মার্চে আয় কমেছে ৫ হাজার কোটি টাকা
কঠিন পরিস্থিতির মুখে দেশের রফতানি খাত
Published : Monday, 20 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 19.04.2020 9:24:18 PM
কঠিন পরিস্থিতির মুখে দেশের রফতানি খাতদিনকাল রিপোর্ট
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গত মার্চে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে প্রায় ৬১ কোটি মার্কিন ডলারের যা স্থানীয় মুদ্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি এপ্রিলে রফতানি পরিস্থিতি আরো বেশি খারাপ। বাংলাদেশের রফতানির ৮৪ শতাংশ আসে গার্মেন্টস পণ্য থেকে। করোনার ধাক্কায় ইতিমধ্যে এ খাতের রফতানি আদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছে প্রায় ৩২০ কোটি ডলার বা প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে আগামী মাসগুলোতে তেমন কোনো রফতানি আদেশও নেই। ফলে সার্বিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশের রফতানি। করোনা ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী খাবারসহ নিত্যপণ্যের বাইরে বাকি পণ্য ও সেবার ভোগব্যয় কমেছে অস্বাভাবিক হারে।
বাংলাদেশের বড়ো রফতানি বাজার ইউরোপ ও আমেরিকায় করোনার ধাক্কায় রীতিমতো লন্ডভন্ড অবস্থা। সেখানে কার্যত অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে গার্মেন্টসসহ বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে আছে। ফলে গার্মেন্টস পণ্যনির্ভর বাংলাদেশের রফতানিতে বড়ো ধাক্কা লেগেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে, সর্বশেষ মার্চ মাসে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রধান রফতানি বাজারে ক্রয়াদেশ দেয়া পণ্যের পাশাপাশি শিপমেন্টের (জাহাজীকরণ) জন্য অপোয় থাকা পণ্যও নিচ্ছে না ক্রেতারা। আর আগামী মাসগুলোর জন্য নতুন করে ক্রয়াদেশ তো নেই-ই। এ পরিস্থিতি কবে নাগাদ ঠিক হবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে রফতানিকারকদের। কেননা এর মধ্যে শ্রমিকের বেতনসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, যেসব কারখানার কাছে কিছু রফতানি আদেশ রয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে তারাও কাজ করতে পারছে না। ফলে যা হাতে আছে, তাও চীনসহ অন্য দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামীতে অনেক কারখানাই ব্যবসায়ে টিকে থাকতে পারবে না।
ইপিবির হিসাব অনুযায়ী, গত মার্চে বাংলাদেশ রফতানি করেছে ২৭৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য। আগের অর্থবছরের মার্চে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৩৪ কোটি ডলারের সমপরিমাণ। রফতানি কমেছে প্রায় ৬১ কোটি ডলার।
গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানি হয়েছিল ৪ হাজার ৫৪ কোটি ডলারের পণ্য। চলতি বছর এ ল্যমাত্রা ঠিক করা হয় ৪ হাজার ৫৫০ কোটি ডলারের। আর অর্থবছরের প্রথম ৯ মাস জুলাই থেকে মার্চ পযন্ত ৩ হাজার ৩৮৯ কোটি ডলারের ল্যমাত্রার বিপরীতে রফতানি হয়েছে ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের পণ্য, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সোয়া ৬ শতাংশ কম।
বাংলাদেশ ৩১টি খাতের আওতায় দুই শতাধিক পণ্য রফতানি করে। ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এর মধ্যে হাতেগোনা দুই- একটি বাদে বাকি পণ্যের রফতানি ল্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। একই সঙ্গে গত ৯ মাসে বেশির ভাগ পণ্যের রফতানিই গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।
গার্মেন্টস ছাড়াও রফতানি কমার তালিকায় থাকা বড়ো খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত খাদ্য ও মাছ, কৃষিজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কাঠ ও কাঠজাতীয় পণ্য, বিশেষায়িত টেক্সটাইল, হোম টেক্সটাইল। অবশ্য একই সময়ে রফতানি বেড়েছে পাট ও পাট জাতীয় পণ্যের।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25090 জন