সন্ধ্যা ৬টার পর বের হলেই ব্যবস্থা
Published : Saturday, 11 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 10.04.2020 9:41:21 PM
দিনকাল রিপোর্ট
করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে সন্ধ্যা ৬টার পর ঘরের বাইরে বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গতকাল শুক্রবার চলমান সাধারণ ছুটি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পাঁচটি নির্দেশনা পালনের শর্তে ১৫ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ১১ দিন ছুটি বাড়ানো হয়েছে। করোনার কারণে সরকার প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। পরে তা দুই দফায় বাড়িয়ে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। এবার চতুর্থবারের মতো ছুটি বাড়ল। এ ছুটি অন্যান্য সাধারণ ছুটির মতো বিবেচিত হবে না। ছুটিকালীন পাঁচটি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে। নির্দেশনায় বলা হয়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রশমনে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হলো। ‘সন্ধ্যা ছয়টার পর কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবেন না। এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করা হলো জানিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিভাগ/জেলা/উপজেলা/ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনের ল্েয নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে হবে।
২৫ এপ্রিল পর্যন্ত  সাধারণ ছুটি : সরকার সাধারণ ছুটির মেয়াদ চতুর্থ দফায় বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করেছে। এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি দেয়া হয়েছিল। এরপর ছুটি বাড়িয়ে তা ১১ এপ্রিল করা হয়। ছুটি তৃতীয় দফা বাড়িয়ে করা হয় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এখন চতুর্থ দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ল।
এদিকে ঢাকা মহানগীরর সকল বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল শুক্রবার এই ঘোষণা দেয়া হয়। সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে দে?শের সব পোশাক কারখানাও আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাক?বে। পোশাক মালিকদের বড় দু?টি সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শুক্রবার সংগঠন দুটির প থে?কে এ তথ্য জানা?নো হ?য়ে?ছে। বিকেএমইএ এর সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান এবং বিজিএমই’র সভাপতি ড. রুবানা হকের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের ছুটির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ’র সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহ আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে বেতন দেওয়ার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অফিস খোলা রাখার প্রয়োজন হলে সেেেত্র স্ব স্ব অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ/বিকেএমইএ) এবং শিল্প পুলিশকে জানাতে হবে।
অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি অফিসে সাধারণ ছুটির মেয়াদ ২৫ এপ্রিল (সাপ্তাহিক ছুটিসহ) পর্যন্ত বাড়ানো হলেও শিাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কারণ সরকারি ছুটির মেয়াদ যখন শেষ হবে চাঁদ দেখা সাপেে ওই সময় থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। আর রমজান মাসে সাধারণত শিাপ্রতিষ্ঠান ছুটি থাকে। চাঁদ দেখা সাপেে ২৪ বা ২৫ এপ্রিল থেকে পবিত্র রমজান শুরু হবে। অবশ্য শিা মন্ত্রণালয় গতাল শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, সাধারণ ছুটি অনুযায়ী, ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত শিাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে। কিন্তু ইতিপূর্বে ঘোষিত শিাপঞ্জি অনুযায়ী, পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতরসহ আরও কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে ২৫ এপ্রিল থেকে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি থাকবে। সুতরাং পরিবর্তিত অবস্থায় ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না হলে শিাপ্রতিষ্ঠান খুলবে ঈদের পর।
পোশাক কারখানাও ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ : মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের সব পোশাক কারখানাও আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পোশাক মালিকদের বড় দুটি সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়ার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার সংগঠন দুটির প থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিকেএমইএ’র সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান এবং বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হকের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের ছুটির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ’র সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহ আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে বেতন দেয়ার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অফিস খোলা রাখার প্রয়োজন হলে সেেেত্র স্ব স্ব অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ/বিকেএমইএ) এবং শিল্প পুলিশকে জানাতে হবে।
ঈদের আগে শিাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না : বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় শিাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, রোজার ছুটির সঙ্গে বর্তমানের ছুটি মিলিয়ে ঈদের পর সব শিাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। অর্থাৎ করোনার প্রকোপে শিাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী ৩০ মে পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় শিার্থীদের পড়াশোনায় তি পুষিয়ে নিতে নানা ধরনের পদপে নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিার্থীদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে টেলিভিশনে পাঠদানের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এ ব্যাপারে শিা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, আমাদের এখনকার অগ্রাধিকার হচ্ছে বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে শিার্থীদের সুরা। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি হলে য়তি পর্যালোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। দেশে কোভিড-১৯ রোগের প্রকোপ বাড়তে থাকায় অফিস-আদালত ও চলাচল বন্ধ রেখে ঘরে থাকার মেয়াদ আরেক দফায় বাড়ানো হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা গতকাল শুক্রবার দুপুরে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি বাড়ানো হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন হয়ে এলেই আদেশ জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর আগে দেশের সব শিাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার ১৭ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীাও স্থগিত করা হয়। অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণার পর সব শিাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এদিকে সাধারণ ছুটি আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ল। অবশ্য এখনো এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেয়া হয়েছিল। এরপর ছুটি বাড়িয়ে তা ১১ এপ্রিল করা হয়। ছুটি তৃতীয় দফা বাড়িয়ে করা হয় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চতুর্থ দফা ছুটি বাড়ানো হয়েছে। দেশে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তের পরীা বাড়ছে, বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাও। এই পরিস্থিতিতে সরকার ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসে সরকার। বাতিল হয়েছে পহেলা বৈশাখের সরকারি আয়োজনও। এদিকে একদিনে আরও ছয়জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নভেল করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৭ জন। আর গতকাল শুক্রবার বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় সারা দেশে ১১৮৪ জনের নমুনা পরীা করে আরও ৯৪ জনের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাতে আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪২৪ জন। গত একদিনে নতুন করে কারও সুস্থ হওয়ার খবর আসেনি। এখন পর্যন্ত মোট ৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফোরা দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনাও উপস্থিত ছিলেন ব্রিফিংয়ে।















প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25151 জন