জামালপুরে ট্রাক আটকে ত্রাণ নিয়ে গেল হতদরিদ্ররা
Published : Monday, 13 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 12.04.2020 9:27:46 PM
জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরে ট্রাক আটকে ত্রাণ নিয়ে গেল হতদরিদ্ররাজামালপুর শহরের মুকন্দবাড়ি এলাকায় ট্রাক আটকে সরকারি ত্রাণের চাল ও আলু নিয়ে গেছে স্থানীয় কর্মহীন হতদরিদ্র মানুষ। গতকাল রবিবার (১২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জামালপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামাল পাশা জানিয়েছেন, রবিবার বেলা ১১টার দিকে সিংহজানী খাদ্য গুদাম থেকে ত্রাণের ৬শ’ প্যাকেট চাল ও ৬শ’ প্যাকেট আলু নিয়ে একটি ট্রাক বানিয়া বাজার আসছিল। শহরের মুকন্দবাড়ি এলাকায় কর্মহীন হতদরিদ্র নারী-পুরুষরা ট্রাক আটকিয়ে চাল ও আলু নিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রায় ১৫০ প্যাকেট ত্রাণ নিয়ে যায় তারা। পরে ত্রাণসামগ্রী বহনকারী ট্রাকটি সেখান থেকে দ্রুত চলে যায়।
জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখওয়াতুল আলম মণি বলেন, পৌরসভার ২, ৪ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মহীন দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য ১০ কেজি ওজনের ৬শ’ প্যাকেট চাল ও ৩ কেজি ওজনের ৬শ’ প্যাকেট আলু সিংহজানী খাদ্য গুদাম থেকে নেওয়ার পথে এ ঘটনাটি ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিক্ষুব্ধরা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বারবার ধর্না দিয়ে তারা রবিবার পর্যন্ত কোনও ত্রাণ পাননি। ক্ষুধার জ্বালায় তারা এই ত্রাণ  নিয়েছেন।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার এসআই জোছনা সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি শুনেছি তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনও অভিযোগ দেয়নি।
কুমিল্লায় চাল আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যানের ভাইয়ের ডিলারশিপ বাতিল : ইউপি মেম্বার আটক : কুমিল্লা প্রতিনিধি জানায়, গরিবের চাল আত্মসাতের অভিযোগে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৩নং সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারের বড় ভাই আব্দুল কুদ্দুস সরকারের ওএমএস’র ডিলারশিপ বাতিল করেছে প্রশাসন। একই সাথে ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. আব্দুল মান্নান মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আটক করা হয়।




সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুবিল ইউনিয়নে ওএমএস’র চাল বিক্রয় করা হচ্ছে কিন্তু সাধারণ ক্রেতারা চাল পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোনে জানালে তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার কবিরাজকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্মতা উত্তম কুমার কবিরাজের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি টিম বৃহস্পতি ও শুক্রবার তদন্তে নামেন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সরেজমিনে স্থানীয়দের যতজনের সাথে সাথে কথা বলেছেন তারা কেউ ১০ টাকা কেজি দরে চাল পাননি। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও তদন্ত টিম প্রধান উত্তম কুমার কবিরাজ জানান, এলাকায় তদন্তে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে মনে হলো ওএমএস’র চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে ওই ইউনিয়নরে কেউই অবগত নন। প্রতি ইউনিয়নে উপকারভোগী ৫ শত জন ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও এ ইউনিয়নের কেউ পেয়েছেন তা জানেনই না। এমনকি এ কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারী ৫ শত জনের একটি কার্ডও গ্রাহকের কাছে পৌঁছেনি। কার্ডধারীরাও জানে না ওরা ওএমএস তালিকাভুক্ত আছেন। এ ব্যাপারে সুবিল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মান্নান মোল্লাকে আটক করে ওএমএস’র কার্ডগুলো গ্রাহকদের কাছে পৌঁছান নাই কেনÑ জানতে চাইলে তিনিও ওই কার্ড সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। প্রমাণ করার জন্য তাকে নিয়ে ওএমএস ডিলারের বাড়িতে গেলে সে পালিয়ে যায়। পরে মেম্বারকে থানাপুলিশের হেফাজতে রেখে আসি। ওই কর্মসূচির আওতায় পূর্বেও কাউকে চাল দেয়া হয়নি।
সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার বলেন, এক মেম্বার যাদের কার্ড তাদের চাল না দিয়ে বেশি অভাবীকে দিয়ে দিয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এখানে মেম্বার ও ডিলারের বিষয়, আমি কোনো অনিয়মের সাথে জড়িত নই।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। উপকারভোগীদের কার্ডগুলো কোথায় এবং কার কাছে সেগুলো উদ্ধার করে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবো। যাতে চলমান বিতরণকৃত চাল থেকে তারা বঞ্চিত না হন। তিনি আরো জানান, অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকেও গ্রাহকদের কাছে কার্ড পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছি। এখন শুনছি তারাও কার্ডগুলো বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন। গরিবের চাল পাওয়া বিষয়টি নিশ্চিত করতে যা করার তাই করা হবে। এ বিষয়ে কোনো আপোস নেই।





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25154 জন