তুলে ধরে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনও করেন  মির্জা ফখরুল।




বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘পৃথিবী বদলাচ্ছে, মূল্যবোধ বদলাচ্ছে, ভাষা বদলাচ্ছে, শব্দ বদলাচ্ছে, কিন্তু মতাসীনদের সংস্কৃতি বদলাচ্ছে না। আমাদের মহাসচিব এই ভয়ঙ্কর বিশ্বব্যাপী মহামারিকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার কথা বলছেন কিন্তু তারা সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের একদলীয় চেতনা নিয়ে তারা কাজ করছে। কাজ করতে গিয়ে আজকে অনেক তথ্য, অনেক কিছু গোপন করার কারণে করোনা ভাইরাস মানুষের মৃত্যু লাফিয়ে বেড়ে চলছে।’ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘যখন করোনা মহামারি দেখা গেল, তার বেশ কিছু পরেই আমরা জানি না, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছ থেকে জানছি ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের তো জানার কথা কি কি পদপে নিলে এই মুহূর্তে আমরা এটাকে প্রতিরোধ করতে পারব। যেমন ভিয়েতনাম নিয়েছে, অন্যান্য দেশ নিয়েছে। চীনের অভিজ্ঞতা থেকে তারা পদপে নিয়েছে বলে সেখানেই করোনা মহামারি বিস্তার লাভ করতে পারেনি। আমাদেরও সেই সুযোগ ছিল। কিন্তু সরকার ভিন্ন কাজে ব্যস্ত। অন্য কাজ দেখতে গিয়ে এটাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।’
রিজভী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে জনজীবন অতিবাহিত হচ্ছে। আমাদের জীবদ্দশায় এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনও হইনি। আমরা আমাদের জীবদ্দশায় একটি যুদ্ধ দেখেছি ১৯৭১ সালের দেশে মুক্তিসংগ্রামের যুদ্ধ। যেকোনো ধরনের মহামারি সম্পর্কে আমরা বাবা-মায়ের কাছ থেকে গল্প শুনেছি। ‘কলেরায় গুটিবসন্তে গ্রামকে গ্রাম সাফ হয়ে গেছে। এগুলো আমরা দেখিনি। আমরা যখন সচেতন হয়ে উঠছি, জ্ঞান হয়েছে তখন আমরা দেখেছি বিভিন্ন ডিস্ট্রিকে ম্যালেরিয়া ডিপার্টমেন্টের অফিস। তারপর কিছুদিন পরে দেখছি সে অফিসগুলো নেই, অর্থাৎ ম্যালেরিয়া নির্মূল হয়ে গেছে। আমাদের জীবদ্দশায় এইবার দেখলাম, এটি কোনো অঞ্চলের মহামারি নয়, এটি বিশ্বব্যাপী মহামারি। এর মধ্যে আমরা পতিত হয়েছি। কিন্তু এই রকমের পরিস্থিতির মধ্যেও দলের প থেকে যে কাজগুলো করা দরকার সাধারণ মানুষের পে সেটি যথা সাধ্যভাবে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন,  ‘এখানে জীবনের ঝুঁকি আছে। সেই ঝুঁকিকে বরণ করে নিয়েও তারা কাজ করছে। আর সর্বোপরি যেটি সেটা হচ্ছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রতিবার এই কাজটা করেন। গত ১০ বছরে আমাদের নেতাকর্মীরা যেভাবে নির্যাতিত হয়েছে, গুম, খুনের শিকার হয়েছে। ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে। তিনি বিশ্বাস সময় বিশেষ দিবসগুলোতে রমজানে এগুলোতে তাদের উপহার সামগ্রী পাঠান। এবারও রমজান উপলে প্রতিটা বিভাগে যারা গুম হয়েছেন, ক্রসফায়ারে জীবন চলে গেছে পুলিশি নির্যাতনে যারা নির্যাতিত হয়েছেন তাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প থেকে এই উপহার সামগ্রী দেয়া হচ্ছে।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25077 জন