লকডাউন উপেক্ষা করে বেতনের দাবিতে  শ্রমিকদের বিক্ষোভ
Published : Monday, 13 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 12.04.2020 9:27:31 PM
দিনকাল রিপোর্ট
লকডাউন উপেক্ষা করে বেতনের দাবিতে  শ্রমিকদের বিক্ষোভবকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে সাভারে ১১টি কারখানার পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেছেন। গতকাল রবিবার সকালে সাভারের হেমায়েতপুর, ওলাইল, ফুলবাড়িয়া, রাজাসন ও আশুলিয়ার কাঠগড়ায়, জামগড়া, কবিরপুর, জিরাবো, নরসিংহপুর এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসেন। শ্রমিক নেতা সুজন বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ বেতন না দেয়ায় আমরা বিক্ষোভ করতে বাধ্য হচ্ছি। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ পাইনি, বেতনও না পেলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু  বলেন, ‘সাভার ও আশুলিয়ার ১১টি কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। সাধারণত ৭ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়। পোশাক শ্রমিকরা এখনো সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ পায়নি, যে কারণে তাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, শ্রমিকদের খাবার সংকট দেখা দিয়েছে, ঘর ভাড়া দিতে হবে। এ মুহূর্তে বেতন খুব প্রয়োজন। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, শ্রমিকরা বেতন পাবেন। কিন্তু কবে বেতন দেয়া হবে তা বলা হচ্ছে না। ইতিমধ্যে অনেকে বেতন না দিয়ে কারখানা বন্ধ করে গাঢাকা দিয়েছেন। যে কারণে শ্রমিকদের মধ্যে উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাভেদ মাসুদ বলেন, বেশ কয়েকটি কারখানায় বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা অবস্থান নিয়েছে। কিছু কিছু ছোট কারখানার মালিক ও কর্তৃপক্ষ গাঢাকা দিয়েছে। আমরা বিষয়গুলো দেখছি।’
এদিকে গাজীপুরে লকডাউন ভেঙে বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল রবিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে গাজীপুর মহানগরীর সাইনবোর্ড ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় দুটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। এদিকে অবরোধের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৩ মাসের বেতন না পেয়ে সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।
এ বিষয়ে নিউওয়ে ফ্যাশন লিমিটেডের নিটিং অপারেটর শাহিনা বেগম জানান, তারা দুই মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। কারখানা কর্তৃপক্ষ দেই-দিচ্ছি করে ঘুরাচ্ছেন। এখন আমাদের ঘরে খাবার নেই। বাড়িভাড়া ও দোকানে বাকি পড়েছে। পাওনাদারদের জন্য বাসা থেকে বের হতে পারছেন না। এর মধ্যে গাজীপুর লকডাউন করা হয়েছে। এমতাবস্থায় তাদের না খেয়ে থাকার উপক্রম হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকার যে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে তা কেবল যারা স্থানীয় ও গাজীপুরের ভোটার, তারাই পাচ্ছেন। অন্যরা কোনো ত্রাণ পাচ্ছেন না। তাই এখন বেতন না পেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমাদের না খেয়ে মরার উপক্রম। যানবাহন বন্ধ থাকায় সন্তানদের গ্রামের বাড়িতেও রেখে আসতে পারছি না। এদিকে অবরোধের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। টানা এক ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ থাকার পর মালিকপক্ষ ১৬ এপ্রিল বেতন পরিশোধের ঘোষণা দিলে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ তুলে নেন। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25157 জন