প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা
সারাদেশে ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ২৬৬ : মারা গেছেন ১৫ জন
Published : Saturday, 18 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 17.04.2020 9:35:07 PM
দিনকাল রিপোর্ট
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৭৫ জন। একদিনে নতুন করে আরও করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২৬৬ জন এবং করোনায় মোট শনাক্ত হলেন এক হাজার ৮৩৮ জন। গত দিনের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে মৃতের সংখ্যা এবং কমেছে শনাক্ত।
গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে দেশের কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন অনলাইনে প্রচারিত হয়। সেখানে ভিডিও কনফারেন্সে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বুলেটিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীা করা হয়েছে দুই হাজার ১৯০টি। গত একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৯ জন, এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫৮ জন।
শনাক্তদের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত ১ হাজার ৮৩৮ জনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন প্রায় ৫০০ জন। অর্থাৎ, হাসপাতালে সেবা নিয়েছেন শতকরা ৩৩ ভাগ রোগী, বাকিরা হোম বা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিন্টাইনে আছেন। সারাদেশে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সাপোর্ট নিয়েছেন ২৭ জন। অর্থাৎ প্রায় এক দশমিক ৮ শতাংশ রোগী আইসিইউ সাপোর্ট নিয়েছেন। এই হারে ১০ হাজার রোগী যদি আইসিইউ সার্পোট নেয় তাহলে ১৮০টি ভেন্টিলেটর সাপোর্ট লাগবে। এই সাপোর্ট একবারে লাগে না, এরপরও যদি দরকার হয় তাহলে এই সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি হাসপাতালে অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে যা করোনা ভাইরাসের রোগীর জন্য বেশি প্রয়োজন।
বুলেটিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের কোনও চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না। অন্যদের অক্সিজেনসহ কিছু ওষুধ লাগতে পারে। আইসিইউ, ভেন্টিলেটর এবং প্রস্তুতি নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। এই ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রতিনিয়ত কাজ চলছে। বর্তমানে সব হাসপাতালে ট্রিটমেন্ট গাইড লাইন দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই)-এর কোনও সংকট নেই। ২০টি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে, এগুলো সহজে স্থাপিত হয়নি। আমাদের জানা ছিল না কতগুলো ল্যাব লাগতে পারে, এগুলো অন্য দেশ থেকে আমদানি করে আনতে হয়। যেখানে আমদানি বন্ধ ছিল, বিভিন্ন উপায়ে, বিভিন্নভাবে এগুলো স্থাপন করা হয়েছে।
নমুনা পরীা কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, সমস্যা হচ্ছে রোগীরা টেস্ট করে না, গোপন করে যায়। ফলে চিকিৎসক আক্রান্ত হচ্ছে, এই আচরণ আশঙ্কাজনক। তাই বেশি করে টেস্ট করতে হবে।
এই সময় বুলেটিনে যুক্ত হয়ে কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা এবং জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফোরা।
করোনায় ২১-৩০ বছর বয়সীরা বেশি আক্রান্ত
দেশে বর্তমানে এক হাজার ৮৩৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২১-৩০ বছর বয়সীরা সংক্রমিত হয়েছেন। যা কিনা মোট আক্রান্তের ২১ শতাংশ। আর মোট আক্রান্তের ১৯ ভাগ ৩১-৪০ বছর বয়সীরা। এরপর রয়েছেন ৪১-৫০ বছরের মানুষ। শতকরার হিসাবে যা ১৫ শতাংশ।
গতকাল  শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কোভিড-১৯ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফোরা।
অনলাইন বুলেটিনে আরও যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
ডা. সেব্রিনা বলেন,  ‘রোগীদের বয়সের বিশ্লেষণে দেখা গেছে ২১-৫০ বছরের মধ্যে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। আবার নারী-পুরুষ সংক্রমণের হার বিভাজনে দেখা গেছে শতকরা ৬৮ শতাংশ পুরুষ আর ৬২ শতাংশ নারী আক্রান্ত হয়েছেন।’
তিনি বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৪৬ ভাগ রোগী ঢাকা শহরে। এরপর নারায়ণগঞ্জে শতকরা ২০ ভাগ এবং তারপর অনেক এলাকাতে নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার তথ্য পাচ্ছি। তার মধ্যে রয়েছে গাজীপুর, চট্টগ্রাম, মুন্সীগঞ্জেও নতুন করে রোগী দেখা যাচ্ছে। আবার ঢাকা শহরের মধ্যে সংক্রমিত রোগীর মধ্যে বেশি রয়েছে। এরমধ্যে মিরপুরে সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আমরা দেখেছি টোলারবাগে সংক্রমণ বেশি ছিল, এখন মিরপুরের বিভিন্ন অঞ্চল এবং টোলারবাগ-পুরোটা এলাকা জুড়েই। এটা শতকরা হিসাবে যদি বলি, শতকরা ১১ ভাগ। এরপরে মোহাম্মদপুর, ওয়ারী ও যাত্রাবাড়ীতে রয়েছে শতকরা চার ভাগের মতো সংক্রমিত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। তারপর রয়েছে উত্তরা এবং ধানমন্ডিতে শতকরা তিন ভাগ।
তিনি বলেন, সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে শতকরা ৬৮ ভাগ মানুষ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৩২ ভাগের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। তবে এখানে আমি একটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে চাই। তা হলো এই ৩২ ভাগেরও অনেকের হাসপাতালে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল না। তাদেরকে বিভিন্ন কারণে হাসপাতালে যেতে হয়। তারমধ্যে একটি হচ্ছে, সামাজিকভাবে তাদের ওপর চাপ ছিল। তারা যেন বাড়িতে না থেকে হাসপাতালে যান।




ডা. সেব্রিনা বলেন, ‘আমি এখানে বলতে চাই, একজন রোগী যদি বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে পারেন, সারা বিশ্ব এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তাদের উৎসাহিত করেছে। তবে সেেেত্র রোগী হোম আইসোলেশনে থাকবেন স্ট্রিক্টলি। একটি ঘরের ভেতরে থাকবেন এবং তারসঙ্গে যেন অন্য কারও মেলামেশা না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আর এটা করা গেলে রোগীর জন্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও একটি ভালো পদপে। আমরা যদি যাদের হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই, যাদের মৃদু লণ উপসর্গ রয়েছে কিংবা খুবই কম তাদেরকে হাসপাতালে পাঠালে হাসপাতালের ওপরও চাপ পড়ে। তাই যাদের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তারা স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ নম্বরে কল করলে সেখান থেকেই চিকিৎসা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য পাবেন।’
এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইইডিসিআরের চিকিৎসকরাও রোগীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেন।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25082 জন