দরিদ্র মানুষের গ্রাস কেড়ে নেয়ার মহোৎসব চলছে : রিজভী
Published : Monday, 13 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 12.04.2020 9:27:11 PM
দিনকাল রিপোর্ট
করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন দরিদ্র মানুষের জন্য সরকার যে পরিমাণ চাল বিতরণ করছে তা মোটেও পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। অভিযোগ, চলছে চাল চুরির মহোৎসব। এমতাবস্থায় অবিলম্বে ত্রাণের চাল বিতরণের দায়িত্ব সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে দ্রুততার সাথে পরিচালনার দাবি দলটির। গতকাল রোববার নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ভিডি কনফারেন্সে এ দাবি জানান তিনি। সেই সাথে রাজনীতি ও ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।
রিজভী বলেন, করোনা ভাইরাসে থমকে আছে পৃথিবী। প্রতি সেকেন্ডে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে এই অতিক্ষুদ্র অদৃশ্য অনুজীব। মৃত্যু আলিঙ্গনের আতংকে প্রতিটি মানুষ। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বাংলাদেশে। গতকাল পর্যন্ত দেশের ৩১ জেলায় করোনার সংক্রমণ ছড়িয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন জেলা ও এলাকা সংক্রমণের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা বাড়ছে আশংকাজনকভাবে। এক ভয়ংকর অনিশ্চয়তা ঘিরে ফেলেছে জনজীবনকে। লকডাউনের কারণে সমগ্র দেশে কয়েক কোটি হতদরিদ্র এবং বেকার মানুষ অতিকষ্টে জীবনযাপন করছে। করোনার বিস্তার রোধে সবাই ঘরবন্দি হয়ে থাকায় দিনমজুর, ক্ষুদ্র কৃষক, শ্রমিকসহ গরিব মানুষের একটি বড় অংশ কর্মহীন। রোজগার বন্ধ হয়ে পেটে ভাত জোগানোই মুশকিল। তাদের এই কষ্ট লাঘবের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্পমূল্যে চাল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের মতো এতো বড় মহামারির মধ্যেও ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতিবাজরা ত্রাণ ও স্বল্পমূল্যের চাল আত্মসাৎ করছে। সরকারি হিসাবে দেশের খাদ্যগুদামগুলোতে ১৭.৫১ লাখ টন চাল মজুদ আছে। এই পরিমাণ চাল দিয়ে ৩/৪ কোটি মানুষকে ৬ মাস অনায়াসে খাওয়ানো সম্ভব। অথচ মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। ক্ষুধার জ্বালায় রাস্তায় পড়ে থাকছে। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকায় একটি হৃদয়বিদারক মর্মস্পর্শী ঘটনায় সবাই নির্বাক হয়ে গেছে, সেখানে আফরোজা খাতুন নামে এক শিশু ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে।
তিনি বলেন, সরকার যে পরিমাণ চাল বিতরণ করছে তা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসাবে যোগ হয়েছে চাল চুরির মহোৎসব। পত্র-পত্রিকা মিডিয়ায় প্রতিদিন যে পরিমাণ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছে তার চেয়েও চাল চোরের সংখ্যা বেশি। যেখানে কে বাঁচবে কে বাঁচবে নাÑ তার কোনো নিশ্চয়তা নেই, যেখানে জীবন এখন অনেক বেশি অনিশ্চিত সেখানে কী করে আওয়ামী লীগের লোকজন ত্রাণের মালামাল চুরি করে খায়? লোভ-লালসা এদের লজ্জা-শরম, বিবেক-বোধ সবকিছু অন্ধ করে দিয়েছে। জীবনবিনাশী করোনা ভাইরাসের আক্রমণ ও আওয়ামী লীগের চাল চুরি চলছে সমানতালে। দৈনিক কালের কন্ঠের খবরে বলা হচ্ছে, ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি না করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা থাকলেও এই করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে নেই ত্রাণের চাল চুরি। চাল চুরির ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই বেশি জড়িত। সারাদেশে গত ৯ দিনে অন্তত ২ হাজার ২৬৪ বস্তা সরকারি ত্রাণের চাল চুরির খবর পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন-করোনার চেয়েও আমরা বেশি শক্তিশালী। সেটিই প্রমাণিত হলোÑ করোনা রোগী শনাক্ত যতো ধরা পড়ছে তার চেয়েও বেশি ত্রাণের চাল চোর ধরা পড়ছে। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, এ পর্যন্ত পাথরঘাটা উপজেলায় ৫৫০ বস্তা, বগুড়ায় ১০০ বস্তা, নাটোরে ১৩ বস্তা, জয়পুরহাটে ৭ বস্তা, যশোরে ৮০ বস্তা, যশোরের মনিরামপুরে ৫৫৫ বস্তা, ঝিকরগাছায় ১ বস্তা, নওগাঁয় ৩৩৮ বস্তা, বাগেরহাটে ১৮ বস্তা, পটুয়াখালীতে ১০ বস্তা, ঝালকাঠিতে ৫০ বস্তা, সিলেটে ১২৫ বস্তা, ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১৬ বস্তা, সারিয়াকান্দি উপজেলায় ২৮৮ বস্তা, গাবতলী উপজেলায় ১০০ বস্তা, বগুড়ার শিবগঞ্জ ১৩ বস্তা চাল চুরির তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই চাল চুরি নিয়ে নতুন নতুন খবর আসছে। গতকাল প্রকাশিত যুগান্তরের খবরে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে সরকারি চাল আত্মসাতের বড় ঘটনা ঘটছে। বুধবার থেকে পূর্ববর্তী এক সপ্তাহে একটি সিন্ডিকেট বস্তা পাল্টে খোলাবাজারে অন্তত ২০ হাজার বস্তা সরকারি চাল বিক্রি করে দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। গত দুই সপ্তাহ ধরে পত্রিকার পাতাজুড়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চাল চুরির খবর প্রকাশিত হলেও এ পর্যন্ত কারো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির খবর আমরা পাইনি। যার কারণে এ লুটেরা গোষ্ঠী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এদের লাগাম এখনি টেনে ধরুন। না হলে জনগণ রুখে দাঁড়াতে বাধ্য হবে। জাতির এই ক্রান্তিকালে যারা গরিবের হক মেরে খায় তারা দেশের শত্রু এবং মানবতার শত্রু।
ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, অবিচার অনাচারের দুঃশাসনের জন্ম দেয়া হয়েছে আজ তার কুফল দেখতে পাচ্ছে সমগ্র জাতি। মরণঘাতী করোনা ভাইরাস যখন প্রতিটি রাষ্ট্র ও সমাজকে থমকে দিয়েছে তখন বাংলাদেশে চলছে দরিদ্র মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয়ার মচ্ছব। তারা দেশের এতো উন্নয়ন করেছে, বিশেষ করে বিদ্যুতের উন্নয়নে দেশ নাকি আলোয় ঝলমল করছে। অথচ এই করোনা দুর্যোগে বিদ্যুতের অভাবে করোনার কিট উৎপাদন করতে পারছে না গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।  ব্র্যাকের সাম্প্রতিক একটি জরিপ বলছে, দেশে চরম দারিদ্র্য অবস্থা আগের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।  প্রায় ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে খাবার নেই। ২৯ শতাংশ মানুষের ঘরে আছে মাত্র ১ থেকে ৩ দিনের খাবার। দেশ ‘উত্তম’ আয়ের নাকি ‘মধ্যম’ আয়ের, দেশের অবস্থা এখন ‘মিরপুর’ নাকি ‘সিঙ্গাপুর’ এখন এসব কাগুজে বিতর্কের সময় নয়। এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, প্রায় তিন কোটি মানুষের ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া। অথচ এর পরিবর্তে জনগণ দেখছে ভিন্ন চিত্র। কথায় বলে ‘কারো ঘর পোড়ে, কেউ আলু পোড়া খায়...’। অনেকেরই হয়তো মনে আছে, স্বাধীনতা-উত্তরকালেও একবার এমন সীমাহীন দুর্নীতি-দুর্ভিক্ষ-দুরাচারে পতিত হয়েছিল বাংলাদেশ। অনাহারী-বুভুক্ষু মানুষের সেই তীব্র যন্ত্রণা আর ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছিল কবি রফিক আজাদের কবিতায়।  তিনি লিখেছিলেন,
গাছপালা, নদী-নালা,
গ্রাম-গঞ্জ, ফুটপাত...
উড্ডীন পতাকাসহ খাদ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর গাড়ি
আমার ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেলনা নয় আজ
ভাত দে হারামজাদা, তা না হলে মানচিত্র খাবো।




তাই আমরা আবারও দাবি করছি, অবিলম্বে ত্রাণের চাল বিতরণের দায়িত্ব সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে দ্রুততার সাথে ত্রাণের চাল বিতরণ করুন। তাতে হয়তো হতদরিদ্র, বেকার শ্রমিকরা উপকৃত হবে এবং জনগণের মধ্যে স্বস্তি আসবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমরা দলীয়ভাবেও সারাদেশে সাধ্যমতো জনগণের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।  এটাই আমাদের প্রতি আমাদের দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশ। বিএনপি এবং বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও তাদের সাধ্যমতো জনগণের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর মতো পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বসে নেই। আপনারা  জানেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং ড্যাব-এর উদ্যোগে গত শুক্রবার থেকে দেশের ৮৪টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেছে। সাধ্যমতো এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। কর্মসূচির প্রাক্কালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘ডাক্তার নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী’দের উদ্দেশে বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ দলীয় কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধে উঠে এই মুহূর্ত থেকেই আমাদের প্রতিটি নাগরিককে একে অপরের সহায়তায় ভূমিকা রাখা এখন সময়ের দাবি।’  সুতরাং আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এখন রাজনীতি করার সময় নয়। এখন দলীয় স্বার্থের ঊর্ধে উঠে মানুষের সহায়তায় হাত বাড়ানোর সময়। আমাদের সময়মত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ার মাশুল হিসাবে করোনা তৃতীয় ধাপ অতিক্রম করছে। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। সামনে সর্বোচ্চ সতর্ক না হলে চতুর্থ ধাপে পৌঁছালে সেটা আর সামাল দেয়া যাবে না। অকল্পনীয় পরিণতি বরণ করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে বলে গতকাল আবারও বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেডরস আধানম গোগ্রিয়াসেস। তিনি বলেন, সব দেশকে অতিমাত্রায় সাবধান হতে হবে। তড়িঘড়ি করে লকডাউন প্রত্যাহার করা হলে করোনা পরিস্থিতির আরো ভয়াবহ পুনরুত্থান হবে। যা ঘটার সেটা তো ঘটেই গেছে। সামনের কঠিন সময়ে সরকারের নিজের মধ্যে সমন্বয় যেমন প্রয়োজন, তেমনি আসন্ন দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের একটি সমন্বিত কর্মপন্থাও প্রয়োজন। সরকারকে সবার আগে ভাবতে হবে, দীর্ঘস্থায়ী লকডাউনে কোটি কোটি রোজগারহীন মানুষের মুখে কিভাবে খাদ্যের যোগান দিবে। কোটি কোটি কর্মহীন শ্রমিকের বেতন কিভাবে নিশ্চিত করবে। দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের রেশন সুবিধা কখন নিশ্চিত করবে। আগামী মাসে ধান কাটার মৌসুমে ধান কাটার লোকের যোগান কিভাবে দিবে। গত বছর যেহেতু ধান কাটার লোকের অভাবে কৃষকরা ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। এমনটা যেন এই দুর্যোগের বছরে আর না হয়, সেটা এখন থেকেই নিশ্চিত করতে হবে। যেভাবে হুহু করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাই ডাক্তারদের সাথে বিতন্ডা পরিহার করে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতাল, বেড, ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, ওষুধ ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সকল বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ এখনই স্থগিত করে জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য খাতে সেই টাকা ব্যয় করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও প্রয়োজন সাপেক্ষে আর্থিক যোগান দিতে হবে। দেশে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় এখনও গতি আসেনি। নমুনা সংগ্রহে গলদ, ল্যাবগুলোর সক্ষমতা কাজে না লাগানোয় কাজটিতে গতিসঞ্চার হচ্ছে না। অধিকমাত্রায় পরীক্ষা না হওয়ায় করোনার ভয়াবহতা নিরূপণ করা যাচ্ছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দেশে সামাজিকভাবে ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরু হয়েছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই জানেন না, তিনি সংক্রমিত হয়েছেন এবং অন্যকে সংক্রমিত করছেন। যারা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন কিন্তু লক্ষণ বা উপসর্গ তেমন প্রকাশ পায়নি তাদের দ্রুত শনাক্ত করতে হবে। ভাইরাসটির ভয়াবহতা থেকে দেশকে রক্ষা করতে সকল ভেদাভেদ ভুলে একযোগে কাজ করতে হবে।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25158 জন