বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত সাড়ে ৮ লাখ মৃত্যু ৪৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে
Published : Thursday, 2 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 01.04.2020 10:34:35 PM
দিনকাল ডেস্ক
ভয়াবহতার সীমারেখা পার করছে মারণ ভাইরাস করোনা। ভারত তথা বিশ্বের বহু দেশে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুও। করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়ে মৃত্যু হল কমপক্ষে ৪৩ হাজার মানুষের। আক্রান্ত  লাখেরও বেশি। মঙ্গলবার রাত ২ টো-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী করোনা কেড়ে নিয়েছে ৪৩ হাজার ৫১৯ জনের প্রাণ। ১৮০টি দেশে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮ জন। একমাত্র আন্টার্টিকা মহাদেশ ছাড়া অন্য সর্বত্র পরিস্থিতিটা একই। তবে খারাপের মধ্যে ভালো খবর দিচ্ছে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি। তাঁদের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, এখন পর্যন্ত এই করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৮৪ হাজার ৭৩৭ জন। ২০১৯-এর শেষের দিকে চিনে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। এরপর সারা বিশ্বে লহমায় ছড়িয়ে পড়ে এই এই ভাইরাস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৪৫২ জন। এরপরেই তালিকায় রয়েছে ইতালি, আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ৫ হাজার ৭৯২ জন। ইতালির পরেই ইউরোপের আরেক দেশ স্পেনের অবস্থান। দেশটি এখন পর্যন্ত মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৪ হাজার ৪১৭ জন।  করোনার মৃত্যুমিছিলে প্রায় শ্মশান হওয়ার পথে ইতালি। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১২ হাজার ৪২৮ জন। অন্যদিকে স্পেনে মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ২৬৯ জন। পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপ থেকে খারাপতর হয়ে উঠছে উভয় দেশেই। ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৫২৩ জন। সে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৫২ হাজার ৮১৯ জন। অন্যদিকে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৬১১ মৃত বেড়ে ৪৭ সবেচেয়ে বেশি ১০ জন মারা গিয়েছে মহারাষ্ট্রে সব মিলিয়ে ক্রমেই ভারত বন্দি হয়ে পড়ছে করোনার ঘেরাটোপে।
ইতালিতে আতঙ্কের এক মাস : ইতালিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ হাজার ৫৯১ জন। তাদের জন্য মঙ্গলবার পতাকা অর্ধনমিত রেখে এক মিনিট নীরবতা পালন করল দেশটি। ৬ কোটি মানুষের দেশটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এত মৃত্যু আর দেখেনি। সেই মৃত্যুমিছিল এক মাসে পা দিলো। তাই আলাদা করে শোক পালন করল গোটা দেশ। ফেব্রুয়ারির একেবারে শেষে ইতালির উত্তরের শহর মিলানে প্রথম করোনা-আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছিল। রোমের মেয়র ভার্জিনিয়া রাজ্জি মঙ্গলবার নীরবতা পালনের পরে বলেছেন, ‘‘ওই ভাইরাস গোটা দেশে যে ক্ষত তৈরি করেছে, তাতে কষ্ট পাচ্ছেন সবাই। আমরা সকলে মিলে এই সময়টা পেরিয়ে যাব।’’ খবর আনন্দবাজারের। এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশে লকডাউন বাড়ানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বেলজিয়ামে করোনা ভাইরাসের মারা গেছে ১২ বছরের একটি মেয়ে। সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়। এর বেশি কিছু জানাতে চায়নি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ‘‘একটা শিশুর জীবন যখন জড়িয়ে যায়, তখন বিষয়টা খুবই স্পর্শকাতর হয়ে যায়।’’ ক্রমশ জটিল হচ্ছে আমেরিকার পরিস্থিতি। একটি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সেখানে স্বাস্থ্য সরঞ্জামের চাহিদা তুঙ্গে পৌঁছবে। মেরিল্যান্ডের গভর্নর ল্যারি হোগান জানিয়েছেন, বাড়িতে থাকার নির্দেশ অমান্য করলে জেলে পুরে দেয়া হবে। তবে নিউ ইয়র্কে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যার হার ধীরে হলেও কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে গভর্নর আ্যান্ড্রু কুয়োমো। আক্রান্তের নিরিখে আমেরিকায় এখনো নিউ ইয়র্কই শীর্ষে। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক পুলিশের দফতরে ১১৯৩ জন আক্রান্ত বলে জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কাজের দেখভাল করছেন যিনি, সেই চিকিৎসক ডেবোরা বার্ক্স বলছেন, এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমেরিকায় প্রতিদিন ২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাবে। তারই দাবি, ১৫ এপ্রিলে পৌঁছে হাসপাতালে ২ লাখ ২৪ হাজার শয্যার প্রয়োজন হবে আমেরিকার। ধরে নেয়া হচ্ছে, আগামী মে মাস পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অগস্ট পর্যন্ত ধরলে এখানে মৃতের সংখ্যা ছুঁতে পারে ৮২ হাজার। আপাতত আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার পেরিয়ে গেছে। সারা বিশ্বে সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত এখন এখানেই। মারা গেছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ। রোগীদের পরীক্ষা করার হার আরও বাড়াতে হবে বলে মঙ্গলবার দাবি তুলেছেন হাউস স্পিকার এবং ডেমোক্র্যাট নেত্রী ন্যান্সি পেলোসি। আপাতভাবে শরীরে করোনার লক্ষণ নেই, অথচ সেই ভাইরাস শরীরে রয়েছে, এমন রোগীদের বুধবার থেকে খুঁজে বার করা চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। কারণ যারা এই ভাইরাসের ‘ক্যারিয়ার’ অথচ যাদের কোনো লক্ষণ নেই, তারা মারণ-ভাইরাসটি ছড়ানোর ক্ষেত্রে বেশি মারাত্মক। মনে করা হচ্ছে, চীনে নতুন করে যতটা সংক্রমণ ফের ছড়িয়েছে, সেটা এ ভাবে বাইরে থেকে আসা অনেকের মাধ্যমে হচ্ছে, যাদের শরীরে রোগের উপসর্গ বোঝা যাচ্ছে না।
এশিয়ায় করোনা কত দিন থাকবে? জানালো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, করোনা মোকাবেলায় এশিয়া মহাদেশীয় অঞ্চলে নেয়া পদক্ষেপগুলো কেবল ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করছে। এতে করে গণসংক্রমণ ঠেকানোর জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় পাওয়া যাচ্ছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, করোনা ভাইরাস মহামারি শেষ হতে এখনো বহু দেরি আছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব কথা জানা গেছে। ২০১৯ সালের শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে শুরু হওয়া এ করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৮ লাখেরও বেশি। আক্রান্তের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও স্পেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক তাকেশি কাসাই বলেছেন, ‘এত সব পদক্ষেপ নেয়ার পরও মহামারি চলাকালে এ অঞ্চলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবেই।’ ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কাসাই বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে জানতে চাই, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ মহামারি শেষ হতে এখনো অনেক দেরি। এটি একটি দীর্ঘকালীন যুদ্ধ হতে যাচ্ছে। আমরা কিছুতেই অসতর্ক হয়ে বসে থাকতে পারি না। বড় ধরনের গণসংক্রমণ রোধ করতে সব দেশকে প্রস্তুত হতে হবে।’ প্রশান্ত অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর মতো সীমিত সম্পদ বিশিষ্ট দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন কাসাই। যেসব দেশে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, তারা অসতর্ক হলে আবারো ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। ডব্লিউএইচওর টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ম্যাথিউ গ্রিফিথ বলেন, ‘কোনো দেশ নিরাপদ থাকবে, এমনটা মনে করে না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কারণ করোনা ভাইরাস সব জায়গায়ই পৌঁছে যাবে।’ সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ দিয়ে গ্রিফিথ বলেন, ‘এ অঞ্চলে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমতে থাকলেও বিদেশফেরত কেউ নতুন করে সেটি বহন করে আনতে পারে। মহামারির কেন্দ্র এখন ইউরোপ হলেও একসময় তা অন্য স্থানে শুরু হতে পারে’।
করোনা : ‘খুবই বেদনাদায়ক’ সপ্তাহের জন্য মার্কিন নাগরিকদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাগরিকদের উদ্দেশে বলেছেন, আসন্ন ‘খুবই বেদনাদায়ক’ সপ্তাহের জন্য প্রস্তুত হতে। হোয়াইট হাউজে দেয়া বক্তব্যে করোনা ভাইরাস মহামারিকে তিনি ‘একটি প্লেগ’ বলে বর্ণনা করেন। দেশটিতে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। আসন্ন কয়েক সপ্তাহে দেশটিতে আড়াই লাখ মৃত্যু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন সময় এসব কথা বলছিলেন মি. ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্রে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে চব্বিশ ঘন্টায় কোভিড-১৯ এ মারা গেলো ৮৬৫ জন। দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৩,৮৭০ জন, যা প্রাদুর্ভাবের প্রথম কেন্দ্র চীনে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যার চেয়ে বেশি। এরকম পরিস্থিতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন আর কোনো ‘সুগার কোটেড’ বা তিক্ত কথায় মিষ্টির প্রলেপ দিতে চাইছেন না বলে মনে করছেন বিবিসির বিশ্লেষকরা। ফলে তিনি ইষ্টারের উৎসবের এই মৌসুমে কোন মিরকলের কথা বলছেন না, যার মাধ্যমে কোন এক ঐশী  ক্ষমতাবলে ভালো হয়ে যাবে করোনা ভাইরাস মহামারি, আর ব্যবসা বাণিজ্যও খুলে দেয়া যাবে, বলছেন বিবিসির অ্যান্থনি জারকার। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, “আসন্ন দুটি সপ্তাহ হতে যাচ্ছে খুব, খুবই বেদনাদায়ক”। এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাথে তুলনা  করছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। অ্যান্তনিও গুতেরেস বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাস। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে এই ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে যেই মন্দা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে সেরকমটা ‘সম্ভবত নিকট অতীতে দেখা যায়নি।’ সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের ফলে আর্থ সামাজিক অবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এই মন্তব্য করেন মি. গুতেরেস। সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪১ হাজারের বেশি মানুষের। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রে অবরোধ পরিস্থিতির ওপর আরো কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে, যার ফলে প্রতি চারজন নাগরিকের তিনজনই একরকম লকডাউন পরিস্থিতিতে থাকবেন। ওদিকে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি স্পেনে গত ২৪ ঘন্টায় ৮৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা স্পেনে এখন পর্যন্ত একদিনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর রেকর্ড। যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী ৩০শে মার্চ পর্যন্ত সেখানে মৃত্যু হয়েছে ১,৭৮৯ জনের - যার মধ্যে শেষ ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩৮১ জনের।
জাতিসংঘের মহাসচিবের বক্তব্য: নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে দেওয়া বক্তব্যে গুতেরেস বলেন, ‘নতুন করোনা ভাইরাস সমাজগুলোর মূলে আঘাত করছে, মানুষের জীবন ও জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে। জাতিসংঘ গঠনের থেকে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে এসেছে কোভিড-১৯।’ মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও এর সমাপ্তি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতে ‘অতিস্বত্বর সমন্বিত পদক্ষেপ’ আহ্বান করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। জাতিসংঘের রিপোর্টে ধারণা প্রকাশ করা হয় যে প্রাদুর্ভাবের কারণে সারাবিশ্বে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ চাকরি হারাতে পারে।
বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি: করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ইতালি। মঙ্গলবারে পাওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী আগের ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুর সংখ্যা ৮৩৭ জন। এর আগে সোমবার মারা যায় ৮১২ জন। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১২ হাজার ৪২৮ জন। খবর বিবিসির। বেড়েছে নতুন সংক্রমণের সংখ্যাও, মঙ্গলবার সংক্রমণ হয়েছে ২,১০৭ জনের মধ্যে, যেই সংখ্যাটি আগেরদিন ছিল ১,৬৪৮ জন। তবে আগের সপ্তাহের একই সময়ের তুলনায় কমেছে সংক্রমণের হার। ফ্রান্সের হাসপাতালগুলোতে আগের ২৪ ঘন্টায় নতুন ৪৯৯ জনের মৃত্যু নথিবদ্ধ হয়েছে। এনিয়ে দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩,৫২৩। প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে দৈনিক মৃত্যুর হিসেবে এটিই ছিল ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা। বেলজিয়ামে ১২ বছর বয়সী এক শিশু মারা গেছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে। এটিকে ধারণা করা হচ্ছে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে ইউরোপে সবচেয়ে কম বয়সী কারো মৃত্যু হিসেবে। বেলজিয়ামে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৭০৫ জন। রাশিয়ার আইনপ্রণেতারা কিছু ‘অ্যান্টি-ভাইরাস’ আইন পাস করেছেন, যার মধ্যে কোয়ারেন্টিনের নিয়ম না মানলে সাত বছর পর্যন্ত কারাদ-ের নিয়মও রয়েছে। ভারতে রাজধানী দিল্লিতে হওয়া এক ধর্মীয় জমায়েতে অংশ নেয়া শত শত মানুষকে খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। ঐ জমায়েত থেকে একাধিক কাস্টারের মধ্যে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে। মিয়ানমার করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে যদিও মিয়ানমার দাবি করেছিল যে তাদের দেশে কেউ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত নয়, তবে বিশেষজ্ঞরা সেই দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। মিয়ানমারে বর্তমানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ জন।













প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25258 জন