এপ্রিল মাসটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের
করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মন্দা ও দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করবে : প্রধানমন্ত্রী
Published : Tuesday, 21 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 20.04.2020 9:37:39 PM
করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মন্দা ও দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করবে : প্রধানমন্ত্রীদিনকাল ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার বলেছেন, করোনা ভাইরাসের জন্য বিশ্বব্যাপী যে খাদ্য মন্দা সৃষ্টি হবে তাতে আগামীতে বিশ্বব্যাপী দুর্ভি দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু বাংলাদেশে আমরা যদি খাদ্য উৎপাদন করে খাদ্য মজুত রাখতে পারি তাহলে আমরা দুর্ভিে পড়ব না। বরং আমরা অনেককেই সাহায্য করতে পারব। সেই ব্যবস্থা এখন থেকে নিতে হবে।’
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত জেলাসমূহের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন শেখ হাসিনা। জেলাগুলো হলো কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মাটি উর্বর, মানুষ অনেক কর্মঠ, বাংলাদেশ খাদ্যে এখন উদ্বৃত্ত।
‘কারো এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। সেদিকে দৃষ্টি দেবেন। সেটাই আমি চাই। যে যা পারেন কিছু চাষ করেন। ধান কাটার পরে নতুন আরেকটা ফসল কি করা যায় আমাদের সেটা করা উচিত,’ বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৯৫ হাজার কোটি টাকার উপরে প্রণোদনা ঘোষণা করেছি। আমরা এইজন্য করেছি আমাদের অর্থনীতি সচল রাখার জন্য।’
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ঢাকা বিভাগের নয়টি জেলা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসে দেশে নতুন করে সাতজনের মৃত্যু হওয়ায় রবিবার এ সংখ্যা ৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে ৩১২ জন শনাক্ত হওয়ায় এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫৬ জনে।
করোনায় বিশ্বব্যাপী খাদ্য মন্দা, দুর্ভি সৃষ্টি করবে:
করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী যে খাদ্য মন্দা সৃষ্টি হবে তাতে আগামীতে বিশ্বব্যাপী দুর্ভি দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা যদি খাদ্য উৎপাদন করে খাদ্য মজুত রাখতে পারি তাহলে আমরা দুর্ভিে পড়ব না। বরং আমরা অনেককেই সাহায্য করতে পারব। সেই ব্যবস্থা এখন থেকে নিতে হবে। সোমবার সকাল ১০টায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গণভবন থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাপী আজকে মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে করোনা ভাইরাস। যার ফলে হয়তো দুর্ভি দেখা দিতে পারে। সেখান থেকে আমাদের দেশকে বাঁচানো এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার হাত থেকে দেশকে রা করা, এটাই আমাদের ল্য। সেই ল্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। তিনি বলেন, আমাদের মাটি উর্বর, মানুষ অনেক কর্মঠ, বাংলাদেশ খাদ্যে এখন উদ্বৃত্ত। কারও এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। সেদিকে দৃষ্টি দেবেন। সেটাই আমি চাই। যে যা পারেন কিছু চাষ করেন। ধান কাটার পরে নতুন আরেকটা ফসল কি করা যায় আমাদের সেটা করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রায় ৯৫ হাজার কোটি টাকার উপরে প্রণোদনা ঘোষণা করেছি। আমরা এজন্য করেছি আমাদের অর্থনীতি সচল রাখার জন্য। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারও আগে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসে দেশে নতুন করে আরও ১০ জনের মৃত্যু হওয়ায় সোমবার এ সংখ্যা ১০১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে ৪৯২ জন শনাক্ত হওয়ায় এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৪৮ জনে।
প্রণোদনা থেকে কোনো খাত বাদ পড়বে না:
করোনা ভাইরাসের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় কোনো ধরনের খাতই সরকারের প্রণোদনার বাইরে থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বৃহৎ শিল্প থেকে শুরু করে সব ধরনের শিল্প খাত এবং কৃষি খাতের জন্যও প্রণোদনা দিয়েছি। আমরা বিভিন্ন খাতে মোট ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছি। কোনো খাত প্রণোদনা থেকে বাদ পড়বে না।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বের প্রায় আড়াইশ কোটি মানুষ ঘরবন্দি। সারাবিশ্বের অর্থনীতি থমকে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশও বিশ্বের একটি দেশ। তাই বাংলাদেশেও এর প্রভাব রয়েছে। তবে আমরা অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় এরই মধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা প্রণোদনা ঘোষণা করেছি। শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা ধাপে ধাপে রফতানিমুখী খাত, বৃহৎ শিল্প, ুদ্র ও মাঝারি শিল্প থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবসায়ীর জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছি। পরে কৃষি খাতের জন্য প্রণোদনা দিয়েছি। এই প্রণোদনা কেবল ধান চাষিদের জন্য নয়, মৎস্য-পোল্ট্রি-ডেইরি সব খাতকে প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। কেউ প্রণোদনার আওতা থেকে বাদ পড়বে না।




প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই এপ্রিল মাসটা একটু কঠিন হবে। আগেই বলেছিলাম এই মাসে সাবধানে থাকতে হবে। যেখানে যখন প্রয়োজন লকডাউন করা হচ্ছে। দেশের কথা মানুষের কথা চিন্তা করে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। মানুষ যেন সংক্রমিত না হয় সে জন্য সকল পদপে নেওয়া হয়েছে। সবাই সচেতন হলে করোনা থেকে বাঁচা সম্ভব। আমরা আরেকটু সচেতন হলেই করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সেদিকে দৃষ্টি দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, করোনার কারণে সারা বিশ্ব আজ আতঙ্কিত। আমার মনে হয় সারাবিশ্বে আগে কখনো এমন পরিস্থিতি দেখেনি। করোনায় গোটা বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির। বন্ধ রয়েছে মসজিদ-মন্দির-গির্জাসহ সব প্রার্থনার কেন্দ্র। এই সংকটে দেশে যেন খাদ্যর সমস্যা না হয় সেজন্য সব জমিতে ফসল ফলাতে হবে। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কেউ মারা যাক আমরা চাই না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভালো আছে। সবাই যদি সচেতন থাকেন তাহলে করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তুপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান সরকারপ্রধান। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময়ের জেলাগুলো হচ্ছে- ঢাকা বিভাগের মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা এবং ময়মনসিংহ সদর। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং রেডিও স্টেশনগুলো এই ভিডিও কনফারেন্স সরাসরি সম্প্রচার করবে। এর আগে শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে তিন দফা পৃথক ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট এবং বরিশাল বিভাগের ৪০টি জেলার সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে স্বাস্থ্যবিধিসমূহ মেনে চলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সংকট উত্তরণের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজেরও ঘোষণা দেন। দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনারোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৯১ জন। আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৫৬ জন।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25092 জন