দেশে করোনায় নতুন আক্রান্ত আরও ৩১২ জন : মৃত্যু ৭
Published : Monday, 20 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 19.04.2020 9:23:40 PM
দিনকাল রিপোর্ট
মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৩১২ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট ৯১ জনের মৃত্যু ও ২ হাজার ৪৫৬ জন আক্রান্ত হলেন। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ৯ জন। এ নিয়ে মোট ৭৫ জন করোনা রোগী সুস্থ হলেন। গতকাল রবিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, তার সঙ্গে ছিলেন অধিদফতরের এমআইএস পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান খান। নিজের বাসা থেকে এতে সংযুক্ত হয়ে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।  বুলেটিনে বলা হয়, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৬৩৪ জনের নমুনা পরীা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীা হয়েছে ২৩ হাজার ৮২৫ জনের। নতুন যাদের নমুনা পরীা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৩১২ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৫৬ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও সাতজন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯১ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও নয়জন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা হলো ৭৫ জন। বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনার বিস্তাররোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় ভালো ফলাফল পাওয়া যায়নি মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আইসিইউতে ভেন্টিলেটর মেশিনে চিকিৎসাধীন ৯ জন রোগীর ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারে ভালো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে সাড়ে তিন হাজার অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার জন্য আদেশ প্রদান করা হয়েছে। সারাদেশে ১০ হাজার সিলিন্ডার মজুত রয়েছে।
জাহিদ মালেক বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন শতকরা ৮০ শতাংশ রোগী এমনিতেই বিনা চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। ১৫ শতাংশ রোগী হাসপাতালে পর্যবেণে থাকেন। সামান্য কিছু পরিচর্যা লাগে। ৫ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। আর কিছু রোগী আইসিইউ ভেন্টিলেটরে চলে যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, লকডাউন সঠিকভাবে পালন হচ্ছে না। আক্রান্ত লোকজন নতুন নতুন এলাকায় যাচ্ছেন। ফলে ওইসব এলাকার লোকজনও আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেড়ে যাচ্ছে। গত ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তান্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়ে উঠলেও এখন ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সাড়ে ২৩ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার। তবে ছয় লাধিক রোগী ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। সবশেষ হিসাবে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৪৫৬। মারা গেছেন ৯১ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৫ জন।




প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি নানা সরকার পদপে নিয়েছে; যার মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মানুষকে ঘরে রাখতে রাজপথের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ।







প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25091 জন