করোনা উপসর্গে বিভিন্ন স্থানে তরুণী যুবক ছাত্রসহ ৬ জনের মৃত্যু
Published : Saturday, 4 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 03.04.2020 9:37:22 PM
দিনকাল রিপোর্ট
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এক তরুণী (২৮) গত বুধবার মারা গেছেন। একই দিন তার ভাবিরও জ্বর ও কাশি শুরু হয়। এতে ভয় পেয়ে পরিবারের সদস্যরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ওই তরুণীর ভাবির নমুনা সংগ্রহের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে বিষয়টি জানায়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তার নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায় স্বাস্থ্য বিভাগ। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর উদ্দিন রাশেদ গতকাল রাতে  বলেন, ‘মারা যাওয়া ওই তরুণীর যে লণ ছিল, তার ভাবিরও একই লণ দেখা দিয়েছে। তাই তাকে সাসপেক্টেড ধরে নিয়ে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।পরিবারটির বরাত দিয়ে স্থানীয় কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য  বলেন, কয়েক দিন ওই তরুণী জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই তরুণী মারা যান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপ তাকে মৃত ঘোষণা করে। ওই ইউপি সদস্য আরও বলেন, ওই তরুণীর পরিবারের কেউ বিদেশ থেকে আসেননি। আতঙ্কে থাকায় তরুণীর ভাবির নমুনা সংগ্রহের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছেন তিনি। গতকাল বিকেলে অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে ওই তরুণীর ভাবির নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে হাসপাতাল কর্তৃপ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায়  বলেন, মারা যাওয়া ওই তরুণীর নমুনা সংগ্রহ করা ছাড়াও আরও একজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের নমুনা পরীার জন্য সীতাকু-ে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে শুক্রবার পরীার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। প্রতিবেদনে মারা যাওয়া ওই তরুণীর ভাবির করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীার ফলাফল পজিটিভ এলে পরবর্তী পদপে নেওয়া হবে।
জ্বরে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু : সাতীরায় আতঙ্ক
সাতীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের নারাণপুর গ্রামে হাছান (১৮) নামে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী জানায়, গত সপ্তাহব্যাপী ওই কলেজ ছাত্র জ্বরে ভুগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় মারা যায়। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে বেশ আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কলেজ ছাত্রের মা রোজিনা খাতুন জানান, গত ৬-৭ দিন ধরে হাছানের জ্বর ছিল। তেমন খাওয়া দাওয়া করতে পারেনি। পরে স্থানীয় গ্রাম ডাক্তারের কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে খাওয়ানো হয় কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। অতপর বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তার গাল দিয়ে রক্ত বের হয়।
দেখা গেছে, মা ও বাবার ছাড়া লাশের পাশে কেউ নেই। ভয়ে লাশ দেখছে না এলাকাবাসী। এবং গ্রাম পুলিশ ওই বাড়িতে কাউকে ঢুকতেও দিচ্ছে না। কিছু দূরে তার পরিবারের সদস্যরা বসে আছে। সিভিল সার্জন জানান, নমুনা সংগ্রহের জন্য একটি মেডিকেল টীম ওই বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে।
তাহিরপুরে সর্দি-জ্বরে গামেন্ট কর্মীর মৃত্যু  
 সর্দি, জ্বর, কাশিতে আক্রান্ত হয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় জহিরুল নামে এক গার্মেন্টস কর্মী মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় তাকে তার নিজ গ্রামের গোরস্থানে দাফন করেছে স্বজনরা।
এর পর থেকে মৃতের বাবা, মাসহ ৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। জহিরুল (২২) উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের কাফিল উদ্দিনের ছেলে।
জহিরুলের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, জহিরুল (২২) দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার গাজীপুর এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিল। গত সপ্তাহ খানেক ধরে জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হলে সেখানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার তার মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ গাজীপুর থেকে সিলেট কোম্পানীগঞ্জের বালুচর গ্রামের কুলসুমা (২৬) ও মালিক উস্তার (১৬) নামে দুজন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাহতাবপুর গ্রামে নিয়ে আসে। এর পর পরেই তার লাশ দাফন করে স্বজনরা।
খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকগণ মাহতাবপুর গ্রামে গিয়ে জহিরুলকে যারা গাজীপুর থেকে বাড়ি নিয়ে এসেছে এবং লাশ ধোয়ানোর কাজে যারা ছিল, জহিরুলের পিতা কফিল উদ্দিন (৫০), মা তাসলিমা (৩৫), স্বজন আব্দুল মনাফ (৭৫),আবুল বাদশা (৩৫), গাজীপুর থেকে লাশ নিয়ে আসা কুলসুমা (২৬), মালিক উস্তার (১৬)কে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী গণমাধ্যমকে বলেন, সংবাদটি জানার পরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ও তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেন।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডাঃ ইকবাল হোসেন জানান, ঢাকায় যোগাযোগ করেছেন। তারা নির্দেশনা দিয়েছেন লাশের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগামী দুই সপ্তাহ হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে।
গৌরনদীতে শ্বাসকষ্টে দিনমজুরের মৃত্যু, করোনা সন্দেহে ২ মহল্লা ‘লকডাউন’
শ্বাসকষ্টে এক দিনমজুরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে করোনা সন্দেহে গতকাল শুক্রবার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের উত্তর বিল্বগ্রাম গ্রামের কাগজীকান্দি ও সালেহবাগ মহল্লা ‘লকডাউন’ করা হয়েছে। মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মহল্লা দুটিকে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালেহবাগ মহল্লার প্রয়াত মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে দিনমজুর মো. হাসান ফকির (৫০) বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শ্বাসকষ্টে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে এলাকায় করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর সঠিক কারণ শনাক্ত ও মহল্লাটি লকডাউন করার দাবি জানায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বলেন, ‘স্থানীয় আতঙ্কিত লোকজনের চাপের মুখে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আমি ওই গ্রামের দুটি মহল্লাকে লকডাউন ঘোষণা করেছি। তবে যতটুকু জেনেছি তাতে আমার মনে হচ্ছে, ওই ব্যক্তি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে মারা যাননি। শুনেছি, ছোটবেলা থেকেই তিনি অ্যাজমাজনিত শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। পাশাপাশি তিনি যক্ষ্মায়ও আক্রান্ত ছিলেন। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সহায়তায় তিনি যক্ষ্মার চিকিৎসাও করিয়েছেন। তারপরও এলাকাবাসী বলে আসছে- সম্প্রতি ঢাকা থেকে ওই বাড়িতে বেশ কয়েকজন কর্মজীবী লোক এসেছে। তাদের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে তার বাড়ি সংলগ্ন কাগজীকান্দি ও সালেহবাগ মহল্লা দুটিকে লকডাউন করা হয়েছে।’
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাজেদুল হক কাওছার বলেন, ‘করোনার বিষয়টি শ্রেফ গুজব। ওই ব্যক্তি ছোটবেলা থেকেই অ্যাজমাজনিত শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। আমাদের ধারণা- করোনা নয়, অ্যাজমাজনিত শ্বাসকষ্টে তার মৃত্যু হয়েছে। এরপরও এলাকাবাসীর দাবির মুখে আমরা তার মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এনেছি। টেস্টের জন্য এখন তা ঢাকায় পাঠানো হবে। ঢাকা থেকে রিপোর্ট পেলে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
মাগুরায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন
মাগুরার মহম্মদপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপজেলার কলমধারী এলাকার বাকি মিয়া (৪৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
এ খবর জানার পর পরই মৃতের বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, বাকি মিয়ার বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করে স্থানীয়দের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া রোগীর সংস্পর্শে থাকা প্রত্যেককে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে।
লকডাউনের নির্দেশ অমান্য করলে তাৎণিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বাকি মিয়ার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।




মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও কাজী আবু আহসান জানান, বেশকিছু দিন ধরে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন বাকি মিয়া। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ভাইরাস সন্দেহে ভর্তি করে আইসলোশনে রাখা হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু হাসপাতালের জরুরি ওয়ার্ডে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মকছেদুল মোমিন বলেন, বিশেষভাবে ওই রোগীকে হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। তার করোনা ভাইরাস পরীার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে জানানো হয়েছে।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25196 জন