ত্রাণের চাল চুরির মহোৎসব
মিঠাপুকুরে খাদ্যের দাবিতে ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে হতদরিদ্রদের অবস্থান ॥ হারাগাছে সড়ক অবরোধ
Published : Tuesday, 14 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 13.04.2020 9:41:16 PM
দিনকাল রিপোর্ট
ত্রাণের চাল চুরির মহোৎসবদেশজুড়ে করোনার এই মহাদুর্যোগে সরকারি ত্রাণ লুটপাটের মহোৎসব চলছে। গরিব ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করার জন্য সরকারের তরফ থেকে বরাদ্দকৃত চাল ও ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার চাল চুরির হিড়িক চলছে। অপরদিকে দলীয় বিবেচনায় সরকারি ত্রাণ দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী। জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সরকারি দল সমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মেম্বাররা জড়িত বলে গণমাধ্যমে একের পর এক খবর প্রকাশিত হচ্ছে। খোদ সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হলেও থেমে নেই লুটপাট। দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে অনিয়ম আর অভিযোগের শেষ নেই অনেক সরকার সমর্থিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ১০ টাকা কেজি দরের চাল নিয়ে ব্যাপক চালবাজি চলছে দেশজুড়ে। এসব ত্রাণ নিয়ে রয়েছে নয়-ছয় আর দলবাজিরও অভিযোগ। এমন প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন সরকারের নীতি-নির্ধারকরা। সরকারের ত্রাণ নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বলেছেন, প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাৎক্ষণিক বিচার করা হবে এসব অসাধু জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে করোনা দুর্যোগে বিপাকে পড়া দরিদ্র, অসহায়দের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত দুস্থদের না দিয়ে এসব ত্রাণ চলে যাচ্ছে অনেক নেতা ও জনপ্রতিনিধির নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে। বিশেষ করে গরিবের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া চালের বস্তা শোভা পাচ্ছে অনেক জনপ্রতিনিধির খাটের নিচে মাটির গর্তে। কোথাও কোথাও বাগান থেকে উদ্ধার হচ্ছে চালের বস্তা। গরিবের এসব চালের বস্তা পাওয়া যাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর গুদামে। গত ১০ দিনে সারা দেশে প্রায় হাজার হাজার বস্তা ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাল চুরির দায়ে ইতিমধ্যে ডিলার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় অনেক নেতার জেল-জরিমানারও খবর পাওয়া গেছে। আবার অনেকেই রয়েছেন পলাতক। অনেক স্থানে কিছু ত্রাণ ধরিয়ে দিয়ে ক্যামেরা, ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন অনেক জনপ্রতিনিধি। ত্রাণ নিয়ে ছবি তুলতে না চাইলে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে অভাবী মানুষের ওপর। এমন অভিযোগে গতকাল রবিবার কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মুখ দেখে দেখে ত্রাণ বিতরণ করায় ক্ষুব্ধ দুস্থদের ত্রাণ লুটের ঘটনাও ঘটেছে।
গত কিছু দিনে হাজার হাজার বস্তা ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগ তুলে ধরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীকে বাদ দিয়ে সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসিচব রুহুল কবির রিজভী একাধিকবার দলের পক্ষ থেকে এ আহবান জানান। ২০ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব) ড. অলি আহমদ বলেছেন, জাতির এই ক্রান্তিকালে যারা গরিবের হক মেরে খায় তারা দেশ ও মানবতার শত্রু। তাদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড দেয়া উচিত।  
এদিকে ত্রাণের চাল চুরির ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিভিন্ন মিডিয়া এবং ফেসবুকসহ সামাজিক গণমাধ্যমে এসব খবর আসছে প্রতিনিয়ত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালও (টিআইবি) ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রবিবার বরিশাল ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর প্রশাসনের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করে ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দেন। এ সময় ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম বা লুটপাটকারীদের প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাৎক্ষণিক সাজা দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। খেটে খাওয়া মানুষের ত্রাণ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে তারা যেই হোক তাদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে।
দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, করোনা ভাইরাসের চলমান এই দুর্যোগে অসহায় মানুষের ত্রাণ যারা আত্মসাৎ করে তাদের মানুষ বলা যায় না; এরা মানুষরূপী জানোয়ার। তিনি এদের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে ত্রাণ আত্মসাৎকারী জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নিতে সব জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানান।





 

 





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25180 জন