বিভিন্ন স্থানে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু আরও ৯ জনের
Published : Friday, 24 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 23.04.2020 9:43:02 PM
দিনকাল রিপোর্ট
সারাদেশে করোনা ভাইরাসের উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকার তথ্য ও সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেতনটি তৈরি।
জানা যায়, রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে দুইজন সাবেক সেনা সদস্যকে দাফন করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অপরজনকে করোনা সন্দেহে মৃত্যু ভেবে এই কবরস্থানে দাফন হয়েছে। তারা দুজনই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবারে বেলা সাড়ে বারোটার দিকে এই দুই সাবেক সেনা সদস্যকে দাফন করা হয়। তালতলা কবরস্থানের স্টাফ ইমাম মো. ওমর ফারুক  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে এই কবরস্থানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে মৃত্যু হিসেবে ১৩৮ জনকে দাফন করা হয়েছে।
সাবেক এই দুই সেনা সদস্য গত বুধবার মারা যান। দাফনকৃতদের মধ্যে একজনের বয়স ৬০ বছর। তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে হাসপাতাল থেকে দেয়া মৃত্যুর সনদে উল্লেখ আছে। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরে। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। আরেক সেনা সদস্যের বয়স ৭৩ বছর। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। সেনাবাহিনী থেকে তিনি ল্যান্স নায়েক পদে থেকে অবসরে যান। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। তিনি গত ১ এপ্রিল ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি হন। পরিবারের সদস্যরা জানান, অনেক দিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। তার নানান শারীরিক জটিলতা ছিল। তবে সর্দি, কাশি বা জ্বর ছিল না।
মৃতের সন্তান জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তার জ্ঞান ছিল না, তিনি কথা বলতে পারতেন না। কারও সাহায্য ছাড়া তিনি চলতে পারতেন না। হাসপাতাল থেকে দেয়া মৃত্যু সনদে করোনার ভাইরাসে আক্রান্ত- এটি লেখা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, আমার বাবার পাশেই শরীয়তপুর নিবাসী ওই সাবেক সেনা সদস্য ভর্তি ছিলেন। যেহেতু আব্বু আর তিনি একই দিনে মারা যান তাই করোনা সন্দেহজনক মৃত্যু হিসেবে তাকেও তালতলায় দাফন করা হয়েছে। করোনা পরীার জন্য আব্বুর মুখের লালার নমুনা নেয়া হয়েছে। আমার ভগ্নিপতি কয়দিন আগে আব্বুর সঙ্গে দেখা করেন। তাই তারও নমুনা নেয়া হয়েছে। পরীার ফল এখনও আমরা পাইনি।
করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের একজন ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা ও অপরজন ১৪ বছরের এক কিশোরী। গত বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে মারা যান ওই বৃদ্ধা ও গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মৃত্যু হয় ওই কিশোরীর। করোনার সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে তাদেরকে বিশেষ ব্যবস্থায় দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা: সুজাউদ্দৌলা রুবেল জানান, গত মঙ্গলবার করোনার উপসর্গ- জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই বৃদ্ধা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এলে সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বুধবার তার করোনা টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে তিনি আইসোলেশন ওয়ার্ডেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
অপরদিকে, কিশোরী মেয়েটি জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডায় ভুগছিল। বুধবার রাতে সে এখানে ভর্তি হয়ে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১১টা ৫৫ মিনিটে সে মারা যায়। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
ডা: রুবেল আরো জানান, যেহেতু ওই বৃদ্ধার নমুনা আগেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল তাই নতুন করে আর নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। আগে পাঠানো নমুনার রিপোর্ট এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা। তিনি আরো জানান, মারা যাওয়া ওই বৃদ্ধার বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার নয়ারহাট এলাকায়। এবং কিশোরীটির বাড়ি ফরিদগঞ্জের পশ্চিম লাড়–য়া গ্রামে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জ্বর, ঠান্ডা ও কাশিসহ করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে সাবিনা খাতুন ছবি (৪৫) নামে এ নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার উথলী গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। এদিকে বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে মৃতের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আশপাশের পাঁচটি বাড়ি লকডাউন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন থেকে ঠান্ডা, কাশি জ্বরসহ শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন সাবিনা খাতুন। বুধবার সন্ধ্যা থেকে অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। রাতেই তিনি নিজ বাড়িতেই মারা যান।
খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকসহ চারজনের একটি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে করোনা সন্দেহে নিহতের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গতকাল তা পরীার জন্য যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত ল্যাবে পাঠানো হয় বলে জানায় মেডিকেল টিম।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, করোনা সংক্রমণ সন্দেহে নিহতের বাড়িসহ আশপাশের পাঁচটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। সেই সাথে নিহতের সংস্পর্শে আসা সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
ময়মনসিংহে গত বুধবার ৯৪ জনের নমুনা পরীার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরও একজন চিকিৎসক ও ৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ৮ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭ জন চিকিৎসক, গফরগাঁও, মুক্তাগাছা ও হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচজন চিকিৎসকসহ ৩৫ জন নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা ভাইরাস শনাক্ত হলো। এ পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম মসিউল আলম জানান, বুধবার আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ফুলবাড়ীয়ার আরাফাত হোসেন (১৭) ও গাজীপুরের মাওনার রাজীব (৩০) মারা যান। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এস কে হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ফুলপুরের কৃষক আবদুল কাদির (৫০), ত্রিশালের ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান রনি (২০) ও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের দুলাল (৪০) মারা গেছেন।
রাজশাহীর মোহনপুরে জ্বর-সর্দি নিয়ে মারা যাওয়া পূর্ণিমা রানী সরকার (৩৫) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। তার নমুনা পরীার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. আরিফুল কবির। পূর্ণিমা রানী সরকার উপজেলার কেশরহাট বাজার খড়পট্টি এলাকার সুকুমার সরকারের স্ত্রী। গত রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রামেক হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।
স্বজনরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশি ছাড়াও শ্বাসকষ্ট ও পাতলা পায়খানায় ভুগছিলেন পূর্ণিমা। গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। নমুনা সংগ্রহ করে পরদিন করোনা পরীার জন্য রামেকের ল্যাবে পাঠানো হয়। বুধবার রাতে পরীার ফলাফল আসে। মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. আরিফুল কবির জানান, পূর্ণিমা রানীর করোনা পরীার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভবরপাড়া গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৩৬ বছর বয়সী সেই ব্যক্তি কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) পজিটিভ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মুজিবনগর উপজেলা লকডাউন করার নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে চিকিৎসা ও দাফনসহ বিভিন্ন সময়ে মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসায় মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ওসি তদন্ত, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ডবয়সহ ১৮ জনকে সঙ্গরোধে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছ, এ পর্যন্ত মেহেরপুর জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ জন। আর মৃতের সংখ্যা ১ জন। মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।












প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25118 জন