হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন বেগম খালেদা জিয়া
Published : Saturday, 28 March, 2020 at 12:00 AM, Update: 27.03.2020 9:42:12 PM
রফিক মৃধা, দিনকাল
হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন বেগম খালেদা জিয়াবিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক বেগম খালেদা জিয়া ২৫ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন তিনি। গত বুধবার বাসায় ফেরার পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এর পরই বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তাঁর বাসায় যান। সেখানে চিকিৎসকরা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে নিবিড়ভাবে চিকিৎসা প্রদানের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। তাই আগামী ১৪ দিন বেগম খালেদা জিয়া নিজ বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, নিজ বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকবেন তার গৃহকর্মী ফাতেমা। এছাড়া তাঁর জন্য একজন নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়মিত ইনসুলিন দেবেন। এ সময় তারাও কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কোয়ারেন্টাইনের প্রথম দিনটি কেমন কেটেছে, বৃহস্পতিবার তা দেখে এসেছেন চিকিৎসকরা। বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের বাসা ফিরোজার দোতলায় থাকছেন। সেখানে নিকটাত্মীয়দের প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার কে যেতে হলে পাশের আরেকটি কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরা পোশাক পরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সেখানে হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়মাবলি মেনেই চিকিৎসকরা পর্যবেণ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় যাওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন প্রফেসর ডা. এফএফ রহমান, প্রফেসর ডা. রজিবুল ইসলাম, প্রফেসর ডা. আব্দুল কুদ্দুস, প্রফেসর ডা. হাবিবুর রহমান, প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন ও প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
বেরিয়ে এসে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকদের পরামর্শে বেগম খালেদা জিয়া সেলফ কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। তাঁর অবস্থা আগের মতোই। তবে বাসায় নিজস্ব পরিবেশে অবস্থান করার কারণে তাঁর ভেতরে মানসিক স্বস্তি কাজ করছে। এই চিকিৎসক আরও জানান, রোজই আমরা কোয়ারেন্টাইনে-আইসোলেশনের নিয়ম মেনে তাঁকে পর্যবেণ করব। আজ আমরা কিছু ওষুধের ডোজ কমিয়ে-বাড়িয়ে দিয়েছি। কোয়ারেন্টাইনে শেষে ওনার অন্যান্য শারীরিক পরীা-নিরীা করা হবে। চিকিৎসকরা বেগম খালেদা জিয়াকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও জানান জাহিদ হোসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুলশানের বাসাতেই বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হবে। তবে বেগম খালেদা জিয়ার মূল চিকিৎসক থাকেন লন্ডনে। তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করে ঢাকার চিকিৎসকরা শিগগির বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শুরু করবেন। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান লন্ডনে ও ঢাকার চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। পরিবারের সূত্রে জানা যায়, বাসায় ফেরার পর বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ জুবায়দা রহমান ও নাতনী জাইমা রহমানের সঙ্গে কথা বলেন খালেদা জিয়া। এ সময় তিনি কিছুটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের তো ইচ্ছে ছিল উনি মুক্তি পেলে আমরা বিদেশে পাঠাব উন্নত একটা হাসপাতালে। কিন্তু সেটি তো হয়নি। সে জন্য দেশেই যাতে উনি সর্বোচ্চ চিকিৎসা পান, সেটি আমরা নিশ্চিত করতে চাই।
এর আগে বুধবার বিকালে কারামুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় ফিরলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছাড়া পাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর ভিড় আর স্লোগানের মধ্যে বাসায় পৌঁছেন তিনি।




জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার বলেন, ম্যাডাম আপাতত কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। এ সময়  তিনি কারো সঙ্গে সাাৎ করবেন না। সুস্থ হলে দলের সকল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাাৎ করবেন। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। এদিকে বুধবার বেগম খালেদা জিয়া নিজ বাসায় ফেরার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরা ওই বাসায় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ৭৯ নম্বর সড়কের ওই বাসা থেকে বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে মামলায় হাজিরা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ওই দিনই সেই আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দন্ড দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। দুর্নীতির দায়ে ২ বছর ১ মাস ১৭ দিন সাজা ভোগের পর ‘মানবিক বিবেচনায়’ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেে ৬ মাসের জন্য মুক্তি পেলেন বেগম খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ১৭ বছরের কারাদন্ড নিয়ে কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে তাঁকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত বুধবার বিকাল সোয়া ৪টায় হাসপাতাল থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা হন খালেদা জিয়া। সোয়া ৫টায় বাসায় পৌঁছেন তিনি।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25110 জন