জনগণের জীবন নিয়ে জুয়া খেলবেন না : রিজভী
Published : Sunday, 19 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 18.04.2020 10:09:58 PM
ডাক্তারদের সুরক্ষা না দিলে মানুষের সুরক্ষা হবে না : আলাল
জনগণের জীবন নিয়ে জুয়া খেলবেন না : রিজভীদিনকাল রিপোর্ট
করোনা ভাইরাস নিয়ে জনগণের সঙ্গে লুকোচুরি চলছে। এর মানে হচ্ছে, মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলা। সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ধামাচাপা দিতে রাষ্ট্রযন্ত্র দিয়ে দমনের নীতিকেই কার্যকর করছে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয় থেকে ভিডিও প্রেস কনফারেন্সে এসব কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারিতে বিশ্ববাসী আজ দিশেহারা। বাংলাদেশে বিরাজ করছে ভয়াল পরিস্থিতি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অদূরদর্শিতা ও হেয়ালীপনার কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে প্রতিদিন দেশজড়ে বিস্তার ঘটছে এই মহামারির। বিশ্বের ভয়াবহ সংক্রমিত দেশগুলোতে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু দ্বিগুণ হয়েছে ১৫-২০ দিনে। আর বাংলাদেশে তা হচ্ছে মাত্র ৪ দিনে। করোনা প্রতিরোধে মেডিক্যাল সরঞ্জামের বিষয়ে কেউ যেন কথা বলতে না পারে সেজন্য গতকাল সরকার কঠোর পরিপত্র জারি করেছে। সরকার তাদের ব্যর্থতা ধামাচাপা দেয়ার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র দিয়ে দমনের নীতিকেই কার্যকর করছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা এখন পর্যন্ত কেউ অনুধাবন করতে পারছে না। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে জনগণ জানতে পারছে না আসলে হচ্ছেটা কি? অথচ দুনিয়াজুড়ে খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদরা বলছেন এই সংকটে আলাপ-আলোচনার পথ প্রশস্ত রাখার জন্য। করোনার কারণে যে ভয়ঙ্কর খাদ্য সংকটের প্রকৃত তথ্য জেনে তা প্রতিকারের জন্য মুক্ত আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। অথচ সরকার নিয়ন্ত্রণ আর হুমকির মুখে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে স্বেচ্ছাচারিতা অব্যাহত রেখেছে। সরকারের ভুল বা ব্যর্থতা ধরিয়ে দেয়া চক্রান্তের অংশ নয়, বরং তা গণতন্ত্রের অংশ। ‘করোনা ভাইরাস ইস্যু’ নিয়ে জনগণের সঙ্গে লুকোচুরি করার মানে হচ্ছে, মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলা। জনগণের জীবন নিয়ে জুয়া খেলবেন না। আমরা দেখলাম, সরকার ১৬ এপ্রিল সারাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছে। ‘সারাদেশ করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ এটি বুঝতে সরকারের কেন এতো দেরি হলো এটি বোধগম্য নয়। কিন্তু মানুষ বাঁচাতে হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। 
রিজভী বলেন, ক’দিন আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেয়া বক্তব্যে কয়েকটি প্রস্তাবনা ছিল : অবিলম্বে দেশে ‘চিকিৎসা জরুরি অবস্থা অর্থাৎ মেডিক্যাল ইমার্জেন্সী’ ঘোষণা, ডাক্তারসহ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের কাজকে অত্যাবশ্যকীয় ঘোষণা এবং বিশেষ বোনাস প্রদান, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত সংখ্যক সেফটি মেডিক্যাল কিট্স অর্থাৎ পিপিই সরবরাহ করে দেশের প্রতিটি উপজেলায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রবীণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকদের চিকিৎসা সেবায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং করোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষি শ্রমিক, গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানার শ্রমিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আর্থিক সহায়তার উদ্দেশে দ্রুততার সঙ্গে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। যতই দিন যাচ্ছে, করোনা ভাইরাস মোকািেবলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেয়া প্রতিটি প্রস্তাবনার গুরুত্ব ও বাস্তবতা ততই প্রতিভাত হয়ে উঠছে। বিএনপির কোনো প্রস্তাবনা কি অযৌক্তিক কিংবা অন্যায্য? বিএনপি শুধু প্রস্তাবনা দিয়েই বসে থাকেনি, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সারাদেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী সমর্থক ছাড়াও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং ড্যাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আমাদের দলের নেতাকর্মী সমর্থকরা দুঃস্থ ও গরীব মানুষদের খাদ্য সহায়তা, মেডিকেলের ডাক্তার ও নার্সদের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হচ্ছে। বিএনপি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রতিনিয়ত মাঠে থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু কই মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তো জনগণের পাশে দাঁড়াতে দেখছি না। কই স্বাস্থমন্ত্রীকে তো কোনো হাসপাতাল পরিদর্শনে যেতে দেখিনি। উল্টো দেখা যাচ্ছে সরকারি ত্রাণ চুরির মহোৎসব। ক্ষমতাসীন নেতাকর্মীদের বাড়িতে চালের খনির পর এখন তেলের খনির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউন কিংবা ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রাখা অপরিহার্য। কিন্তু ‘লকডাউন’ কিংবা ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রাখতে গিয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষ খাবার সংকটে পড়েছে। এই অবস্থায়, গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণের চাল বরাদ্দ, ওএমএস কর্মসূচি কিংবা কমদামে টিসিবির মাধ্যমে তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু কোনো গণবিরোধী সরকার ও প্রশাসনের হাতে পড়লে যে কোনো শুভ উদ্যোগও ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ হয়ে ওঠে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ত্রাণ নিয়ে এবার আরও ভয়ংকর দলীয়করণ ও লুটপাটের মহামারি শুরু হতে যাচ্ছে। সারাদেশে ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ত্রাণ কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আওয়ামী লীগ ত্রাণের তালিকা করবে। এটি স্থানীয় প্রশাসনকে দেবে। স্থানীয় প্রশাসন তালিকাটি যাচাই-বাছাই করবে। তার মানে এই তালিকায় কেবল আওয়ামী লীগ করা লোকজনের ঠাঁই হবে। ত্রাণ পাবে তারাই। যে সরষের মধ্যে ভূত সেখানে তাদেরকেই যদি দায়িত্ব দেয়া হয়, তাহলে কাদের পক্ষ নিয়েছে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। আমরা এ বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও আশংকা বোধ করছি যে, ত্রাণ কার্যক্রমে এই দলীয় কমিটির কারণে চাল চুরি আরো বৃদ্ধি পাবে। দলীয় তালিকা করে দলের লোকজন খাবে আর অন্যরা না খেয়ে মরবে। এটা হলে দুর্ভিক্ষ আরো ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা মনে করি। অবিলম্বে আওয়ামী লীগকে দিয়ে ত্রাণের তালিকা করার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে প্রায় দেড় মাস আগে। এর মধ্যেও রোগীদের চিকিৎসায় একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়নি। রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতাল প্রস্তুতির যেসব পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে সেখানেও যথেষ্ট ঘাটতি আছে। বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিবর্তে নির্বাচন করা হয়েছে আউটডোর কিনিক। সেখানে অক্সিজেনের সুবিধা পর্যন্ত নেই, নেই অপারেশন থিয়েটার। গতকাল সরকারি হিসাবে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনা ভাইরাস। ফলে সরকারি হিসেবে ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের। করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২৬৬ জন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৩৮ জনে। কিন্তু বেসরকারি হিসেব মতে ও গণমাধ্যম সূত্রমতে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
বাংলাদেশে প্রথম রোগী চিহ্নিত হয় ৮ মার্চ। তারপর সরকার রোগটি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সময় পেলেও রাজধানীসহ সারাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য আইসিইউতে ভেন্টিলেটর মেশিন ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের সুবিধাসহ পৃথক হাসপাতাল স্থাপন করতে পারেনি। এখন চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ না করায় বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ ও মৃত্যুহার। মূলত সারা বাংলাদেশে করোনার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না, চারদিকে মানুষের কেবলই আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে।

এদিকে মিরপুরে ডেল্টা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসকদের মাঝে পিপিই বিতরণ করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে চিকিৎসকদেরকে সম্মুখ যোদ্ধা অভিহিত করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, আজকে করোনা মোকাবিলায় সম্মুখ যোদ্ধা হচ্ছেন আমাদের ডাক্তার, নার্স ও এই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু তাদের কোনো সুরা নেই। যার প্রমাণ আমাদের ডা. মঈন উদ্দিন।
তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে তাদেরকে সুরা দিতে না পারলে আমাদের জন্য তথা সাধারণ মানুষেরও কিন্তু সামান্য কোনো সুরা নেই। এই বিষয়টি সরকার যত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবে ততই আমাদের জন্য ভালো হবে। শনিবার রাজধানীর
মিরপুরে ডেল্টা মেডিকেল কলেজে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে চিকিৎসকদের মাঝে ব্যক্তিগত সুরা সরঞ্জাম (পিপিই) প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জেডআরএফ ও ড্যাবের পিপিই প্রদানের উদ্যোগের প্রশংসা করে আলাল বলেন, এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ সময় করোনা মোকাবিলায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের রুহের মাগফিরাত ও আক্রান্তদের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন আলাল।
বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। জেডআরএফের সভাপতি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এবং সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উভয় সংগঠনের উদ্যোগে গতকাল শনিবার রাজধানীতে আরও ৫টি এবং চট্টগ্রামে একটিসহ মোট ছয়টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিপিই প্রদান করা হয়। সকালে চট্টগ্রামের বিজিসি মেডিকেল কলেজে পিপিই বিতরণকালে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। এ সময় অনলাইনে যুক্ত থেকে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক এস এম তারেক। আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. তামান্না শরীফ, ড্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ডা. মো. আব্বাস উদ্দিন, ড্যাব নেতা রাই্হান উদ্দিন, ডা. নাসিমুজ্জামান প্রমুখ।
সকাল ১০টায় মিরপুরের ডেল্টা মেডিকেল কলেজে পিপিই বিতরণকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের সহ-সভাপতি ডা. সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, ডা. পারভেজ রেজা কাকন, বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ডা. রাকিবুল ইসলাম আকাশসহ ওই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য ব্যক্তিরা। শাহবাগে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজে (বারডেম) সকাল ১১টায় পিপিই বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, ডা. মেহেদী হাসান, ডা. খালেকুজ্জামান দিপু, ডা. পাভেল, বারডেমের যুগ্ম পরিচালক ডা. নাজিম ফারইয়ান প্রমুখ।
সাইফুল ইসলাম ফিরোজের পে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ : জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের প থেকে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে মসজিদ, ডাক্তার, সাংবাদিক, পুলিশ ও সাধারণ জনগণের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ডাক্তার নুরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নজরুল ইসলাম তোতা, সহ-ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
দুপুর ১২টায় রাজধানীর আসাদগেট মেইন রোডে কেয়ার মেডিকেল কলেজে পিপিই বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, ড্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আবদুস সালাম প্রমুখ। মিরপুর-১৪ নাম্বারে মার্কস মেডিকেল কলেজে পিপিই বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ড্যাবের কোষাধ্য ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমুখ। এছাড়া মোহাম্মদপুর রিং রোডে সেন্ট্রাল ইন্টারন্যশনাল মেডিকেল কলেজে দুপুর ১টায় পিপিই বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও ড্যাবের ডা. শহীদ হাসান প্রমুখ।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সরকারের সমালোচনা করে বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ড্যাবসহ আমাদের দল মানুষের দুর্যোগে সবসময় পাশে থেকে সহায়তা করে আসছে। অথচ সরকারে যারা আছেন তারা ভোগ আর লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, আজকে সরকারি-বেসরকারি সব মেডিকেল কলেজেই পিপিইর ব্যাপক সঙ্কট রয়েছে। অথচ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে শুনলাম আমেরিকা নাকি তাদের কাছে চিকিৎসা সরঞ্জাম চেয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন- পিপিইর নাকি প্রচুর মজুদ রয়েছে। যা বিদেশেও রফতানি করা যাবে। এসব বলে তারা মূলত প্রভুদের খুশি করছেন। আমাদের দেশের মানুষ দুবেলা খাওয়ার জন্য চাল-ডালের জন্য রাস্তায় শুয়ে আন্দোলন করছে। অথচ তারা ত্রাণের জাহাজ পাঠাচ্ছে মালদ্বীপে।
আলাল বলেন, ুধা কখনও কোনো নিয়ম মানে না। কোনো কিছুর কাছে পরাজিত হয় না। ুধায় মানুষ হয়তো মৃত্যুবরণ করে নয়তো তারা হিংস্র হয়ে ওঠে। আজকে সে অবস্থার দিকেই দেশকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে জেডআরএফ ও ড্যাব। করোনা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো পরামর্শ এবং প্রাথমিক জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য ২৪ ঘণ্টার মোবাইল হটলাইন চালু করা হয়েছে। রোগের ধরন বুঝে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে ফোনে সংযুক্ত করার পাশাপাশি সমস্যা জেনে টেলিফোনেই রোগীকে প্রেসক্রিপশন দেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে মূল্য পরিশোধ সাপেে রোগীর চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ রোগীর বাড়ি পৌঁছানোর জন্য মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যামট্যাব) একটি টিম বিনামূল্যে সেবাদানে নিয়োজিত আছে। গরিব রোগীকে বিনামূল্যে ওষুধ দেয়ার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া জেডআরএফের কৃষিবিদ গ্রুপ রাজধানীর বস্তিতে জীবাণুনাশক ওষুধ স্প্রে এবং প্রকৌশলী গ্রুপ সাধারণ মানুষের হাত ধোয়ার জন্য রাজধানীতে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন শুরু করেছে।












প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25096 জন