নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ১৮ জন : ১ জনের মৃত্যু
Published : Monday, 6 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 05.04.2020 9:39:01 PM
দিনকাল রিপোর্ট
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বিগুণ বেড়ে ১৮ জন করোনা ভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বাধিক ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জে। একজন মাদারীপুরের। গতকাল  রবিবার নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন আইইডিসিআরের পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন। বাকিরা ঢাকার বাইরে শনাক্ত হয়েছেন। দেশে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৮৮ জন।
মীরজাদী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৯ জনের দাঁড়িয়েছে। শনিবার মারা যাওয়া ব্যক্তির বয়স ৫৫। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তিনি বলেন, বর্তমানে করোনা আক্রান্ত ৪৬ জন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বাসায় অবস্থান করেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের লক্ষণ মৃদু। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৩৩ জন। করোনার ক্লাস্টার পর্যালোচনা তুলে ধরে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, এখন পর্যন্ত ঢাকার বাসাবোতে সর্বাধিক ৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর দ্বিতীয় সর্বাধিক আক্রান্ত ক্লাস্টার মিরপুরের টোলারবাগে ৬ জন। বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় ১১ জন আক্রান্ত। করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন আছে। তবে সেটা ক্লাস্টারভিত্তিক ট্রান্সমিশন। এখন এটা যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য জনসমাগম এড়িয়ে চলুন।
রাজধানীর মিরপুর ও বাসাবোতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে রোগী বেশি না’গঞ্জ, গাইবান্ধা ও মাদারীপুরে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা বলেছেন, রাজধানী ঢাকার মিরপুর ও বাসাবো এলাকায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। মিরপুরে ১১ জন এবং বাসাবোতে ৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল রবিবার অনলাইনে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, আপনারা জানেন মিরপুরের টোলারবাগে একজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল, সেখানে আরও ৬ জন করোনায় আক্রান্ত হন। পুরো মিরপুরে এখন ১১ জনের শরীরে করোনার নমুনা পাওয়া গেছে। এছাড়া বাসাবোতে ৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।




তিনি বলেন, নতুন আক্রান্তরা সবাই ক্লাস্টারের (একজন রোগীকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের সবার আক্রান্ত হওয়া) অংশ। সংস্পর্শে এসে তারা আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে ১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা ক্লাস্টার পেয়েছি নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, গাইবান্ধা, ঢাকার বাসাবো এবং মিরপুরে। আইইডিসিআর পরিচালক আরো বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় ১৪টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৩৬৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১৮ জনের মধ্যে ১৩ জনকে আইইডিসিআরে শনাক্ত করা হয়। বাকি পাঁচজনকে অন্যান্য হাসপাতালে শনাক্ত করা হয়। তিনি বলেন, মোট চিকিৎসাধীন ৪৬ জন যাদের মধ্যে ৩২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আর বাকি ১৪ জন বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১৮ জনের মধ্যে ১২ জন ঢাকার, পাঁচজন নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুরে একজন। যিনি মারা গেছেন তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ ও বয়স ৫০ বছর।
*** এদিকে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ অতিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়লে তা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি এ কথা জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘চীনের উহানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে ওই সময়েই আমরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে তা আমরা আস্তে আস্তে জানতে পারছি। প্রতিদিন-প্রতি সপ্তাহে আমাদের নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। আমরা আসলে জানি না এই পরিস্থিতি কবে নাগাদ শেষ হবে।’ ‘তবে এই সংক্রমণ অতিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়লে আমাদের প্রস্তুতিতে তা মোকাবিলা করা অসম্ভব। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার যে কথা বলা হচ্ছে তা মেনে চলতে হবে। প্রত্যেকের অধিকার আছে নিজেকে রক্ষা করা। কারও যদি সন্দেহ হয় আপনি আক্রান্ত, আপনারও দায়িত্ব আছে অন্যকে রক্ষা করার।’ ব্যক্তি পর্যায়ে যার যার দায়িত্ব আছে তা পালন করার আহ্বান জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি। ডিজি বলেন, ‘আমরা গত তিন মাস ধরে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছি। আমরা শরীরে ও মনে ক্লান্ত। এ অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করব সে বিষয়ে কাজ করছি।’






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25178 জন