লকডাউন বেড়েছে আক্রান্তও বাড়ছে
Published : Thursday, 9 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 08.04.2020 9:49:02 PM
দিনকাল রিপোর্ট
লকডাউন। মরণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশব্যাপী চলছে লকডাউন। কোথাও প্রশাসন, কোথাও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই পদপে গ্রহণ করা হচ্ছে। ঢাকার প্রায় ৫২ এলাকায় এ পর্যন্ত সহস্রাধিক বাড়ি লকডাউন করেছে পুলিশ। তারপর কেউ কেউ বাধানিষেধ উপো করেই বিনা কারণে বাসার বাইরে যাচ্ছেন। আড্ডা দিচ্ছেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পুরান ঢাকার লালবাগে গত মঙ্গলবার এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঘটে। তারপরই লালবাগের বড় ভাট মসজিদ এলাকার শতাধিক বাড়ি লকডাউন করেছে প্রশাসন। ওই এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ। বাইরের কাউকে ওই এলাকায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। একইভাবে ওই এলাকার কাউকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে পিকআপভ্যানে করে মাইকিং করছে পুলিশ। এছাড়া চকবাজারের খাঁজে দেওয়ান রোড এক ও খাজে দেওয়ান রোড দুই এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। চকবাজার থানার ওসি মওদুত হাওলাদার জানান, ওই এলাকার মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি সমাজে চলাচল করেছেন এবং বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন। ওই লেনের এক নারী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই দুটি ঘটনায় খাঁজে দেওয়ান লেনে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে ধারণা করে ওই লেনের এক ও নম্বর দুই নম্বর গলি লকডাউন করা হয়েছে। দুটি গলিতে দুই শতাধিক ভবন রয়েছে বলে জানান ওসি।
মিরপুরের টোলারবাগ আবাসিক এলাকা এখনো লকডাউন আছে। ওই এলাকায় অর্ধশত বাড়ি রয়েছে বলে দারুসসালাম থানার ওসি জানান। গত মঙ্গলবার টোলারবাগের এক নম্বর গেটে গিয়ে দেখা গেছে, বাধা মানছেন না অনেকেই। পুলিশি বাধা ডিঙ্গিয়ে ওই এলাকা থেকে বের হচ্ছেন অনেকে। মঙ্গলবারও করোনা সন্দেহে ওই এলাকার একটি ভবনের ছয় জন বাসিন্দার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া মিরপুর এলাকার তিনটি বাড়ি লকডাউন করা আছে। এর মধ্যে মিরপুর-এক নম্বর এলাকায় দুটি ভবন ও একটি টিনশেড বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। সেখানে এক পরিবারে দুজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
গত রবিবার মিরপুর-এক নম্বর ওভারব্রিজ সংলগ্ন গলির ওই তিনটি বাড়ি লকডাউন করা হয়। তাৎণিকভাবে জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। এসব বাড়িতে প্রায় ৩০টি পরিবার বসবাস করে। পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার ফিরোজ কাওসার জানান, একটি পরিবারের দুজন সদস্য জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। নমুনা পরীায় করোনা শনাক্ত হয় তাদের। রবিবার দু জনকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া পল্লবীতে তিনটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। কোনো কোনো এলাকায় নিজেদের সুরার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছেন এলাকাবাসীই। বাসাবো এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে লকডাউন করেছেন স্থানীয়রা। বাঁশ বেঁধে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। সুরা ব্যবস্থা নিয়ে রাস্তায় পাহারা দিচ্ছেন কয়েক যুবক। বাইরের কাউকে ওই এলাকায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। গত সোমবার থেকে এলাকাবাসীর উদ্যোগে চলছে এই লকডাউন। একইভাবে উত্তর বাসাবোর সাত নম্বর সড়ক এলাকা লকডাউন করেছে এলাকাবাসী। এ এলাকায় একজন পুরুষ ও একজন নারী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ওই এলাকায় কয়েক শ ভবন রয়েছে। এছাড়া সূত্রাপুরে দুটি ও প্যারিদাস লেনে একটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। রবিবার সবুজবাগ থানার দণিগাঁও এলাকায় নয়টি ভবন লকডাউন করেছে পুলিশ। ওই এলাকায় দুই পরিবারের সাতজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া জিরো গলি নামে একটি গলি লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। ওই গলিতে অনেকগুলো বাড়ি রয়েছে। ওই এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। গতকাল বিকালে দণিগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পিকআপভ্যানে টহল দিচ্ছে পুলিশ। মাইকিং করে সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েক গাড়িকে ওই এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে।
তেজগাঁওয়ে নয়টি ভবন লকডাউন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-কমিশনার (ডিসি) বিজয় বিপ্লব তালুকদার। ওদিকে ভাটারা আবাসিক এলাকার পাঁচ নম্বর সড়কের বি-ব্লকের একটি বাড়ির নারী বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে ওই ভবনটি লকডাউন করা হয়েছে। একইভাবে মোহাম্মদপুর এবং আদাবরের ছয়টি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। এসব এলাকায় পাঁচ শতাধিক বাড়ি রয়েছে। ওই এলাকার কয়েকজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গত মঙ্গলবারই বাসাগুলো চিহ্নিত করে এসব এলাকা লকডাউন করা হয়। এর মধ্যে কৃষি মার্কেটের সামনে, তাজমহল রোড মিনার মসজিদ এলাকা, রাজিয়া সুলতানা রোড, বাবর রোড, বছিলা ও আদাবর এলাকার বেশকিছু বাড়ি রয়েছে। এসব এলাকার রাস্তায় লাল ফিতা, লাল পতাকা টানিয়ে দেয়া হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে যান চলাচল। ওয়ারী এলাকায় সাতটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। ওয়ারী জোনের কদমতলীর মুরাদপুরের একটি বাড়ি, শনিরআখড়ায় একটি বাড়ি, বনগ্রামে একটি ভবন, রেংকিং স্ট্রিটে একটি বাড়ি, গেন্ডারিয়ার গুরুদাস লেনের একটি বাড়ি, যাত্রাবাড়ীর মিরহাজীরবাগের একটি বাড়ি ও ডেমরার ধার্মিকপাড়ায় একটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। বংশালে করোনা আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে গত মঙ্গলবার। তাৎণিকভাবে ওই এলাকার ফুলবাড়িয়ার পশু হাসপাতাল রোডের একটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, জনস্বার্থে বিপুল বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। সঠিক সংখ্যা নেই। তবে সহস্রাধিক বাড়ি হবে বলে জানান তিনি।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য মতে, সারাদেশে বুধবার পর্যন্ত প্রায় ২০টি জেলায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
করোনা ভাইরাসে এখন সবচেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি রাজধানী ঢাকাতে। ঢাকায় বুধবার পর্যন্ত সর্বমোট ১২৩ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।
এ প্রোপটে সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশে জরুরিভিত্তিতে রাজধানীর ৫২টি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকার লকডাউন এলাকাগুলো হলো- মিরপুরের টোলারবাগ, খাজে দেওয়ান লেনের ২০০ ভবন, মোহাম্মদপুর, আদাবরের ৬টি এলাকা, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সামনে, তাজমহল রোড মিনার মসজিদ এলাকা, রাজিয়া সুলতানা রোড, বাবর রোডের একাংশ, বছিলা ও আদাবর, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, মহাখালীর আরজতপাড়ার একটি ভবন, বসুন্ধরা এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা, বসুন্ধরা ডি ব্লকের রোড-৫, বুয়েট এলাকার একাংশ, ইস্কাটনের দিলু রোডের একাংশ, উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের একটি সড়ক এলাকা, কাজীপাড়ার একাংশ, সেন্ট্রাল রোডের কিছু অংশ, সোয়ারীঘাটের কিছু অংশ, মিরপুর-১০-এর ৭ নম্বর রোড, পল্টনের কিছু অংশ, আশকোনার কিছু অংশ, নয়াটোলার একাংশ, সেনপাড়ার একটি অংশ, মীর হাজিরবাগের একাংশ, নন্দীপাড়ার ব্রিজের পাশের এলাকা, মিরপুর সেকশন ১১-এর একটি সড়ক, লালবাগের খাজে দেওয়ান রোডের একটি, ধানমন্ডি-৬’এর একটি অংশ, উত্তর টোলারবাগ, মিরপুর-১৩ ডেসকো কোয়ার্টার, দণি যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী, পশ্চিম মানিকনগর, নারিন্দার কিছু এলাকা, গ্রিন লাইফ হাসপাতাল এলাকা, ইসলামপুরের একাংশ।
এছাড়াও সারাদেশে কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত করা জেলাগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ৪৬, মাদারীপুরে ১১, গাইবান্ধায় ৫, জামালপুরে ২, মানিকগঞ্জে ৩, চট্টগ্রামে ৩, নরসিংদীতে ৪, টাঙ্গাইলে ২, কুমিল্লায় ২, ঢাকা সিটির পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ৫ জন আক্রান্ত হয়েছে।
আরো নীলফামারী, রাজবাড়ী, রংপুর, শরীয়তপুর, শেরপুর, সিলেট, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, কক্সবাজার ও চুয়াডাঙ্গায় ১ জন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, সারাদেশে বুধবার পর্যন্ত কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত সন্দেহে সর্বমোট নমুনা পরীা করা হয়েছে দুই হাজার ২৭১ জনের। এর মধ্যে শুধু গতকাল পরীা করা হয়েছে ৬৭৯ জনের নমুনা।
গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ৫৪ জন আক্রান্তসহ সারাদেশে সর্বমোট আক্রান্ত এখন ২১৮ জন ও মৃত্যু হয়েছে মোট ২০ জনের। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩ জন।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণে বাংলাদেশে রোজই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। গত




কয়েক দিনের মধ্যে গতকাল সব থেকে বেশি সংখ্যক আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে।
আতঙ্কের বিষয় হলো বাংলাদেশ এখন কোভিড-১৯ ‘এ মৃতের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। এই হার আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25192 জন