দ্রুত ব্যবস্থা নইলে বিপদ আসন্ন
বাংলাদেশকে নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন বরিশাল ও খুলনা হাসপাতালে করোনা ইউনিটে ৩ রোগীর মৃত্যু
Published : Monday, 30 March, 2020 at 12:00 AM, Update: 29.03.2020 10:06:22 PM
দিনকাল ডেস্ক
দ্রুত ব্যবস্থা নইলে বিপদ আসন্নঅতি দ্রুত কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া না হলে বাংলাদেশে নভেল করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদান পরিকল্পনা নথিতে এমন আশঙ্কা জোরালোভাবে করা হয়েছে। ঢাকায় জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্র গত শনিবার রাতে জানায়, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর নাগরিক সমাজের বেশ কিছু অংশীদার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ওই পরিকল্পনা নথি  তৈরি করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) বৈশ্বিক নির্দেশনার সঙ্গে সংগতি রেখে  তৈরি করা ওই পরিকল্পনা নথি তৈরির উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে সরকারের সাড়া প্রদানে সহায়তা করতে জাতিসংঘের সংস্থা ও অংশীদারদের কার্যকরভাবে প্রস্তুত করা।
জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্র তার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদান পরিকল্পনা নথি তৈরির কথা বললেও সেখানে বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাবে সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখ করেনি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক স্বীকৃত যে মডেলিং পদ্ধতির দ্বারা এই নথিটি তৈরি করা হয়েছে তাতে দেখানো হয়েছে এই ভাইরাসটির বিস্তাররোধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই মহামারির কতটা বিস্তার ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পরিকল্পনা নথি প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে, পরিকল্পনা নথির শুরুতেই করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা অনুধাবন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এটি এমন একটি প্রাণঘাতী রোগ যা আমাদের সাড়া দেওয়ার গতির চেয়ে বেশি গতিতে সংক্রমিত হয়। ৭৭০ কোটি জনগোষ্ঠীর এই বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারি সংক্রমণের হার উচ্চ ও আন্তর্জাতিকভাবে ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশে ব্যাপক মাত্রায় জনঘনত্ব বিবেচনা করে বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত পন্থা অবলম্বন করে ধারণা করা যায়, প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নেওয়া না হলে মহামারির প্রভাবে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে।
জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্র জানায়, বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিতে অতি দ্রুততার সঙ্গে বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক ‘কোয়ারেন্টাইন’ ও ‘আইসোলেশন’, এই ভাইরাসটির ঝুঁকির ব্যাপারে ব্যাপকভাবে অবহিত করা, সামাজিক দূরত্ব (সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং), সামাজিক সুরক্ষা (সোশ্যাল প্রোটেকশন) এবং বিদ্যালয় ও জনসমাগম হয় এমন স্থানগুলো বন্ধ করে দেওয়া। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া কমানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তার সঙ্গে জাতিসংঘ সম্পূর্ণভাবে একমত ও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্র আরো জানায়, ‘এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য অতি দ্রুত কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আমরা সবাইকে প্রতিরোধমূলক সব ব্যবস্থা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। এর ফলে, সরকার ও জাতিসংঘের সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দেশব্যাপী স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরো জোরদার করার জন্য বেশ কিছুটা সময় পাবে এবং তার ফলে বাংলাদেশ সরকারকে এই মহামারি মোকাবেলা করতে সহযোগিতা করতে পারবে।’ এদিকে বরিশালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এদের একজন পুরুষ ও একজন নারী। তাদের উভয়ের বয়সই ৪৫ বছর। গতকাল রবিবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে পুরুষ রোগী মারা যান। আর শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ১২টার দিকে ওই নারী মারা যান। শেবাচিমের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
শেবাচিমের পরিচালক বলেন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রেফার করার পর শনিবার বিকালে ওই পুরুষ রোগীকে তাদের এখানে ভর্তি করেন। এরপর রোগীকে প্রথমে মেডিসিন ইউনিটে এবং সেখান থেকে গত রাতেই করোনা ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এই রোগীর মৃত্যুর পর বিষয়টি আইইডিসিআরকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুসারে মৃতদেহ সমাহিত করার ব্যবস্থা করা হবে।




ওই ব্যক্তির শ্বশুর জানান, তার জামাই দীর্ঘদিন ধরে অ্যাজমাজনিত শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ‘শনিবার রাত ১২টার দিকে করোনা ওয়ার্ডে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক নারী মারা যান। তার লাশ স্বজনরা নিয়ে গেছে। কারণ তার মৃত্যু হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে হওয়ায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাকে চিকিৎসকরা করোনা ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মারা যান।
তিনি আরও বলেন, এই রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিন বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। এরপর বাড়িতে গিয়ে তিনি জ্বর, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। শনিবার তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। তার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ছিল। রবিবার পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৪ জন চিকিৎসাধীন আছেন। তবে তারা কেউ করোনায় আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। বরিশাল বিভাগে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২৮০০ জন। সেখান থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১৩৪৭ জন। আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন দুজন।

 





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25092 জন