নির্বাচন ও ফলাফল প্রত্যাখ্যান বিএনপির : নৌকাকে বিজয়ী ঘোষণা
ভোটারশূন্য কেন্দ্রও আ’লীগের দখলে ভোটের সর্বনিম্ন উপস্থিতির রেকর্ড
Published : Sunday, 22 March, 2020 at 12:00 AM, Update: 21.03.2020 11:25:21 PM
দিনকাল রিপোর্ট
ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে ভোটের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রবিউল
আলম রবি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, দখল ও কেস্ত্রে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণে মানুষ ভোট বিমুখ হয়েছে। যে নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারলো না সে নির্বাচনে আমার দল বিএনপি এবং আমি বর্জন করছি। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। গতকাল শনিবার ভোটগ্রহণ শেষে রাজধানীর বাংলামোটরের প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। ভোটাধিকার রক্ষায় জনগণের উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলনে রবি বলেন, আপনাদের ভোটাধিকার রক্ষায় বিএনপি আন্দোলন করছে। সে দলের প্রার্থী হিসেবে আমিও সংগ্রাম করছি। আপনারা বিএনপির সঙ্গে থাকুন।
নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। আপনি যদি এ নির্বাচনে বিজয়ী হন তবে ফলাফল মেনে নেবেন কি? এমন প্রশ্নে রবিউল আলম বলেন, যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারলো না সেখানে আমাকে বিজয়ী করা হবে এটা একটা নাটক। জনগণ যেখানে ভোট দেয়ার সুযোগ পায়নি আমি সে ফলাফলও প্রত্যাখ্যান করবো। আর বিএনপি আন্দোলন-কর্মসূচির মধ্যেই রয়েছে। আমরা ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই করছি। জনগণ যাতে কেন্দ্রে এসে ভোট দেয় সে বিষয়ে তাদেরও সচেতন করার চেষ্টা করছি। নির্বাচনে ৩৬টি কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো ঘুরেছি। কোনো কোনো কেন্দ্রে ১০ থেকে ১৩ ভোট কাস্টিং হতে দেখেছি। ভোটার উপস্থিতি ছিল ভয়ঙ্কর রকমের খারাপ। অনেক কেন্দ্রে দেখেছি ৫ জন করে নৌকার এজেন্ট। কিন্তু ওই কেন্দ্রে কোনো ভোট পড়েনি। তাদের সবাইকে বাইরে থেকে এনে এজেন্ট দেয়া হয়েছে বলেও এ সময় অভিযোগ করেন তিনি।
আ.লীগের দখলে কেন্দ্র ভোটের সর্বনিম্ন হারে রেকর্ড : করোনা মহামারিতে থমকে গেছে বিশ্ব। বাংলাদেশেও ভয়াবহ রকমের আতঙ্ক। এ অবস্থায় গতকাল শনিবার শেষ হলো ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন। এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিলো একেবারে হাতে গোনা। তারপরও প্রতিটি কেন্দ্র ছিলো সরকার দলীয় সংগঠন আওয়ামী লীগের দখলে। দলটির নেতার্কর্মীরা এদিন সকাল থেকে প্রতিটি কেন্দ্র দখলে নেয়। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্র থেকে তারা বিরোধী দল বিএনপির এজেন্ট বের করে দেয়। কোথাও কোথাও পুলিশের সহায়তায় তারা প্রতিপক্ষের ওপর হামলাও চালায়। সবশেষ পাওয়া পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কাস্টিং ভোটের হারও ছিল এ যাবতকালের মধ্যে সর্বনিম্ন।
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম বলেন, আওয়ামী লীগ সকাল থেকেই কেন্দ্র দখল করে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে সেটি জেনেই ভোটাররা কেন্দ্রে আসেনি। ফলাফল হয়তো কমিশন নিজের মতোই ঘোষণা করবে। তবে জনমতের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, এ নির্বাচন নিয়ে ভালো মন্দ বলার কিছু নেই। নির্বাচন ব্যবস্থাটাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সকালের দিকে এক শতাংশেরও কম ছিল। বিকেলের দিকে সেটি আড়াইয়ের মত হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সেটি কত করা হয় সেটি কমিশনের হাতে। নির্বাচনে করোনার প্রভাব বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম আরো বলেন, রাস্তা-ঘাটে প্রচুর মানুষ। কিন্তু তারা ভোট কেস্ত্রে আসছে না। করোনার প্রভাব থাকলেতো তারা বাসার বাইরে আসতো না।  মানুষের কেন্দ্রে না আসাটা ভোট ব্যবস্থাপনা যে ভেঙ্গে পড়েছে তারই প্রতিফলন।  একে ভোটার দুর্ভিক্ষ বলেও মন্তব্য করেন ধানের শীষের এ প্রার্থী।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনি কি জনগণের কথা শুনতে চান? একটা নির্বাচনইতো করতে চেয়েছি। আমার এজেন্টরা ভোট কেন্দ্রে গিয়েছে। ভোট ব্যবস্থাপনাকে সহযোগিতা করতে। তাদের মারপিট করে বের করে দিয়েছে। এ সময় পুলিশের হাতে আটক  ৭ জন এজেন্টকে নির্বাচনের পরে ছেড়ে দেয়া হবে বলেও জানান ধানের শীষের এ প্রার্থী। গতকাল  শনিবার সকাল ৯টা থেকে আসনের ১১৭টি কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। করোনা ভাইরাসের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ছিলো। তবে সকালের দিকে কোনো কেন্দ্রেই ভোটারের তেমন উপস্থিতি চোখে পড়েনি। এমনকি দেড়-দুই ঘণ্টায়ও কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট পড়েনি একটিও। তবে কেন্দ্রের বাইরে বিপুল সংখ্যক লোকের ভিড় দেখা গেছে। যাদের বেশির ভাগই সরকার দলীয় সমর্থক। নির্বাচনের প্রথম ঘণ্টায়ই চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আনেন বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম।
তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রগুলো থেকে তার ৮৫০ এজেন্টকেই বের করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৭ এজেন্টসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলায় একজন এজেন্টসহ অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয় বিএনপির পক্ষ থেকে।




হাজারীবাগ থানা বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান মজু জানান, সকাল নয়টায় হাজারীবাগ থানা যুবদলের সভাপতি লিটন এবং যুবদল নেতা সেলিমকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া ধানমন্ডির ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের  মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তাদের বের করে দেয়া হয়। কাছাকাছি সময় কাঠালবাগান খান হাসান স্কুল, নিউমার্কেট বলাকা সিনেমা হল কেন্দ্র, রায়ের বাজার হাই স্কুল কেন্দ্র রাজ মুশুরি স্কুল, প্রগতি স্কুল কেন্দ্র থেকে বিএনপির সকল এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। বেলা ১১টার দিকে ধানমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে মোবাইল-কাগজপত্র রেখে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এর আগে সকাল ১০টার দিকে  ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে  ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের হামলায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়। বিকেল সাড়ে চারটায় মনেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার সায়েদ আব্দুল্লাহ জানান, তার কেন্দ্রে ২৫৯৮ ভোটের মধ্যে ১৮৩টি কাস্ট হয়েছে। এছাড়া সারাদিন ওই কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখান বলে তিনি শুনেছেন। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে নিউ মার্কেট বলাকা সিনেমা হল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে প্রায় সবগুলো বুথই ফাঁকা। কোনো ভোটার নেই। ছয়টি বুথে কোনো ভোটই পড়েনি। তবে কেন্দ্রের সামনে নৌকার সমর্থকদের উপস্থিতি ছিলো বেশ লক্ষ্যনীয়।  
এদিকে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সরব দেখা গেছে ধানের শীষের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ইশরাক হোসেনকে। নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে কেন্দ্রে যান তিনি। পুলিশ ভ্যান থেকে আটক হওয়া কর্মীকে ছাড়িয়ে আনতেও তাকে তৎপর দেখা গেছে।






প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

করোনা মোকাবিলায় দলমত নির্বিশেষে সকলকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। আপনি কি সমর্থন করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25165 জন