করোনার কারণে ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা আইএমএফের
Published : Monday, 6 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 05.04.2020 9:38:46 PM
দিনকাল রিপোর্ট
করোনার কারণে ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা আইএমএফের২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার  চেয়ে করোনা ভাইরাস মহামারিতে তৈরি হওয়া মন্দা ‘আরও খারাপ’ বললেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান। তার মতে ‘এটি অন্য যে কোনো সংকটের চেয়ে তীব্র’। আইএমএফ মহাব্যবস্থাপক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, ‘আইএমএফের ইতিহাসে আমরা কখনোই বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থবিরতার মুখোমুখি হতে দেখিনি।’ অর্থনীতিতে করোনার বড় ধরনের প্রভাব পড়বে শঙ্কা আইএমএফ প্রধানের, ‘আমরা এখন মন্দার মধ্যে আছি। এটা  বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের চেয়েও খারাপ এবং এমন একটি সংকট, যেখানে আমাদের সকলকে একত্রিত হওয়া দরকার। জর্জিয়েভা আরো বলেছেন, ৯০টি দেশ এরই মধ্যে জরুরি অর্থায়নের জন্য সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি যোগ করেছেন, অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ভঙ্গুর দেশগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
করোনার ছোবলে আরেকটি মন্দার মুখে বিশ্ব অর্থনীতি
করোনা ভাইরাস সঙ্কটকে ঘিরে সোমবার বিশ্বজুড়ে অস্থির হয়ে উঠেছিল শেয়ার আর তেলের বাজার। এই ঘটনাকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ‘অশনি সংকেত’ হিসাবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপ, এশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া- প্রতিটি অঞ্চলের শেয়ার বাজারে বিরাট ধস দেখা গেছে। অন্যদিকে তেলের উৎপাদন আরও বাড়াতে সৌদি আরবের এক তরফা সিদ্ধান্তের ফলে তেলের দাম পড়ে গেছে প্রায় বিশ শতাংশ। বিশ্ব পুঁজিবাজারে সোমবার দিনভর এই অবস্থার পর দিনটিকে ‘ব্ল্যাক মানডে’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে দাম পড়ে যায় প্রায় সাত শতাংশ। এই বিরাট ধসের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেখানে শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে এশিয়া এবং ইউরোপের শেয়ার বাজারেও দেখা গেছে একই পরিস্থিতি। কেউ কেউ শেয়ারবাজারে যা ঘটছে তাকে ‘রক্তগঙ্গা’ বয়ে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করছেন। ২০০৯ সালে বিশ্ব জুড়ে যে আর্থিক সংকট দেখা গিয়েছিল, তারপর এরকম বিপর্যয় আর শেয়ার বাজারে দেখা যায়নি।
কী ঘটছে শেয়ার বাজারে:
অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু করে এশিয়া, ইউরোপ এবং আমেরিকার সব বড় বড় স্টক এক্সচেঞ্জে সারাদিন ধরে একের পর এক ধস নেমেছে। সোমবার ল-নের শেয়ার বাজারে ফুটসি ওয়ান হান্ড্রেড সূচক কমে গিয়েছিল ৮ দশমিক চার শতাংশ। এই সূচকের ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ পতন। এর আগে ১৯৮৭ সালে দুবার আর ২০০৮ সালে একবার এত বিরাট দরপতনের ঘটনা ঘটেছে। ইউরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে যখন লেন-দেন শুরু হয়, সেখানেও দেখা গেল একই চিত্র। যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বড় সূচকে বিরাট ধস নামে। তেলের বাজারেও দেখা গেছে একই রকম অস্থিরতা। সোমবার একদিনেই তেলের দাম প্রায় তিরিশ শতাংশ কমে ৩১ ডলারে নেমে আসে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর একদিনের মধ্যে তেলের দাম আর কখনো এতটা কমেনি। এরপর অবশ্য তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে।
কেন এই অস্থিরতা:
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের অর্থনৈতিক সংবাদদাতা অ্যান্ড্রু ওয়াকার বলছেন, বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কারণেই এতটা অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্ব অর্থনীতি। বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, তার বিরূপ প্রভাব পড়ছে অর্থনীতি আর ব্যবসা-বাণিজ্যে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউনের কারণে যানবাহন বন্ধ থাকায় তেলের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো তেলের দাম স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ওপেক চাইছিল তেলের উৎপাদন কমিয়ে দাম ঠিক রাখতে। কিন্তু রাশিয়ার মতো দেশগুলো, যারা ওপেকের সদস্য নয়, তারা এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। তখন হঠাৎ করে সৌদি আরব, যারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক, নিজেরাই তেলের উৎপাদন অনেক বাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোকে সমস্যায় ফেলে দেয়া। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ায় তেলের উৎপাদন খরচ বেশি, অল্প দামে বেশিদিন তারা তেল বিক্রি করতে পারবে না। এসবের সম্মিলিত ফল দাঁড়ায় শেয়ার বাজারে অস্থিরতা। তেলের দাম কমলে সেটা হয়তো ভোক্তাদের জন্য সুখবর। যেসব এয়ারলাইন্স এখন যাত্রীর অভাবে বিরাট সংকটে পড়েছে, তাদের দুর্দশাও কিছুটা লাঘব করবে তেলের বাজারে এই ধস।
মন্দার পদধ্বনি?




করোনা ভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার সূচনা করতে পারে বলে অনেকে আশংকা করছিলেন, শেয়ারবাজারে অস্থিরতাকে তারই আভাস বলে বর্ণনা করছেন তারা। অস্ট্রেলিয়ায় একটি মন্দার আশংকা প্রবল হয়ে উঠেছে। চীনের অর্থনীতি আর ব্যবসা-বাণিজ্যে যে মারাত্মক বিঘœ ঘটিয়েছে করোনা ভাইরাস, তার পরিণাম কী হতে পারে, সেটার হিসেব-নিকেশ চলছে। এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা মোটেই ইতিবাচক কিছু নয়। ইউরোপের দেশগুলোতে করোনা ভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়েছে মাত্র। চীন যেরকম কঠোরভাবে এই সংকট দমন করেছে, ইউরোপ তা পারবে কীনা, তা নিয়েও সংশয় আছে। সব মিলিয়ে বিষেশজ্ঞদের আশঙ্কা, চলদি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে আরেকটি মন্দার সূচনা করতে পারে। নানা কারণে তাদের এই আশঙ্কা আরও জোরদার হচ্ছে।  
সূত্র : বিবিসি বাংলা






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25177 জন