দেশের ১০ জেলায় করোনা উপসর্গে ১১ জনের মৃত্যু
Published : Sunday, 5 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 04.04.2020 10:06:23 PM
দিনকাল রিপোর্ট
দেশের ১০ জেলায় করোনা উপসর্গে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ২ শিশু, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য, চাঁদপুরের মতলবে এক নারী, নেত্রকোনায় এক দিনমজুর, নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক যুবক, ভোলার চরফ্যাশনে এক শিশু, বগুড়ায় ছেলের বাড়ি বেড়াতে এক বৃদ্ধ, নাটোরে এক ব্যক্তি ও পটুয়াখালীতে এক ব্যক্তি ও মৌলভীবাজারের রাজনগরে একজনের মৃত্যু হয়েছে।  প্রতিনিধিদের
পাঠানো খবরÑ
লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে করোনা উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ২টি বাড়ির ৯টি পরিবারকে লকডাউনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে উপজেলার তোরাবগঞ্জ গ্রামে দুই বছর তিন মাস বয়সী এক শিশু খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যায়। অপরদিকে একই উপজেলার চর মার্টিন গ্রামে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ বছরের এক শিশু জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে আনলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। কমলনগর উপজেলার আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, করোনা উপসর্গ থাকায় তাদের দুইজনেরই মৃতদেহের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে জানা যাবে তারা করোনা আক্রান্ত ছিল কি-না।
ঝিনাইদহ : কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় করোনার উপসর্গ সর্দিজ্বর ও কাশিতে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম এনামুল হক সুজা (৫৯)। গতকাল শনিবার ভোরে শহরের পুরান পশুহাট নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। সুজার মৃত্যুর পর ওই এলাকার মানুষের মধ্যে করোনা আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে সুজার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, চিকিৎসক ও পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়েছিল। এছাড়া গতকাল ভোরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তা ডা. আ. রশীদের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল দল তার বাড়িতে গিয়ে মৃতদেহের নমুনা সংগ্রহ করেছে। ডা. আ. রশীদ বলেন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে গত শুক্রবার গভীর রাতে এনামুল হক সুজার বাড়িতে গিয়ে কাশি ও বমির চিকিৎসা দিই। কয়েক দিন আগে ফরিদপুরে থাকার পর বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তার পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা চিকিৎসকের কাছে রোগের কথা চেপে রাখেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজনীন সুলতানা জানান, প্রশাসনের উপস্থিতিতে পৌর কবরস্থানে সুজার মরদেহ দাফনের প্রক্রিয়া চলছে।
চাঁদপুর : চাঁদপুরের মতলব উত্তরে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই এলাকার তিনটি বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে স্থানীয় প্রশাসন বাড়ি তিনটি লকডাউন ঘোষণা করে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন ওই নারী। গতকাল রাতে জ্বর, সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি মারা যান। মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান মিথেন বলেন, চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশে মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত ওই তিন বাড়ি লকডাউন থাকবে। চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘ওই নারী কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।’ চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, ‘মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা মরদেহ নিয়ম অনুযায়ী দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। সেই অনুসারে তার দাফন হয়েছে।’
নেত্রকোনা : নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলায় গতকাল শনিবার ভোরে করোনা উপসর্গ নিয়ে নৃপেন্দ্র দাস নামের (৫৫) এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিব ভূঁইয়া শ্মশানঘাট থেকে মৃতের শরীর হতে নমুনা সংগ্রহ করেন। উপজেলার ভারপ্রাপ্ত টিএইচও ডা. মাশরুর সিয়াম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, নৃপেন্দ্র ঢাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কাজ করতেন। গত ২০ থেকে ২৫ দিন পূর্বে বড়হাটি গ্রামে ভাতিজার বাড়িতে তিনি একা এসেছেন বলে তাদের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে। তারা আরো জানায়, তিনি যক্ষ্মার রোগী ছিলেন। কিন্তু যক্ষ্মার কোনো কাগজপত্র আমরা পাইনি। হাসপাতালেও কোনো রেকর্ড নেই। যেখানে থাকতেন হয়তো সেখানে চিকিৎসা করিয়েছেন। তবে সর্দিকাশি ও জ্বর নিয়ে তিনি একাই এসেছিলেন। পরবর্তীতে কমে আবার বেড়ে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হয়ে তিনি মারা গেছেন। কিন্তু তারা জানিয়েছেন সকাল সাড়ে নয়টায়।  ডা. মাশরুর সিয়াম বলেন, পরে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তিনি ভোরেই মারা গেছেন। সাথে সাথে নমুনা সংগ্রহ করি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় আমরা প্রসেস করে রেখেছি রবিবার (০৫ এপ্রিল) সকালের মধ্যে সিভিল সার্জন অফিসে পাঠাবো। গতকাল শনিবার সকাল ১০ টায় পূর্বের দিনে দুজনের নমুনা পাঠিয়েছি। এদিকে ওই বাড়ি ও আশপাশের কয়েকটা বাড়ি লকডাউন করে রাখা হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, গত ২০ দিন পূর্বে তিনি ঢাকা থেকে সর্দি-জ্বর নিয়ে আসেন। এরপর এভাবেই কমে বেড়ে গিয়ে গতকাল শনিবার ভোরে মারা গেলে প্রতিবেশীসহ সকলের সন্দেহ হয়।  সিভিল সার্জন মো. তাজুল ইসলাম বলছেন, নমুনা পরীক্ষার পর বোঝা যাবে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি-না।
নীলফামারী : সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্দিকাশি ও জ্বরে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম রেজাউল করিম। তবে করোনা ভাইরাসে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা এলাকাবাসীর। গত শুক্রবার বিকালে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ওই যুবককে মৃত ঘোষণা করেন। রেজাউল করিম শহরের নয়াটোলা মহল্লার ব্যবসায়ী। গতকাল শনিবার হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আরিফুল হক সোহেল জানান, রেজাউল করিমকে তার স্বজনরা বিকালে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে এর আগেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। এ অবস্থায় মরদেহ ফিরিয়ে নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। পরিবারের লোকজন জানান, ৬-৭ দিন ধরে সর্দিজ্বরে ভুগছিলেন রেজাউল। স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. শহীদুজ্জামান জানান, আমরা জেনেছি ওই ব্যক্তি সাত দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। ফলে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেছি। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাসিম আহমেদ জানান, সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। তারা একটি সনদ তৈরি করছেন। আসলে এটা করোনা ভাইরাস পজিটিভ না। কাজেই নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন নেই।
ভোলা : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার নজরুলনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই শিশুর নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য গত শুক্রবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে (শেবাচিম) প্রেরণ করা হয়েছে। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন এই ঘটনার পর আশপাশের আটটি বাড়ি লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছেন। দক্ষিণ আইচা থানার ওসি হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, পরিবারের মাধ্যমে জানতে পেরেছি হঠাৎ ঠান্ডা লেগে শ্বাসকষ্টে শিশুটি মারা যায়।
বগুড়া : বগুড়ায় ছেলের বাড়ি বেড়াতে এসে শ্বাসকষ্টসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে আকবর আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বগুড়া স্বাস্থ্য বিভাগ তার নমুনা সংগ্রহ করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হচ্ছে। আকবর আলী গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থেকে ১০-১২ দিন আগে শ্বাসকষ্ট ও কাশি নিয়ে বগুড়া শহরে তার ছেলের বাসায় এসেছিল। বগুড়া সদরের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই বৃদ্ধ ১০-১২ আগে তার ছেলের বাড়ি এসেছিলেন। গতকাল শনিবার বেলা ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। যেহেতু তার মধ্যে করোনা উপসর্গ ছিল সে কারণে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
নাটোর : নাটোরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি-না পরীক্ষার জন্য রক্ত সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। নাটোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান জানান. কাফুরিয়া গ্রামের এক ব্যক্তি (৫৫) জ্বর, সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয়। সংবাদ পেয়ে নাটোর হাসপাতালের একটি দল তার শরীরের রক্ত সংগ্রহ করেছে। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।




পটুয়াখালী : পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামে গতকাল শনিবার ভোরে রফিক হাওলাদার (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিজ বাড়িতে করোনা উপসর্গে মারা গেছেন। তিনি কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি, হাঁচি-কাশিসহ করোনা উপসর্গে আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল শনিবার সকালে স্থানীয়ভাবে জানাজা শেষে স্বাভাবিক নিয়মে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে অবহিত করলে তারা জানান, স্ট্রোকে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ওই বৃদ্ধের মৃত্যুতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ নির্বিকার থাকায় এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মৌলভীবাজার : রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারের রাজনগরে করোনার লক্ষণ নিয়ে একজনের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, তার মধ্যে প্রকট কোনো লক্ষণ ছিল না। খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থলে যায় এবং মৃতের পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকে র‌্যাপিড রেসপন্স টিমের সদস্যরা ওই মৃত ব্যক্তি ও স্ত্রীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন অফিসে পাঠিয়েছেন। উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের এক ব্যক্তি (৪৫) জ্বর-সর্দি নিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে মৃত ওই ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে র‌্যাপিড রেসপন্স টিম মৃতের শরীর ও তার স্ত্রীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। সংগৃহিত নমুনা পরীক্ষার জন্য সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হচ্ছে। তবে মৃত ব্যক্তির মধ্যে প্রকট কোনো লক্ষণ ছিল না বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বর্ণালি দাস।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25365 জন