করোনা উপসর্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে
Published : Wednesday, 8 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 07.04.2020 11:47:39 PM
আবদুল্লাহ জেয়াদ, দিনকাল
করোনায় আক্রান্ত নানা উপসর্গে সারাদেশে গতকাল মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ১৫ জন। এদের অধিকাংশের বাড়ি প্রশাসন লকডাউন করে দিয়েছেন। আমাদের প্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এক দিনের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে এবং গতকাল সকালে ও দুপুরে পৃথক ৩টি এলাকায় মারা যান তারা। সোমবার দিবাগত রাত ১২টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থার মারা যান নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া মাসুদা প্লাজার মালিক চৌধুরী মুহাম্মদ হাসান।
এদিকে গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় সঙ্গীত জগতের আলোচিত মুখ ‘হিরো লিসান’ করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। তার প্রকৃত নাম খাইরুল আলম হিরো (৩০)। দেওভোগ এলাকার বাসা থেকে তার মৃতদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজনের বাধায় সেটা ফেলে রেখেই চলে যান চালক। ওই সময়ে পরিবারের লোকজনও আসেনি ধরতে। দীর্ঘক্ষণ পর তার মরদেহ দাফনের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়াও দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শহরের মিশনপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান মারা যান। মিশনপাড়া এলাকার জলিল মিয়ার ছেলে সিদ্দিকুর রহমান কয়েকদিন ধরেই জ্বর, ঠান্ডা, সর্দি, ব্যথাসহ করোনা উপসর্গে ভুগছিলেন।
কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, গতকাল দুপুরে লাশ আইইডিসিআরের তত্ত্বাবধানে খিলগাঁওয়ের তালতলা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পুরো শহর লকডাউন করা হয়েছে। যার জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির পরিবারের ৬ জন সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেকোন প্রয়োজনে আমাদের জানালে আমরা তাদের সহযোগিতা করবে এ মর্মে আমাদের ফোন নাম্বারও দিয়ে আসা হয়েছে।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বিকপাশা গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে রাবেয়া আক্তার কলি নামে ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ছাড়াও সে কিডনি সমস্যায় ভুগছিলো বলে তার পরিবার জানিয়েছে। এদিকে ওই শিশুর সংস্পর্শে থাকা খালাতো ভাই নয়ন (১৬) জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ওই বাড়িটি লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বাড়িতে বসবাসকারী ১২ জনকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। এতে বিকপাশা গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকায় করোনা উপসর্গে মায়ের মৃত্যুর পর কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নে সন্তানদের দুটি বাড়ি লকডাউন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এর আগে রবিবার রাত ১১টার দিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৬৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। পরে সোমবার তার সন্তান পরিবার নিয়ে বুড়িচংয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের ওই বাসিন্দা তার মাকে নিয়ে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় বসবাস করেন। তার মায়ের করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে একইদিন রাতে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার শরীর থেকে নেয়া নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ ফলাফল এসেছে। মায়ের মৃত্যুর পর সোমবার তিনি পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমকর্তা ডা: মীর হোসেন মিঠু জানান, আমরা খবর পেয়ে গতকাল দুপুরের দিকে ওই গ্রামে এসে ঢাকা থেকে আসা ওই ব্যবসায়ীসহ তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠাই। আজ বুধবার তার ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের শরীরের আলামত সংগ্রহ করা হবে। পরে ওই ব্যববসায়ী ও তার ভাইয়ের দুটি বাড়ি লকডাউন করা হয়। বুড়িচং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক জানান, যতদিন ওই দুটি বাড়িতে লকডাইন থাকবে, ততদিন থানা পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি বাড়িতে প্রয়োজনীয় খাদ্য-সামগ্রী সরবরাহ করা হবে।
খুলনার রূপসা উপজেলায় জ্বর, সর্দি ও কাশিতে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।  সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে মারা যান তিনি। রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আনিসুর রহমান জানান, জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত ওই বৃদ্ধা এক সপ্তাহ আগে তার নাতির সাথে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। তিনি তথ্য গোপন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নেন। পরে সোমবার রাতে তিনি মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে মারা গেছেন। সিভিল সার্জন ডা: সুজাত আহমেদ জানান, মৃত বৃদ্ধা ও তার নাতির নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হবে। রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আকতার জানান, যারা ওই নারীর সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাদেরকে দ্রুত হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে।
টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ও আওয়ামী লীগের এক নেতা করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। সোমবার তার মৃত্যু হয় ও বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় তার বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না, তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি গোপালপুর উপজেলা আ. লীগের নেতা ছিলেন। এছাড়া তিনি টাঙ্গাইল আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলীম আল রাজী বলেন, তিনি হৃদ্রোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তাকে সোমবার সকালে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বজনেরা নিয়ে আসেন। এসময় তাকে মৃত অবস্থায় পান চিকিৎসকেরা। তিনি রবিবার স্থানীয় একজন ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। ওই ফার্মাসিস্টের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তার শ্বাসকষ্টসহ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার নানা উপসর্গ ছিলো। তাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন ওই ফার্মাসিস্ট। এসব বিষয়কে বিবেচনা করে নমুনা সংগ্রহ করা ও বিশেষ ব্যবস্থায় দাফন কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে। গোপালপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মৃতের বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ওই বাড়ি থেকে কেউ যেন বের না হন এবং অন্য কেউ যেন বাড়িতে প্রবেশ না করেন, তার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ফরিদপুরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে সত্তরোর্ধ্ব দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ফমেক) আইসোলেশনে ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. সিদ্দিকুর রহমান জানান, এদের মধ্যে একজন জ্বর, নিউমোনিয়া এবং কিডনি জটিলতা নিয়ে শনিবার ফমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে আইসোলেশন ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, শ্বাসকষ্ট ও লিভারের সমস্যা নিয়ে মারা যান অপরজন। সিভিল সার্জন বলেন, দুই ব্যক্তি কোভিড-১৯ পজেটিভ কি না তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এদিকে, সরকারি নির্দেশনা মেনে নিজ নিজ এলাকায় দু’জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় নিরাপদ দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মৃতদের বাড়ির আশপাশের ৬-৭ ঘরের লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
 নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আরও এক যুবকের (৪০) মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় ওই বাড়িটিসহ আশপাশের সাতটি বাড়ি লকডাউন করেছে প্রশাসন। সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার গোহালাকান্দা ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জের কিসমত বারেগা এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। এর পর ওই ব্যক্তির মৃতদেহের কাছে স্বজনসহ কাউকে যেতে দিচ্ছে না পুলিশ।
প্রশাসন সূত্র জানা গেছে, ওই ব্যক্তি গত বুধবার থেকে হঠাৎ করে জ্বর ও কাশি সমস্যায় ভুগছিলেন।
তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। খবর পেয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকরা সোমবার সকালে তার রক্ত সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু রাত পৌনে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় ওই বাড়িটিসহ আশপাশের সাতটি বাড়ি স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন করা হয়।
পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ওই যুবকের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করেছে। এ কারণে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নির্দেশে সাতটি বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। আর মৃতদেহের কাছে কাউকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পোশাক পরে মৃতদেহ দাফন করা হবে। জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, ওই ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা নমুনা পরীক্ষার পর জানা যাবে। এর আগ পর্যন্ত ওই বাড়িটিসহ আশপাশের সাতটি বাড়ি লকডাউন থাকবে।
করোনা সন্দেহে সিলেট নগরের শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম (৮৯) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ নিয়ে এই হাসপাতাল আইসোলেশনে তিন রোগী মারা গেলেন।
শহীদ ডা. শমসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সুশান্ত কুমার মহাপাত্র বলেন, বায়োবৃদ্ধ ওই নারীকে নগরের নুরজাহান হাসপাতাল থেকে সোমবার দুপুরে শ্বাসকষ্টের কারণে আইসোলেশনে আনা হয়। মৃত নারী করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। তিনি ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্যানেলের মতে তার করোনার কোনো লক্ষণ নেই। যে কারণে পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। নিহতের মরদেহ স্বজনরা দাফনের জন্য নিয়ে গেছেন।
কিশোরগঞ্জে বাজিতপুর ও করিমগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। শ্বাসকষ্ট, কাশি ও জ্বর নিয়ে মারা যাওয়া একজন হলেন আমরু মিয়া (৫০)। তিনি বাজিতপুর উপজেলার দিলালপুর ইউনিয়নের তাতালচর গ্রামের সবুর মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক। অপরজন করিমগঞ্জ উপজেলার মুসলিমপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রাশিদের ছেলে সেলিম মিয়া (৫০)। তিনি ঢাকায় মুদি দোকানি ছিলেন। সর্দি, জ্বর ও কাশি নিয়ে কিছুদিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, আমরু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। সোমবার তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়। গতকাল সকাল সোয়া ৯টার দিকে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান। তাকে আইসোলেশনে নেয়ার পর পরই তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
অন্যদিকে, করিমগঞ্জ উপজেলার করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত সেলিম মিয়া সর্দি, কাশি ও জ্বর নিয়ে ঢাকা থেকে নিজ বাড়ি মুসলিমপাড়া গ্রামের বাড়িতে আসেন। কিন্তু অসুস্থতার কথা পরিবারের লোকজন গোপন করে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করান। পরে অবস্থা অবনতি হয়ে রবিবার রাতের শেষ ভাগে মারা যায়। পরিবারের লোকজন পরদিন সকালে তা প্রকাশ করেন।
এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যুর পর এলাকাবাসী কেউ দেখতেও আসেনি। এলাকাবাসীর ধারণা, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা এসে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। মৃত দুই পরিবারের লোকজনকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে জানান উপজেলা প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, মৃত দুজনের নমুনা সংগ্রহ করে গতকাল সকালে ঢাকায় মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ (আইপিএইচ) এ পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একদিনে শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-জ্বরে তিন জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে ওই নারীর মৃত্যু হয়। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের একজন ও ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার ২ জন শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা ভাইরাস শনাক্তের জন্যে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এরইমধ্যে নমুনা সংগৃহীত তিনজনের মধ্যে এক নারী মারা যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হুদা খান জানান, মৃত ওই নারীর বাড়ির সকলকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তিনি আরো জানান, গত তিনদিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মোট ৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৪ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ নেই বলে রিপোর্ট পাওয়া গেছে।
শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের পূর্বসাহেব গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। এ ঘটনার পর চৌডালা ইউনিয়নকে লকডাউন করা হয়েছে। মৃত যুবকের নাম মোজাম্মেল (৪৫)। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর এলাকায় কৃষিকাজে (ধান কাটতে) গিয়েছিলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এই প্রথম করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুর রহমান (গোমস্তাপুর সার্কেল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মোজাম্মেল মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা থেকে সোমবার বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে ফেরেন। গতকাল সকালে মরদেহ দাফনের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এ জন্য পিপিই ও মরদেহ দাফনের সিকিউরিটি ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। মৃত মোজাম্মেলের পরিবারের সদস্যদেরও আলাদা রাখা হয়েছে। এছাড়া মোজাম্মেলের সঙ্গে আসা এরান ওরফে ইরান নামে অপর এক ব্যক্তিকে আলাদা রাখা হয়েছে। তবে তার শরীরে এখনও করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়নি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, মোজাম্মেল বাড়িতে ফিরেই নিজেকে একটি ঘরে আবদ্ধ করে ফেলেন। মৃত্যুর আগে তিনি ঘর থেকে বের হননি।




একজন স্বাস্থ্যকর্মীর বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, মৃতের শরীরে জ্বর ও গলাব্যথা ছিল। তবে সর্দি বা শ্বাসকষ্ট ছিল না। উপজেলার সব প্রবেশ পথ ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। খাদ্যশস্যবাহী পরিবহন ছাড়া সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল থেকে গোমস্তাপুর উপজেলার সব ইউনিয়নকেও বিচ্ছিন্ন করা হয়। মৃত ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সারোয়ার জাহান।
উল্লেখ্য, দেশে এ পর্যন্ত ১৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের ৮৪ জনই ঢাকায় আক্রান্ত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন আইইডিসিআর এর পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে এনিয়ে দেশে মোট মারা গেছেন ১৭জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৩জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২০ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে সর্বোচ্চ নারায়ণগঞ্জে ১৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25176 জন