করোনায় ২৯১ কোটি ডলারের রফতানি আদেশ বাতিল
গার্মেন্ট খাতকে সরকার দিচ্ছে ৫ হাজার কোটি টাকা
Published : Thursday, 2 April, 2020 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট
শতকরা ২ শতাংশ হার সুদে রফতানি খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পকে কোনো আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়নি। এমনকি সরকারের প থেকে পোশাক কারখানা বন্ধে নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি। যাদের কাজ আছে তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে গার্মেন্টস খোলা রাখতে পারেন।  গতকাল বুধবার দুপুরে করোনার কারণে দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারির এই সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে যেমন চ্যালেঞ্জ আছে, তেমনি নতুন করে সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে রফতানি শিল্পের করণীয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’
এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ছুটি দেওয়া হয়েছে বাসায় থাকার জন্য, ঘুরে বেড়ানোর জন্য নয়। এই রোগটা শুধু কিনিক্যাল বা মেডিকেল নয়, এটার একটি বিষয় রয়েছে কমিউনিটি। মানুষ যদি কোঅপারেট না করে, এটা কোনভাবেই সাকসেসফুল করা যাবে না। তাই মানুষের যে দায়িত্ব আছে, তারা যেন তা পালন করে।’ বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সচিবরা, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিতি ছিলেন।




এদিকে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরে ক্রেতারা এখন পর্যন্ত ২৯১ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাকের রফতানি বা ক্রয়াদেশ বাতিল করেছেন। গতকাল বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক। বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, প্রতি মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের ক্রেতারা ক্রয় আদেশ স্থগিত করছে। তবে আমাদের জন্য এটি স্থগিত নয় বাতিল। সব শেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল সকাল ১০টা পর্যন্ত দেশের তৈরি পোশাক খাতের এক হাজার ৬৮টি কারখানার রফতানি আদেশ বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএ-এর সভাপতি বলেন, বর্তমানে তৈরি পোশাক খাত গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। একের পর এক পোশাক কারখানার ক্রয়াদেশ বাতিল হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে এ খাত ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে। তাই কঠিন এ সংকটময় মুহূর্তে বায়ারদের ক্রয় আদেশ স্থগিত না করার আহ্বান জানিয়েন পোশাক মালিকরা। পোশাক কারখার ওয়েবসাইটের দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পোশাক মালিকদের এ নেতা জানান, এখন পর্যন্ত ৯২ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজারটি পোশাক পণ্যের আদেশ বাতিল হয়েছে। যার আর্থিক পরিমাণ ২ দশমকি ৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ২৪ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা, বিনিময় হার ৮৫ টাকা ধরে)। রফতানি আদেশ বাতিল হওয়া এসব কারখানায় ২১ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করেন বলে জানান বিজিএমইএর সভাপতি। দেশের রফতানি খাতের সিংহভাগ তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। তাই এ খাতের নেতিবাচক প্রভাব পুরো রফতানি বাণিজ্যে আঘাত হানে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের আট মাস (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) সময়ে পোশাক রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ২ হাজার ১৮৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলার; যা ল্যমাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম। একই সময়ে রফতানি প্রবৃদ্ধিও কমেছে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এদিকে পোশাক ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে আমেরিকা, ইউরোপ ও কানাডা লকডাউন হয়ে আছে। ফলে প্রত্যেক দেশের ক্রয় আদেশগুলো স্থগিত করে বার্তা পাঠাচ্ছে সেসব দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে করে বড় সংকটের মুখে পোশাক খাত। ঝুঁকিতে পড়বে পুরো রফতানি বাণিজ্য।







প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25255 জন