অনাহারে মারা যেতে পারে তিন কোটি মানুষ : বিশ্ব খাদ্য সংস্থা
Published : Friday, 17 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 16.04.2020 9:48:30 PM
অনাহারে মারা যেতে পারে তিন কোটি মানুষ : বিশ্ব খাদ্য সংস্থাদিনকাল রিপোর্ট
করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে যাওয়া বিশ্বব্যবস্থায় গরীব মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (ডব্লিউএফপি) প্রধান ডেভিড বেসলে। বুধবার কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোব অ্যান্ড মেইলকে দেয়া এক সাাৎকারে তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ তহবিল গঠন না করলে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। তার আশঙ্কা দরিদ্রদর মুখে খাবার তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা না গেলে অন্তত তিন কোটি মানুষ অনাহারে মারা যেতে পারে।
বেসলে জানান, বিভিন্ন দেশের সরকারের আর্থিক সহায়তায় বিশ্বে অন্তত একশ মিলিয়ন মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয় ডব্লিউএফপি। তার মধ্যে অন্তত ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) মানুষ খাবার না পেলে অনাহারে মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। জীবন বাঁচাতে হলে তাদের মুখে খাবার তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
করোনা ভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বের অর্থনীতি থমকে গেছে। ডেভিড বেসলে মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ ডব্লিউএফপিকে অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দিতে পারে। আর এতে করে বিপর্যয় আরো বেড়ে যাবে।
তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, যদি ‘আমরা অর্থায়ন বন্ধের কবলে পড়ি  ... সর্বনিম্ন ৩০ মিলিয়ন মানুষ মারা যাবে। তিন মাসের বেশি সময় ধরে দিনে তিন লাখ মানুষের মৃত্যু হবে। সে কারণেই করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় গৃহীত পরিকল্পনার সঙ্গে অর্থনীতির বিষয়টি বিবেচনা করার কথাও বলেছেন তিনি।
এদিকে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসকে থামাতে গেলে দ্রুত প্রয়োজন নিরাপদ ও কার্যকর একটি প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন। একমাত্র করোনাজনিত কোভিড-১৯ রোগের ভ্যাকসিনেই  প্রতিহত করা যাবে করোনাজনিত মহামারি। তাতে বাঁচবে কোটি মানুষ, স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বিশ্ব, এমনটাই বললেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক ভিডিও কনফারেন্সে বুধবার জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, মানুষের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ ও কার্যকর কোনো ভ্যাকসিনই পৃথিবীকে আবার তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে। কোটি কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচবে। শত শত কোটি ডলারের অপচয় বন্ধ হবে, অর্থনীতির ভাঙন থামবে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বজুড়েই রোগটির ভ্যাকসিন  তৈরি নিয়ে গবেষণা চলছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, বিশ্বের সব দেশের রাষ্ট্রনেতা ও শিল্পপতিদের এ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। গবেষণার জন্য তহবিল জড়ো করতে হবে। ২০২০ সালের শেষ নাগাদ যদি ভ্যাকসিন হাতে চলে আসে, তাহলেই এ মহামারি থামানো সম্ভব। জাতিসংঘের প থেকে আগেই বলা হয়েছিল, করোনা ভাইরাস মহামারির জেরে বিশ্ব অর্থনীতির তি হবে হাজার হাজার কোটি ডলার। এর ফলে সবচেয়ে বিপদে পড়বে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই বাস করেন উন্নয়নশীল দেশে।
জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, করোনাজনিত সংকটের মোকাবিলা করা যাবে যদি সারা বিশ্ব এক হয়ে হয়ে চলার শপথ নেয়। তিনি আরো বলেন, মানবসভ্যতার এ সংকটের সময় এক হয়ে লড়াই করতে হবে। পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-বিদ্বেষ জটিলতা আরো বাড়াবে।




বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ইউরোপে করোনায় আক্রান্ত ১০ লাখ পেরিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্রেই ভাইরাসে আক্রান্ত ছয় লাখের বেশি। করোনায় মারা গেছে ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে চীনের প্রতি পপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থসাহায্য বন্ধ করে দিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন বিল গেটসও।
তিনি বলেছেন, এমন হঠকারি সিদ্ধান্ত পুরো বিশ্বকেই বিপদে ফেলতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করেছে জাতিসংঘও। সংস্থাটির মহাসচিব বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকেকে অর্থসাহায্য বন্ধ করে দেয়ার কারণে যদি গবেষণায় কোনো প্রভাব পড়ে, তাহলে বিশ্বের কাছে সেটা মঙ্গলজনক নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তের কারণে ভাইরাস মোকাবিলায় সংস্থাটির মতা অনেক কমে যাবে।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25113 জন