চট্টগ্রামে ১৫ জনসহ সারাদেশে ২৪ ঘন্টায় সড়কে নিহত ২০
Published : Monday, 23 March, 2020 at 12:00 AM, Update: 22.03.2020 10:51:30 PM
দিনকাল রিপোর্ট
সড়কে নৈরাজ্য থামাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনের বাস্তবায়ন নেই। ফলে  আশংকাজনক হারে বেড়ে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মরছে, আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণও করছে অনেকে। গত শনিবার রাত হতে গতকাল রবিবার রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায়  চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ট্রাক-লেগুনা মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ জন, নওগাঁর মহাদেবপুরে এক  মোটর সাইকেল আরোহী, নীলফামারীতে কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন ও ফরিদপুরে ২ জন নিহত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম ব্যুরো, দিনকাল  জানান, লবণ বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী লেগুনার সংঘর্ষে  ১৫ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য তথা চুনতি বন রেঞ্জ কার্যালয়ের নিকটস্থ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।এতে আহত হয়েছেন আরো ৭ জন। ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান ১৫ জন যাত্রী। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরো একজন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন যাত্রী। তাদেরকে প্রথমে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবী হোছাইনসহ (৪০) দুজন মারা গেছেন। আহত সাইফুল (৩৫) ২৮ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মো. আমির। হতাহতরা সবাই লেগুনার যাত্রী। এর মধ্যে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক কাইছার হামিদের দুই ভাইও রয়েছেন। তারা হলেন চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের কোরবানিয়া ঘোনার আব্বাস উদ্দিনের পুত্র জসীম উদ্দিন (৩৩) ও তাওরাফ হোসেন বেলাল (১৮)। সাংবাদিক জাহেদ আরো জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের সবাই পুরুষ। এর মধ্যে দুজন বৃদ্ধ রয়েছেন। নিহত অন্যরা হলেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীর কালামিয়ার ছেলে মোহাম্মদ বাদশা (৩৮), চকরিয়ার উত্তর হারবাংয়ের মৃত আমির হোছেনের পুত্র আবদুস সালাম (৭০), লোহাগাড়ার চুনতি মীরখিলের আবদুর রশিদের পুত্র সিরাজুল ইসলাম (৪০), বড়হাতিয়ার কুমিরাঘোনার আবদুল মাবুদের পুত্র মোহাম্মদ রুবেল (২০), লোহারদিঘির জাফর আহমদের পুত্র জহির উদ্দিন (২৮), উত্তর কলাউজানের আবুল হোছনের পুত্র মোহাম্মদ এনাম (৪৪), অজ্ঞাত আবদুর রশিদ (৫০), লেগুনা চালক চকরিয়ার মৃত ছৈয়দ আহমদের পুত্র ফরহাদ উদ্দিন (১৮) ও হেলপার খুটাখালী গর্জনীয়া পাহাড় এলাকার নূর মোহাম্মদের পুত্র মোহাম্মদ সুমন (১৫)। এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্র্রেরণ করা তিনজনের মধ্যে আরো দুজন চমেক হাসপাতালে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি মো. ইয়াছির আরাফাত। আহত অপরজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লোহাগাড়া থেকে যাত্রীবোঝাই করে চকরিয়া যাচ্ছিল লেগুনা পরিবহনের গাড়িটি। লেগুনাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ছারপোকা। ওই গাড়িতে যাত্রী ছিল অন্তত ১৭ জন। যাত্রীবোঝাই লেগুনা মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া ঢালার কাছে পৌঁছতেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের মধ্যে পড়ে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা লবণবোঝাই ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৩৯৪৮) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ১২ যাত্রী। লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পর গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এর মধ্যে একজন পথে মারা যায়। বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদেরকে প্রেরণ করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। লোহাগাড়া থানার ওসি জাকির হোসাইন মাহমুদ বলেন, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ১২ জন এবং অপর একজন হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পরপরই থানা, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। এরপর আহতদের প্রেরণ করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।এ ব্যাপারে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি মো. ইয়াছির আরাফাত জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কের বাঁকের কারণে। দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কের দুই পাশে আহত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। পরে দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ির ভেতর থেকে হতাহতদের একে একে বের করে আনা হয়। এরপর ক্রেন দিয়ে গাড়ি দুটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তিনি আরো জানান, কক্সবাজার ছেড়ে আসা লবণবোঝাই ট্রাকের চালক দুর্ঘটনার পর পরই পালিয়ে যায়। জব্দ করা হয় ট্রাক ও লেগুনা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নওগাঁ : মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, নওগাঁয় মহাদেবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সুমন রানা (২৭) নামে এক মোটর সাইকেল আরোহী ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আরোহীর ফুফাত ভাই পুলিশ কনেষ্টবল পারভেজ (২৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার ভোর ৫টারদিকে মহাদেবপুর উপজেলার নওগাঁ টু রাজশাহী মহাসড়কের রানীপুকুর বাজার নামক স্থানে ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে মটরসাইকেল আরোহী সুমন রানা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। গুরুতর আহত পুলিশ কনেষ্টবল পারভেজকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত সুমন রানা নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের আব্দুল গফুরের পুত্র। আহত পারভেজ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম জুয়েল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,  আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।




নীলফামারী : নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, নীলফামারীর ডোমারে কাভার্ড ভ্যানের সাথে রিক্সাভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভ্যান চালকসহ দু’জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন সোনারায় ইউনিয়নের জামিরবাড়ী চাকধাপাড়া গ্রামের মৃত অফির উদ্দিনের ছেলে ভ্যানচালক সাইফুল রহমান(৪০) ও হরিনচড়া ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের মৃত রফিজ উদ্দিনের ছেলে ভ্যানযাত্রী আজিজার রহমান(৬৫)। শনিবার রাত  নয়টার দিকে ডোমার উপজেলার হরিনচড়া ইউনিয়নের ডোমার-নীলফামারী সড়কের কালিতলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা জানান, দু’জন যাত্রী নিয়ে ব্যাটারী চালিত একটি রিক্সাভ্যান ধরনীগঞ্জ বাজার থেকে লীলাহাটীর দিকে যাওয়ার সময় কালিতলা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা ডোমার গামী করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ডভ্যানের (চট্ট মেট্রো-শ-১১-০৪৯২)মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অপর ভ্যানযাত্রী আব্দুল হাকিম(৫২)কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডোমার থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান সড়ক র্দুঘটনায় দু’জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে।
ফরিদপুর : ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান,  ফরিদপুরের নগরকান্দায় ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে পড়ে নসিমন চালক নিহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কোদালীয়া শহীদ নগর ইউনিয়নের আটকাহনীয়া এলাকায় নগরকান্দা-পুরাপাড়া আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নসিমন চালকের নাম আলী মুন্সী (২৫)। তিনি নগরকান্দা পৌরসভার চৌমুখা মহল্যার মজিবর মুন্সীর ছেলে।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আলী মুন্সী নসিমন চালিয়ে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। ওই সময় নগরকান্দা থেকে পুরাপাড়াগামী একটি ট্রাক সামনের দিক থেকে নসিমনকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে নসিমন চালক আলী মুন্সী ছিটকে সড়কের উপর পড়ে গুরুতর আহত হন।   নগরকান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিরাজ হোসেন জানান, এলাকাবাসী আহত আলী মুন্সীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালিয়ে যায়।  অপরদিকে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় শনিবার রাত সাড়ে ৭টার সময় ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের পুখুরিয়া নামক স্থানে মোটরসাইকেল চালক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে মারা গেছেন। নিহত মোটরসাইকেল চালকের নাম কামাল সর্দার (৩০) তার বাড়ি ভাঙ্গা উপজেলার নুরুল্যাগঞ্জ ইউনিয়নের আকনবাড়িয়া গ্রামে। নিহত কামাল ভাঙ্গা পৌর সদরের হোগলাডাঙ্গি গ্রামে নিজের একটি ওয়ার্কসপ এর দোকান পরিচালনা করত। দোকান বন্ধ করে প্রতিদিনের মতো মোটরসাইকেলে করে বাড়ী ফিরছিল। তার মোটরসাইকেলটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে ট্রাকের পিছনে ধাক্কা লেগে রাস্তায় ছিটকে পড়ে। এসময় কামাল গুরুতর আহত হয়। সাথে সাথে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

করোনা প্রতিরোধে গণপরিবহনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25138 জন